জৈনধর্ম হল ভারতের প্রাচীনতম ধর্মগুলির মধ্যে একটি, যা তার অহিংসা, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতার দর্শনের জন্য পরিচিত। এই ব্লগ পোস্টে, আমরা জৈন দর্শনের মূল নীতিগুলি, এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং এর সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করব।
জৈন-দর্শন: আত্ম-অনুসন্ধান ও অহিংসার এক প্রাচীন পথ
জৈনধর্ম (The Jaina Philosophy) ভারতের অন্যতম প্রাচীন অসনাতন নাস্তিক্য ধর্মদর্শন। 'জিন' শব্দ থেকে 'জৈন' শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ 'বিজয়ী'। যিনি ষড়রিপুকে (কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য) জয় করেছেন, তিনিই 'জিন'। জৈনদের মতে, কঠোর সাধনার মাধ্যমে রাগ, দ্বেষ, কামনা-বাসনাকে জয় করে যাঁরা মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করেছেন, তাঁরাই 'জিন'। জৈন ঐতিহ্যে এমন চব্বিশজন মুক্ত পুরুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের তীর্থঙ্কর বলা হয়। এই পরম্পরায় সর্বপ্রথম তীর্থঙ্কর হলেন ঋষভদেব (আদিনাথ) এবং সর্বশেষ হলেন বর্ধমান বা মহাবীর।
জৈন দর্শনের মূল ভিত্তি
জৈন দর্শনের মূল কথা হলো, সাধারণ অভিজ্ঞতায় আমরা জগৎকে যেভাবে জানি, সেটাই সত্য ও যথার্থ। জগতে বস্তুর অস্তিত্ব আছে, তাই কোনো এক বা অদ্বিতীয় পরম সত্তার কল্পনা করা নিরর্থক। এই বস্তুসমূহ প্রধানত দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত: জীব এবং অজীব। জৈন ধর্ম অনুসারে, দেহ যেমনই হোক না কেন, প্রতিটি জীবন্ত বস্তুর মধ্যেই জীব বা আত্মা বিদ্যমান। এই আত্মা অবিনাশী, কিন্তু ঈশ্বরের সৃষ্ট নয়। জৈন ধর্মের অপরিহার্য মূলনীতি হলো জীবন্ত প্রাণী হত্যা না করা এবং সমস্ত জীবের প্রতি ঐকান্তিক অহিংসা।
জৈন দর্শনের উত্থানভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রাচীন ভারতে বৈদিক ধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যবাদী কর্মকাণ্ডের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি জৈন ধর্মেরও উত্থান ঘটে। কালানুক্রমিকভাবে জৈন দর্শন বৌদ্ধ দর্শন থেকেও প্রাচীন বলে মনে করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মের পূর্ববর্তী এই ধর্ম সাংখ্য দর্শন ও উপনিষদ ভাবনার সাথে কিছু সাদৃশ্য বহন করে। তবে চার্বাকদের মতো জৈনরাও বেদের প্রামাণ্য ও ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, কিন্তু ভূতচতুষ্টয় থেকে অতিরিক্ত জীবাত্মা স্বীকার করেন। অধ্যাপক হপকিন্সের মতে, ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যবর্তী তাত্ত্বিক সোপানরূপে জৈন দর্শনের অবস্থান।
বেদ ও উপনিষদে বর্ণিত কিছু সিদ্ধান্তের সাথে জৈনমতের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন পুনর্জন্মবাদ ও কর্মফল-এ বিশ্বাস। জৈন মতে, কৃতকর্মের ফল অনুযায়ী জীবের জন্ম হয় এবং জন্মান্তরে আত্মা ইতর প্রাণী, মানুষ, দেবতা বা দৈত্যের দেহ ধারণ করতে পারে। কঠিন তপশ্চর্যা, সর্বত্যাগ ও আত্মপীড়ন-এর মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা যায়। সিদ্ধপুরুষকে 'অর্হৎ' নামে অভিহিত করা হতো বলে জৈন দর্শনকে আর্হত দর্শন-ও বলা হয়।
তীর্থঙ্কর: জৈন ধর্মের পথপ্রদর্শক
জৈন বিশ্বাস মতে, তীর্থঙ্কররা সকল পদার্থের জ্ঞান লাভ করে সকল তত্ত্ব জয় করেছেন, তাই তাঁরা সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, এবং সমুদয় জ্ঞান ও দর্শনকে জানেন। একারণে এই মতকে সর্বজ্ঞাতাবাদীও বলা হয়। জৈন ধর্ম মতে, এই ধর্ম সৃষ্টির প্রারম্ভকাল থেকেই প্রচলিত আছে। প্রতিটি উৎসর্পণকারী (উত্থানকারী) ও অবসর্পণকারী (ভূলোকে আবির্ভূত) চক্রে চব্বিশজন তীর্থঙ্কর আবির্ভূত হন।
চব্বিশজন তীর্থঙ্কর:
ঋষভদেব (আদিনাথ): এই পরম্পরার প্রথম তীর্থঙ্কর, যাকে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর ভারতীয়রা পূজা করত। ভাগবত পুরাণে তাঁকে জৈন দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিষ্ণুর চব্বিশটি অবতারের অন্যতম বলা হয়েছে।
পার্শ্বনাথ (২৩তম তীর্থঙ্কর): খ্রিস্টপূর্ব ৮১৭-৭৪৭ অব্দে তাঁর অস্তিত্বের ঐতিহাসিক সত্যতা দাবি করা হয়। তিনি কাশীরাজ অশ্বসেনের পুত্র ছিলেন এবং কঠোর তপস্যার মাধ্যমে কৈবল্য লাভ করেন। তিনি অহিংসা, সত্য, অস্তেয় (চুরি না করা) ও অপরিগ্রহ (অসক্তি) - এই চারটি মহাব্রত স্বীকার করতেন।
মহাবীর বর্ধমান (২৪তম ও সর্বশেষ তীর্থঙ্কর): ইনি গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক ছিলেন।
জৈনগণ ঈশ্বরে বিশ্বাস না করায় তীর্থঙ্করগণই জৈন দর্শনে ঈশ্বরের স্থলাভিষিক্ত। জৈনরা মনে করেন, তীর্থঙ্করেরা প্রথম জীবনে বদ্ধ জীব থাকলেও নিজের চেষ্টায় পূর্ণ, মুক্ত ও সর্বজ্ঞ হয়েছেন।
বর্ধমান মহাবীর: জৈন ধর্মের প্রধান প্রবর্তক
বর্ধমান মহাবীর (৫৬৯-৪৮৫ খ্রিস্টপূর্ব) জ্ঞাতৃপুত্র ছিলেন এবং গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক। বৈশালীতে লিচ্ছবিদের একটি শাখার জ্ঞাতৃবংশে তাঁর জন্ম। পিতা সিদ্ধার্থ এবং মাতা ত্রিশালা (লিচ্ছবীপ্রধান চেটকের বোন)।
মাতা-পিতার দেহত্যাগের পর আঠাশ বা ত্রিশ বছর বয়সে বর্ধমান গৃহত্যাগ করে আধ্যাত্মিক চর্চা শুরু করেন। প্রথমে তিনি পার্শ্বনাথের প্রবর্তিত নির্গ্রন্থ তপস্বী সংঘের যতিধর্ম গ্রহণ করেন। বারো বছর কৃচ্ছ্রসাধনের পর তিনি কেবলপদ অর্থাৎ সর্বজ্ঞতা লাভ করেন। এই বারো বছর তিনি ভিক্ষা গ্রহণ করে নিদিধ্যাসন ও নানা প্রকার তপশ্চরণের দ্বারা শরীরকে ক্লিষ্ট করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করেন। প্রথম তেরো মাস তিনি একটি কাপড় পরতেন এবং পরে সেটিও পরিত্যাগ করে নগ্নভাবে অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেন।
এই কঠোর তপস্যার ফলস্বরূপ তিনি কেবলী বা সর্বজ্ঞ, জিন বা জিতেন্দ্রিয় এবং মহাবীর নামে খ্যাত হন। এরপর তিনি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে মধ্যপ্রদেশের গাঙ্গেয় সমতলভূমিতে নিজের ধর্মমত ও উপদেশ প্রচার করেন। ৮৪ বছর বয়সে মগধের রাজধানী পাবা নগরীতে তাঁর দেহান্ত হয়।
জৈন ধর্ম প্রসার ও সম্প্রদায়ে বিভেদ
মহাবীরের কঠোর তপস্যা, সংযম ও অহিংসাই ছিল তাঁর মূল শিক্ষা। বৌদ্ধ ত্রিপিটকেও জৈন সাধুদের কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীন জৈনদর্শন মতে, জল, মাটি প্রভৃতি সকল জড়-অজড় উপাদানই আত্মায় পূর্ণ; তাই সকল প্রকার হিংসা থেকে মানুষকে রক্ষা করা উচিত। এই নীতির কারণে জৈনগণ কৃষিকার্য ছেড়ে দেন, কারণ এতে অসংখ্য জীবের হত্যা ঘটে। ফলস্বরূপ, বণিক সম্প্রদায়ে ধীরে ধীরে জৈন মতাবলম্বীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
জৈনরা বেদ বা ঈশ্বর মানেন না। প্রতিটি জীবই জিনদের পন্থা অনুসরণ করে বন্ধনমুক্ত হতে পারে বলে তাঁদের বিশ্বাস। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে জৈনদের মধ্যে কোনো ভেদ না থাকলেও, পরবর্তীকালে আচারগত ভিন্নতার কারণে জৈন ধর্ম দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়: শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর।
দিগম্বর: এই সম্প্রদায়ের যতি বা সন্ন্যাসীরা বস্ত্র পরিধান করেন না, তাঁরা সর্বদা নগ্ন থাকেন। তাঁদের মতে, তীর্থঙ্করগণ কোনো বস্তু সংগ্রহ করেন না এবং কেবল-জ্ঞানী বলে ভোজন না করেই বাস করেন। স্ত্রীর মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য পুরুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করা আবশ্যক বলেও তাঁরা মনে করেন।
শ্বেতাম্বর: এই সম্প্রদায়ের যতিরা সাদা বস্ত্র পরিধান করেন। তাঁরা মহাবীরের শিষ্যদের মধ্যে স্ত্রী-পুরুষ, গৃহী, ভিক্ষু সকলের অস্তিত্ব স্বীকার করেন এবং শ্বেতবস্ত্র ধারণকে অনিবার্য মনে করেন।
এই দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজ নিজ প্রাচীনত্ব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, তবে মূল ধর্মসূত্র অভিন্ন। ঐতিহাসিক প্রমাণ অনুসারে, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মৌর্যযুগে নিদারুণ দুর্ভিক্ষের সময় জৈন ভিক্ষুদের এক অংশ আচার্য ভদ্রবাহুর নেতৃত্বে দক্ষিণ ভারতে চলে যান, এবং অন্যেরা স্থূলভদ্রের পরিচালনায় মগধে থেকে যান। এই বিভাজনের ফলস্বরূপ শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়।
জৈন সাহিত্য: জ্ঞান ও দর্শনের ভাণ্ডার
জৈন সাহিত্য জ্ঞান ও দর্শনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। জৈনদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে 'সিদ্ধান্ত' বা 'আগম' বলা হয়। প্রথমতম লেখক ছিলেন আচার্য ভদ্রবাহু, যিনি দশাবয়ব ন্যায়ের প্রবর্তক। মহাবীরের সময়কাল থেকে ভদ্রবাহুর সময় পর্যন্ত প্রায় দু'শতক জৈন সাহিত্য শ্রুতি পরম্পরায় প্রচলিত ছিল।
জৈন সাহিত্যের প্রধান ভাগগুলি হল:
আগম সূত্র: এইগুলি জৈন ধর্মের মৌলিক নীতি ও শিক্ষা নিয়ে রচিত। একাদশ অঙ্গসূত্র, বারো উপাঙ্গ, দশ প্রকীর্ণ, ছয় ছেদসূত্র এবং চারটি মূলসূত্র এর অন্তর্ভুক্ত।
দর্শনের গ্রন্থাদি: প্রথম খ্রিস্টাব্দ থেকে জৈন দার্শনিকরা সংস্কৃত ভাষায় গ্রন্থ রচনা শুরু করেন। প্রমাণশাস্ত্র ও তর্কশাস্ত্রে জৈন দর্শনের অবদান অপরিসীম।
উল্লেখযোগ্য জৈন দার্শনিক ও তাঁদের গ্রন্থ:
কুন্দকুন্দাচার্য (৫০ খ্রিস্টপূর্ব): 'নিয়মসার', 'পঞ্চাস্তিকায়সার', 'সময়সার' ও 'প্রবচন'।
উমাস্বাতি বা উমাপতি (০১-৮৫ খ্রিস্টাব্দ): 'তত্ত্বার্থসূত্র' বা 'তত্ত্বার্থাধিগমসূত্র'। ইনি সাতটি তত্ত্ব (জীব, অজীব, আস্রব, বন্ধ, সংবর, নির্জরা ও মোক্ষ) স্বীকার করেন।
সমন্তভদ্র (ষষ্ঠ শতক): 'গন্ধহস্তিমহাভাষ্য' (তত্ত্বার্থাধিগমসূত্রের উপর টীকা), 'আপ্তমীমাংসা', 'যুক্ত্যনুসন্ধান', 'স্বম্ভূস্তোত্র'।
সিদ্ধসেন দিবাকর (৪৮০-৫০০ খ্রিস্টাব্দ): 'ন্যায়াবতার' এবং 'সম্মতিতর্কসূত্র'।
পূজ্যপাদ দেবনন্দী (৫০০ খ্রিস্টাব্দ): 'সর্বার্থসিদ্ধি' (তত্ত্বার্থাধিগমসূত্রের টীকা)।
অকলঙ্কদেব (ষষ্ঠ শতক): 'অষ্টাশতী', 'ন্যায়বিনিশ্চয়'।
বিদ্যানন্দ (অষ্টম শতক): 'আপ্তমীমাংসালঙ্কৃতি' বা 'অষ্টসাহস্রী', 'প্রমাণপরীক্ষা'।
প্রভাচন্দ্র (৮২৫ খ্রিস্টাব্দ): 'প্রমেয়কমলমার্ত্তণ্ড', 'ন্যায়কুমুদচন্দ্রোদয়'।
মানিক্যনন্দী (৭৫০-৮০০ খ্রিস্টাব্দ): 'পরীক্ষামুখসূত্র'।
হেমচন্দ্র সূরি (১০৮৮-১১৭২ খ্রিস্টাব্দ): 'প্রমাণমীমাংসা', 'বীতরাগস্তুতি'।
হরিভদ্র সূরি (দ্বাদশ শতক): 'ষড়্দর্শনসমুচ্চয়', 'যোগবিন্দু', 'ধর্মবিন্দু'।
জৈন দর্শন তার অনন্য তাত্ত্বিক কাঠামো এবং কঠোর নৈতিকতার জন্য ভারতীয় দর্শনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অহিংসার বিশ্বজনীন বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক এবং সমগ্র বিশ্বে শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
জৈন-দর্শন: আত্ম-অনুসন্ধান ও অহিংসার এক প্রাচীন পথ - MCQ প্রশ্নাবলী
আপনার দেওয়া পাঠ্যটি ভালো করে পড়ে আমরা কয়েকটি বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তৈরি করেছি। আশা করি এগুলি আপনার কাজে আসবে:
প্রশ্ন ১: 'জিন' শব্দের অর্থ কী?
ক) সৃষ্টিকর্তা
খ) বিজয়ী
গ) সাধক
ঘ) মুক্তিদাতা
প্রশ্ন ২: জৈন ধর্মমতে মোট কতজন তীর্থঙ্কর ছিলেন?
ক) ২২ জন
খ) ২৩ জন
গ) ২৪ জন
ঘ) ২৫ জন
প্রশ্ন ৩: জৈন পরম্পরায় সর্বপ্রথম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?
ক) মহাবীর বর্ধমান
খ) পার্শ্বনাথ
গ) ঋষভদেব
ঘ) অজিতনাথ
প্রশ্ন ৪: জৈন দর্শন অনুযায়ী, জগতকে প্রধানত কয়টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে?
ক) একটি
খ) দুটি
গ) তিনটি
ঘ) চারটি
প্রশ্ন ৫: গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক জৈন তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?
ক) ঋষভদেব
খ) পার্শ্বনাথ
গ) মহাবীর বর্ধমান
ঘ) নেমিনাথ
প্রশ্ন ৬: জৈন ধর্মের অপরিহার্য মূলনীতি কোনটি?
ক) ঈশ্বরের উপাসনা
খ) যাগ-যজ্ঞ
গ) অহিংসা
ঘ) বর্ণপ্রথা মানা
প্রশ্ন ৭: 'অর্হৎ' নামে কারা অভিহিত হতেন?
ক) বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ
খ) বৈদিক ঋষিগণ
গ) জৈন সিদ্ধপুরুষগণ
ঘ) চার্বাক দার্শনিকগণ
প্রশ্ন ৮: পার্শ্বনাথ কয়টি মহাব্রত স্বীকার করতেন?
ক) তিনটি
খ) চারটি
গ) পাঁচটি
ঘ) ছয়টি
প্রশ্ন ৯: মহাবীর পার্শ্বনাথের প্রবর্তিত মহাব্রতের সাথে অতিরিক্ত কোন মহাব্রত যুক্ত করেন?
ক) অহিংসা
খ) সত্য
গ) ব্রহ্মচর্য
ঘ) অস্তেয়
প্রশ্ন ১০: জৈনদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলিকে কী বলা হয়?
ক) ত্রিপিটক
খ) বেদ
গ) আগম বা সিদ্ধান্ত
ঘ) পুরাণ
প্রশ্ন ১১: জৈন ধর্ম দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত, সেগুলির নাম কী?
ক) হীনযান ও মহাযান
খ) শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর
গ) থেরবাদ ও মহাসাংঘিক
ঘ) বৈষ্ণব ও শৈব
প্রশ্ন ১২: দিগম্বর সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা কেমন বস্ত্র পরিধান করেন?
ক) সাদা বস্ত্র
খ) গেরুয়া বস্ত্র
গ) নীল বস্ত্র
ঘ) কোনো বস্ত্র নয় (নগ্ন থাকেন)
প্রশ্ন ১৩: 'তত্ত্বার্থসূত্র' বা 'তত্ত্বার্থাধিগমসূত্র' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
ক) কুন্দকুন্দাচার্য
খ) উমাস্বাতি
গ) সমন্তভদ্র
ঘ) সিদ্ধসেন দিবাকর
প্রশ্ন ১৪: কোন আচার্যের নেতৃত্বে জৈন ভিক্ষুদের এক অংশ দক্ষিণ ভারতে নিষ্ক্রমণ করেন?
ক) স্থূলভদ্র
খ) ভদ্রবাহু
গ) মহাবীর
ঘ) পার্শ্বনাথ
প্রশ্ন ১৫: প্রাচীন জৈনগ্রন্থগুলির ভাষা প্রধানত কী ছিল?
ক) পালি
খ) সংস্কৃত
গ) অর্ধমাগধী প্রাকৃত
ঘ) অপভ্রংশ
এই প্রশ্নগুলি তৈরি করার সময় মূল পাঠ্যের বিষয়বস্তু এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।