ই-সিম প্রযুক্তি: টেলিযোগাযোগের ভবিষ্যৎ ও এর কার্যকারিতা! | What is e-SIM?

 ই-সিম কি ? | What is e-SIM?

ছবি ক্যানভা থেকে বানানো 


ই-সিম প্রযুক্তি: টেলিযোগাযোগের ভবিষ্যৎ ও এর কার্যকারিতা!

বন্ধুরা, টেলিযোগাযোগ খাতের একটি নতুন প্রযুক্তি ই-সিম (eSIM)। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই হয়তো প্রচলিত মোবাইল সিম কার্ড বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তার জায়গা দখল করে নেবে ই-সিম। ইতিমধ্যে বিশ্বের বহু দেশে ই-সিম সেবা চালু হয়েছে।

ই-সিম কী এবং কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে 'কী কেন কিভাবে'-এর এই পর্বে। 'বাঙ্গালা কথা' চ্যানেলে আপনি নতুন হলে অনুরোধ করবো সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে ক্লিক করুন।

১. ই-সিম কী এবং কিভাবে কাজ করে?

বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি প্রযুক্তি হলো ই-সিম। ই-সিমের পূর্ণরূপ হলো এমবেডেড সিম (Embedded SIM)। এটি এমন এক ধরনের সিম যা মোবাইল হ্যান্ডসেটের মধ্যে বসানো থাকে। সাধারণ সিম আমরা সবাই ব্যবহার করেছি, যা সহজেই এক ফোন থেকে খুলে অন্য ফোনে লাগানো যায়। কিন্তু ই-সিম মূলত ফোনের মাদারবোর্ডে আগে থেকেই সংযুক্ত থাকে, যার ফলে এই সিম খোলা বা লাগানোর কোনো ঝামেলা নেই।

ই-সিমের প্রযুক্তি রি-রাইটেবল (Rewritable)। অর্থাৎ, একই সিমের মধ্যে আপনি পর্যায়ক্রমে একাধিক কোম্পানির মোবাইল সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। সেজন্য আপনার কাঙ্ক্ষিত অপারেটরের প্রয়োজনীয় তথ্য ই-সিমের ডাউনলোড করে নিতে হবে। ই-সিম সমর্থিত ডিভাইসে একটি কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করেই ইন্সটল করা যায়। কাজের ধরণের দিক থেকে ই-সিম ও সাধারণ সিমের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ধরনের সিম মোবাইল অপারেটরের সেল টাওয়ারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সুবিধা প্রদান করে।

২. ই-সিমের বহুমুখী ব্যবহার ও সুবিধা

ই-সিম শুধু মোবাইল ফোনেই ব্যবহার করা যাবে না। এই প্রযুক্তি দিয়ে স্মার্ট ডিভাইসগুলো মোবাইল সংযোগের আওতায় আসবে। আকারে অনেক ছোট হওয়ার কারণে স্মার্ট ওয়াচ থেকে শুরু করে সকল ধরনের আইওটি (IoT) ডিভাইসে ই-সিম কাজ করতে পারবে। ২০১৬ সালে স্যামসাং এর একটি স্মার্ট ওয়াচে সর্বপ্রথম ই-সিম স্থাপন করা হয়েছিল। স্মার্ট ফোনের ভেতর গুগল পিক্সেল ফোনে সর্বপ্রথম ই-সিম বসানো হয়েছিল। এরপর অ্যাপল ও স্যামসাংও ফোনে ই-সিম সেবা চালু করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ই-সিম টেলিযোগাযোগের একটি স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হবে। যেহেতু ফিজিক্যাল সিম কার্ড দরকার হবে না, তাই ই-সিমে মোবাইল অপারেটর বদল করার অভিজ্ঞতা খুব সহজ হবে। ই-সিমের জন্য স্মার্ট ফোনে কোনো সিম কার্ড স্লট রাখতে হবে না। ফলে মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও স্লিম ডিজাইনের ফোন নির্মাণ করতে পারবে। এছাড়া ই-সিম সুবিধার কারণে স্মার্ট ফোনগুলোকে পানি ও বালি প্রতিরোধী করে তৈরি করা যাবে।

ই-সিম সাপোর্টেড ডিভাইসের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোবাইল থেকে শুরু করে পোর্টেবল কম্পিউটার পর্যন্ত প্রায় সকল ক্ষেত্রে এমবেডেড সিম কার্ড এর ব্যবহার দেখা যাবে। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড, অ্যাপলের আইওএস (iOS) ও মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১০ (Windows 10) ইতিমধ্যেই ই-সিম সাপোর্ট করে। অর্থাৎ, সকল ধরনের ডিভাইসে ই-সিম ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। ভবিষ্যতে আপনার কম্পিউটারেও ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ই-সিম প্রযুক্তি অনেকদিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি একটি সরকারি মোবাইল কোম্পানি বাংলাদেশেও ই-সিমের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

৩. ই-সিম ও ৫জি নেটওয়ার্ক: ভবিষ্যতের সংযোগ

ই-সিমের মতোই ভবিষ্যতের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি হলো ৫জি (5G)। ৫জি নেটওয়ার্ক প্রচলিত ৪জি (4G) নেটওয়ার্কের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ দ্রুত গতি সম্পন্ন। ৫জি নেটওয়ার্কের রেসপন্স টাইম (Response Time) হবে মানুষের চোখের পলক পড়ার চেয়েও ৪০০ গুণ দ্রুত। ওয়্যারলেস সংযোগের নতুন অধ্যায় ৫জি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে 'বাঙ্গালা কথা' এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।

উপসংহার

'বাঙ্গালা কথা' চ্যানেলে আপনি নতুন হলে আমাদের অন্যান্য ভিডিও গুলোও দেখতে থাকুন। পরবর্তী ভিডিও আপলোড হওয়ার সাথে সাথে দেখতে চাইলে 'কী কেন কিভাবে' সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে ক্লিক করুন।

কীওয়ার্ডস: ই-সিম, eSIM, এমবেডেড সিম, Embedded SIM, টেলিযোগাযোগ, মোবাইল সিম কার্ড, ৫জি নেটওয়ার্ক, 5G Network, স্মার্টফোন, স্মার্ট ওয়াচ, আইওটি ডিভাইস, IoT Devices, গুগল পিক্সেল, অ্যাপল, স্যামসাং, মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, কিউআর কোড, রি-রাইটেবল সিম, প্রযুক্তি, বাংলাদেশের ই-সিম, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال