পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী: যাদের বুদ্ধিমত্তা মানুষকেও অবাক করে!

 

পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী: যাদের বুদ্ধিমত্তা মানুষকেও অবাক করে!

পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী: যাদের বুদ্ধিমত্তা মানুষকেও অবাক করে!

বন্ধুরা, আজকাল আমাদের কাছে একটা ধারণা খুবই স্পষ্ট। আর সেটা হলো, মানুষের মতো স্বার্থপর প্রাণী পৃথিবীতে আর একটাও নেই। সত্যিই মানুষ খুবই স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজের স্বার্থে গাছ কাটা থেকে শুরু করে কলকারখানার বিষাক্ত গ্যাস পরিশুদ্ধ না করেই বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দিচ্ছে, যার ফলে কষ্ট পাচ্ছে আমাদের এই প্রকৃতি মাতা। যে পৃথিবী আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে, লালন-পালন করেছে, তাকেই মারতে বসেছি আমরা।

কিন্তু এই পৃথিবীতে এখনো কিছু প্রাণী আছে যাদের অভাবনীয় চিন্তাভাবনা এবং বুদ্ধিমত্তা দেখলে আমরা নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। কারণ এইসব প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা, শিকারের পদ্ধতি এবং স্মৃতিশক্তি পৃথিবীর অন্যান্য লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণীদের থেকে তাদেরকে আলাদা করেছে। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পৃথিবী থেকে বুদ্ধিমান কিছু প্রাণীদের তালিকা তৈরি করেছে। আর আজকে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে আমি আপনাদের পৃথিবীর সেই সকল বুদ্ধিমান প্রাণীদেরকে দেখাতে চলেছি, যাদেরকে দেখলে আপনার হয়তো এটা মনে হবে যে, এরা হয়তো মানুষের থেকেও বেশি বুদ্ধিমান। তবে চলুন, বেশি দেরি না করে আজকের এই ভিডিওটিকে শুরু করা যাক!

১. কাক (Crow): বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্লেষণের প্রতীক

যদিও কাককে মানুষ অশুভ সংকেত বলে মনে করে থাকে, কিন্তু আসল সত্যটা হলো কাক একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। এদের ইন্টেলিজেন্স লেভেল এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতা অনেকটাই বেশি। অনেক গবেষক যারা কাককে নিয়ে রিসার্চ করতে গিয়ে কাকের অস্বাভাবিক কাণ্ড দেখেই অবাক হয়ে গিয়েছেন।

আপনি এটা জানলে অবাক হবেন, কাক ট্রাফিক সিগন্যালের অর্থ (সবুজ এবং লাল) বুঝতে পারে। কাক গাছ থেকে ফল পেড়ে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং অপেক্ষা করতে থাকে চাকার দ্বারা সেটা পিষ্ট হওয়ার জন্য। আর গাড়ি যখন চলে যায়, তখন ভেঙে যাওয়া ফল কাক খেতে শুরু করে। বুঝতেই পারছেন, এগুলো করতে কোনো প্রাণীকে কতটা বুদ্ধিমান হতে হয়! এমনকি কাক মাংসের টুকরো পাওয়ার জন্য নিজের ঠোঁট এবং পায়ের সাহায্যে তারকে বাঁকিয়ে হুক বানিয়ে ফেলে, আর সেই টুল দিয়ে সে তার খাদ্য নিজের কাছে নিয়ে চলে আসে।

২. শিম্পাঞ্জি (Chimpanzee): মানুষের নিকটতম বুদ্ধিমান আত্মীয়

স্মার্ট প্রাণীদের মধ্যে শিম্পাঞ্জির নাম প্রথমেই রাখতে হয়। কারণ এরা দেখতেও অনেকটা মানুষের মতোই। তাহলে এটা বুঝতেই পারছেন, এদের চিন্তাভাবনাটা মানুষের মতন হওয়াটা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। এদের মধ্যে 'গ্রেট লিডার কোয়ালিটি' রয়েছে। এমনকি মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিরাও পর্যবেক্ষণ (Observation) করতে পারে। এরা ২৬ ধরনের পদার্থ বিভিন্নভাবে নিজের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে। পাথর, হাতুড়ি, লাঠি – এই সবকিছুই এরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। এরা গুহামানবদের মতনই যেকোনো কিছু দিয়েই নিজেদের দাঁত ধারালো করে নিতে পারে। এরা নিজেদের খাবারের যোগানের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো কিছু দিয়ে ইঙ্গিত করে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম, যেটা আপনারা ভিডিওর মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন।

৩. ওরাং ওটাং (Orangutan): সামাজিক ও সমস্যা সমাধানকারী

ওরাং ওটাং হলো শিম্পাঞ্জি, বানর এবং মানুষের পরে সবথেকে বেশি বুদ্ধিমান নন-হিউম্যান অ্যানিমেল। ওরাং ওটাং একে অপরের সাথে খুবই মজবুত সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। এরা ঠিক মানুষের মতন করেই পারিবারিকভাবে থাকতে বেশি পছন্দ করে। মা ওরাং ওটাং তার বাচ্চার সঙ্গে বেশ কয়েক বছর থাকে, তাদের সেবা যত্ন করে বড় করে তোলে।

আপনি এটা জানলে অবাক হবেন যে, ওরাং ওটাং বৃষ্টির জল থেকে নিজেকে রক্ষা করবার জন্য ছাতার মতন করে গাছের পাতাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। ওরাং ওটাং-এর আরেকটি বিশেষ গুণ হলো, এরা প্রায় ২০০ রকমের খাবারের ঘ্রাণ এবং টেস্ট আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। তার সঙ্গে সঙ্গে আয়নায় নিজের চেহারাকেও খুব ভালোভাবে চিনতে পারে, এটা বেশিরভাগ প্রাণীরাই পারে না। এছাড়াও এদের কাছে রয়েছে 'প্রবলেম সলভিং' ক্ষমতা। এরা জীবন এবং জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সমস্যার সমাধান খুব সহজেই নিজেরাই বের করে ফেলতে পারে। যেমন এই ছবিতেই দেখা যাচ্ছে, কিভাবে এই ওরাং ওটাং একটি গাছের ডাল ধরে ঝুলে থেকে লাঠির ব্যবহার করে নদী থেকে মাছ শিকার করছে।

৪. ডলফিন (Dolphin): সমুদ্রের দ্বিতীয় বুদ্ধিমান প্রাণী

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, মানুষের পরে দ্বিতীয় স্মার্ট মেরিন অ্যানিমেল হলো ডলফিন। এরা নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজ নিজেরাই করতে পারে। বিজ্ঞানীরা ডলফিনকে বুদ্ধিমান প্রাণী বলে থাকেন। মানুষের অস্তিত্বের আগে থেকেই পৃথিবীতে ডলফিনের অস্তিত্ব ছিল। ডলফিন সবসময় নিজের পরিবারকে আগলে রাখে এবং নিজের জীবনের পুরোটা সময় বাচ্চাদের সঙ্গেই কাটায় এবং বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন রকমের কৌশল শেখাতে থাকে।

ডলফিন অনেক সামাজিক একটি প্রাণী। এরা যেকোনো আবেগ (Emotion) বুঝতে পারে এবং সেটা অপরকে বোঝাতেও পারে। ডলফিন নিজের বাচ্চাদেরকে ছোটবেলা থেকে শিকার করতে শেখায়। এই জন্য ডলফিন স্পঞ্জ ব্যবহার করে তাদের বাচ্চাকে প্র্যাকটিস করায়, কারণ স্পঞ্জের পরিবর্তে পাথর ব্যবহার করলে তাদের বাচ্চাদের মুখে আঘাত লাগতে পারে। তাই ডলফিন তার বাচ্চাদেরকে স্পঞ্জ দিয়ে শিকার করা শেখায়। ডলফিন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করতে সবসময় খুবই আগ্রহী। এইসব প্রাণীরা নির্দিষ্ট একটি সময়ে আলাদা হয়ে যায়, কিন্তু যখন এরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন সকলে একত্রে মিলে সেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে। মানুষের মতো ডলফিনের ব্রেনেও 'কর্টেক্স' (Cortex) রয়েছে, যেটা তাদের বুদ্ধিমত্তার অন্যতম একটি প্রমাণ।

৫. হাতি (Elephant): শক্তিশালী স্মৃতি ও গভীর আবেগ

হাতির ব্রেনের ওজন ৫ কিলোগ্রামের কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। যদিও স্থলভাগে বসবাস করা সমস্ত প্রাণীর থেকে হাতির ব্রেনের ওজন সব থেকে বেশি, কিন্তু নিজের শরীরের ওজনের সঙ্গে তুলনা করলে হাতির ব্রেনের সাইজ খুবই কম। যেমন শিম্পাঞ্জির ব্রেনের ওজন তার শরীরের তুলনায় প্রায় ০.৮ শতাংশ, আর মানুষের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ। কিন্তু হাতির ক্ষেত্রে এটা কেবলমাত্র ০.২ শতাংশ। হয়তো আপনারা এটা ভাবছেন, তাহলে হাতি খুবই বোকা একটি প্রাণী? কিন্তু না, তারা কোনোভাবেই বোকা নয়। আর এর সব থেকে বড় প্রমাণ হলো সার্কাস।

মানুষের সঙ্গে হাতির রয়েছে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক। বলতে গেলে, হাতির অন্যতম আর একটি গুণ হলো আবেগ (Emotion)। এরা নিজেদের দলের বাকি কোনো সদস্য বা অন্য কোনো প্রজাতির প্রাণীদেরও সমবেদনা দেখিয়ে থাকে। তার সঙ্গে সঙ্গে এরা খুবই যত্নশীল (Caring) একটি প্রাণী। এদের ইকিউ লেভেল (EQ Level) মানে ইমোশনাল কোশেন্ট অনেকটাই বেশি। হাতি নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর মানুষের মতোই কষ্ট পায়। হাতি প্রতিনিয়ত সেই জায়গায় যেতে থাকে, যেখানে তার পরিবারের সদস্য শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিল। কোনো মা হাতি যদি হারিয়ে যায়, তবে সেই হাতির বাচ্চাগুলোকে দলের অন্যান্য সদস্যরা দেখাশোনা করে থাকে। এরা আনন্দের স্মৃতি এবং দুঃখের স্মৃতিও খুব ভালোভাবে মনে রাখে। যেমন, অনেক বছর হলেও সুযোগ পেলে নিজের সাথে করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে এরা ভুলে যায় না।

৬. কাঠবিড়ালি (Squirrel): ছোট মস্তিষ্কে অসাধারণ স্মৃতিশক্তি

যদিও কাঠবিড়ালির ব্রেনের আকার মটরের দানার মতো হয়, কিন্তু গবেষকরা এটা জানায় যে, কাঠবিড়ালির ব্রেনের আকৃতি ছোট হলেও এদের শরীর পারফেক্টলি প্লেস হওয়ার কারণে এরা অনেক বুদ্ধিমান একটি প্রাণী। এদের কাছে খুবই ভালো স্মৃতিশক্তি এবং এক্সট্রাঅর্ডিনারি ইন্টেলিজেন্স শক্তি রয়েছে, যার ফলে এরা যেকোনো কিছুকে খুব ভালোভাবে অ্যানালাইজ করতে পারে।

যেমন, এরা শীতকালে বাদাম সংগ্রহ করে রাখে। এরা সেই সময় প্রায় ৩০০০-এর মতো বাদাম বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখে, যাতে অফ-সিজনে সেগুলো খেয়ে নিজেদের জীবন চালাতে পারে। আর এরা সেইসব বাদাম বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখে, যদিও এটা করতে তাদের অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় এবং কঠোর পরিশ্রমও করতে হয়। কিন্তু অবাক করার বিষয় এটাই যে, অনেকদিন পর হলেও সেই সমস্ত জায়গাগুলোকে তারা ঠিক খুঁজে বার করতে পারে, যেখানে তারা বাদামগুলো লুকিয়ে রেখেছিল। কাঠবিড়ালি যদি কোনো জায়গায় দু'মাস নাও যায়, তাহলেও সেই জায়গাটিকে তারা খুব সহজেই চিনতে পারে। মজার বিষয় হলো, কাঠবিড়ালি যদি কোনোভাবে বুঝতে পারে তার খাবার লুকানো কেউ দেখে ফেলেছে, তাহলে কাঠবিড়ালি তখন সেখানে খাবার লুকানোর অভিনয় করে থাকে, কিন্তু পরে সময় বুঝে খাবারগুলোকে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলে এবং অন্য জায়গায় লুকিয়ে ফেলে।

উপসংহার

তো বন্ধুরা, আজকের ভিডিওটি এইটুকুই। যদি ভালো লেগে থাকে, তবে আপনাদের কী করার প্রয়োজনীয়তা আছে, আপনারা জানেন। পাশাপাশি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে। পাশাপাশি আমাদের নতুন মুভি এক্সপ্লেনেশনের চ্যানেল খোলা হয়েছে, সেখানে চলে যাবেন। লিঙ্ক ভিডিও ডেসক্রিপশনে সবার প্রথমে রয়েছে। চ্যানেলটির নাম 'বং মুভি ডায়েরি'।

কীওয়ার্ডস: বুদ্ধিমান প্রাণী, প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা, কাকের বুদ্ধি, শিম্পাঞ্জির বুদ্ধিমত্তা, ওরাং ওটাং, ডলফিনের বুদ্ধিমত্তা, হাতির স্মৃতিশক্তি, কাঠবিড়ালির বুদ্ধি, প্রাণীদের আচরণ, প্রাণী জগৎ, অদ্ভুত প্রাণী, অজানা তথ্য, শিক্ষামূলক ভিডিও, প্রাণী গবেষণা, বন্যপ্রাণী।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال