দুবাইয়ের 'দ্য ওয়ার্ল্ড' প্রজেক্ট: কেন ব্যর্থ হলো এই বিলাসবহুল দ্বীপপুঞ্জ?
বন্ধুরা, এই কথাটি ২০০৩ সালের, যখন দুবাইয়ের শেখরা সমুদ্রের উপর 'দ্য ওয়ার্ল্ড' (The World) প্রোজেক্টের কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করে দিয়েছিল। সমুদ্রের ওপর ৩০০টি আইল্যান্ড বানানোর এই প্রোজেক্ট পৃথিবীকে দেখানোর জন্য বানানো হচ্ছিল। আর এই আইল্যান্ডগুলোর মধ্যে লাক্সারি ভিলা, হোটেল এবং বিচ রিসোর্ট এর সঙ্গে সঙ্গে সেই সব কিছু থাকত, যেগুলো হয়তো আপনার কল্পনার বাইরে। এমনকি যখন এই প্রোজেক্টটির অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হচ্ছিল, তখন 'দ্য ওয়ার্ল্ড'কে 'ল্যান্ড অফ প্যারাডাইস' মানে 'স্বর্গের জমি'র সাথে তুলনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রোজেক্ট কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার ১২ বছর পরেও কেন এখনো সমুদ্রের উপরে থাকা এই আইল্যান্ডগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে? পৃথিবীর সব বড় বড় সেলিব্রেটিদের দিয়ে ইনভেস্ট করানোর পরেও দুবাইয়ের শেখের আশা কেন অসফল রয়ে গেল? এখানে এমন কী হয়েছিল? 'অদ্ভুত দশ'-এর আজকের ভিডিওটিতে এরই সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদেরকে বলব।
তো বেশি দেরি না করে, চলুন শুরু করা যাক!
১. দুবাইয়ের উত্থান ও শেখের স্বপ্ন
আমরা তো এটা প্রত্যেকেই জানি যে, দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম (Sheikh Mohammed bin Rashid Al Maktoum) দুবাইয়ে সেই সব জিনিস করে দেখিয়েছেন, যেগুলো এই পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় না। আজ থেকে ৩০ বছর আগে দুবাইতে কেবলমাত্র একটি বড় বিল্ডিং ছিল, যেটাকে বর্তমান সময়ে দুবাইয়ে 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার' (World Trade Centre) বলা হয়। কিন্তু তারপর এখানে একের পর এক হওয়া কনস্ট্রাকশন প্রোজেক্ট দুবাইয়ের এমন পরিবর্তন আনে যে, সেটা বলে বোঝানোর মতো নয়। যদিও শেখের চিন্তাভাবনাও ঠিক এই একই রকমটাই ছিল।
পৃথিবীর সবথেকে উঁচু বিল্ডিং বুর্জ খলিফা থেকে শুরু করে পৃথিবীর সর্বশেষ এবং একটি মাত্র সেভেন স্টার হোটেল বুর্জ আল আরব (Burj Al Arab) পর্যন্ত, দুবাইয়ের প্রতিটা কোনা ওয়ার্ল্ড ক্লাস লাক্সারি ফেসিলিটিতে ভরে রয়েছে। যখন দুবাইয়ের কাছে বড় বড় মেগা প্রোজেক্ট করবার জন্য জমি পড়ে থাকে, তখন শেখ এইসব প্রোজেক্ট গড়ে তোলবার জন্য সমুদ্রের পারকে বেছে নেন। এই ঘটনাটি ২০০১ সালের, যখন দুবাই প্রথমেই বুর্জ আল আরব বানিয়ে ওয়েস্টার্ন টুরিস্টদের নিজের দিকে আকর্ষণ করতে বসেছিল। দুবাইয়ের সি বিচগুলো ধীরে ধীরে ভীষণ ফেমাস হতে শুরু করে। আর এই ফেমাস হওয়াটা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে, এখন দুবাইয়ের কাছে সি বিচের জায়গা কম পড়ে গিয়েছে। দুবাইয়ের কোস্ট লাইন, যেটা কেবলমাত্র ৭০ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত ছিল, সেটা এখন বাড়ানোর সময় চলে এসেছিল।
প্রথম দিকে প্ল্যান এটাই ছিল যে, দুবাইয়ের সমুদ্রতে তিনটি আর্টিফিশিয়াল আইল্যান্ড বানানো হবে। আর সেগুলোকে যখন স্পেস থেকে দেখা হবে, তখন সেগুলোকে যাতে অনেক পাম ট্রির (Palm Tree) মতন দেখতে লাগে। আর এই তিনটি আইল্যান্ডের নাম দেওয়া হয়েছিল পাম জুমেরা (Palm Jumeirah), পাম জেবেল আলি (Palm Jebel Ali) আর পাম দেরিয়া (Palm Deira)। ২০০১ সালে সর্বপ্রথম পাম জুমেরার ওপর কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। কারণ হয়তো প্ল্যান করা আইল্যান্ডগুলোর মধ্যে এটি সব থেকে ছোট আইল্যান্ড ছিল। কেবলমাত্র পাম জুমেরাই দুবাইয়ের কোস্ট লাইনের ৫৬ কিলোমিটার, মানে ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছিল। কোস্ট লাইন বাড়ানোর এই আইডিয়া দুবাইয়ের শেখের এতটাই ভালো লাগে যে, পাম জুমেরা শেষ হওয়ার আগেই পাম জেবেল আলি আর পাম ডেরিয়ার ওপর কাজ করা শুরু করে দেওয়া হয়।
২. 'দ্য ওয়ার্ল্ড' প্রোজেক্ট: এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা
এই তিনটি আইল্যান্ড ছাড়া আরও একটি প্রোজেক্ট ছিল, যেটা কোনো চুম্বকের মতন পুরো পৃথিবীর মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তোলে। আর এই প্রোজেক্টটাকে 'দ্য ওয়ার্ল্ড' (The World) নামে লঞ্চ করা হয়েছিল, যেটার মধ্যে ৩০০টি ছোট ছোট আইল্যান্ড মজুত ছিল। 'দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর ডিজাইন অনেকটাই আর্থের ম্যাপের মতন করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটা কান্ট্রির নাম অনুসারে আলাদা আলাদা আইল্যান্ড বানানো হয়েছিল। ২০০৩ সালে 'দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়, যেটা দুবাইয়ের সাইট থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের তাবড় তাবড় ঢেউকে আটকে রেখে বানানো হচ্ছিল।
'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ড আসলে পৃথিবীর সব এলিট ক্লাসের মানুষের জন্য একটি প্লে-গ্রাউন্ড হতে চলেছিল। আন্তর্জাতিক অ্যাক্টর, রয়্যাল ফ্যামিলি আর বড় বড় বিজনেসম্যানদের প্রচুর পরিমাণ অর্থ এই প্রোজেক্টে ইনভেস্ট হয়। কিছু কিছু লোক নিজের পার্সোনাল ব্যবহারের জন্য এখানে আইল্যান্ড কিনে নেয়, আবার কিছু কিছু লোক এখানকার অ্যাডভার্টাইজমেন্টের জন্য নিজেদের রোল প্লে করে। 'দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর সব থেকে ছোট আইল্যান্ডের দাম ১৫ মিলিয়ন ডলার, মানে ১১২ কোটি টাকা রাখা হয়েছিল। আর বড় বড় আইল্যান্ডগুলোর দাম তো বাদই দিন, এক একটি বড় বড় আইল্যান্ডের দাম প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার, মানে প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।
যেভাবে দুবাই এর আগে সমস্ত বড় বড় প্রোজেক্টে খুবই ভালোভাবে সফল হয়েছিল, ঠিক এমন ভাবেই দুবাই 'দ্য ওয়ার্ল্ড'-এও সফলতা পেয়েছিল। কনস্ট্রাকশন কমপ্লিট হওয়ার অনেক আগেই ২০০৮ সালে ৭০ শতাংশেরও বেশি আইল্যান্ড বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।
৩. কেন এত দাম? নির্মাণ ব্যয় ও চ্যালেঞ্জ
কিন্তু এবার প্রশ্ন এটাই যে, সমুদ্রের উপর বালি দিয়ে তৈরি এই জমিগুলোর এত দাম কেন রাখা হয়েছিল? এর কারণ স্বরূপ, প্রথমত এটা কোনো সহজ কাজ নয়। কারণ সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে একটা ছোট আইল্যান্ড বানানো সহজ কথা নয়। আর এখানে তো দুবাই প্রায় ৩০০টি আইল্যান্ড বানিয়েছিল। কেবলমাত্র একটি আইল্যান্ড বানানোর জন্য এতটাই বেশি পরিমাণে বালি ব্যবহার করা হয়েছিল যে, সেটার সাহায্যে একটি সম্পূর্ণ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের টপ থেকে শুরু করে বটম পর্যন্ত ভরে দেওয়া সম্ভব। এবার যদি পাথরের কথা বলা হয়, তবে 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডে ব্যবহার করা পাথরের ওজন প্রায় ৫.৫ লক্ষ টনের ইঞ্জিনের ওজনের সমান। ৯ কিলোমিটার লম্বা আর ৬ কিলোমিটার চওড়া এই প্রোজেক্ট তৈরি করতে দুবাই গভর্নমেন্টের ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। এতটা পরিমাণ টাকা দিয়ে দুবাই প্রায় ৯ খানা বুর্জ খলিফা, নয়তো ১৪টি বুর্জ আল আরবের মতন সেভেন স্টার লাক্সারি হোটেল বানাতে পারত। কিন্তু দুবাইয়ের শেখ কেবলমাত্র দুবাইয়ের মাটি থেকেই নয়, বরং দুবাইয়ের সমুদ্র থেকেও ইনকাম করতে চাইছিল। আর ঠিক এই কারণেই দুবাইয়ের শেখ সমুদ্রের ওপর স্বর্গের জমি বানাতে চাইছিল।
৪. 'দ্য ওয়ার্ল্ড' কেন ব্যর্থ হলো?
তবে এমন কী হলো যে, সেটার কারণে এত কিছু করবার পরেও বিগত ১২ বছর ধরে এই আইল্যান্ডগুলো একদম ফাঁকা পড়ে রয়েছে?
ক) ডিজাইনের ত্রুটি:
'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডের বিফলতার সবথেকে বড় কারণ হলো এর ডিজাইন। সবাই এটাই আশা করেছিল যে, এই প্রোজেক্টের ডিজাইন আর্থের ম্যাপের উপর বানানো হবে। কিন্তু প্রোজেক্ট কমপ্লিট হওয়ার পর জানা যায় যে, এটি আর্থের ডিজাইনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বেশিরভাগ আইল্যান্ডই ছিল 'এল-শেপ'-এর, যা একচুয়াল কান্ট্রি শেপ থেকে একদম আলাদা ছিল, যেটা থেকে ইনভেস্টররা যথেষ্ট হতাশ হয়।
খ) ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট:
কিন্তু কেবলমাত্র ডিজাইনের চেঞ্জ হওয়ার কারণেই কিন্তু 'দ্য ওয়ার্ল্ড' অসফল হয়নি। ২০০৮ সালে 'দ্য ওয়ার্ল্ড'কে লঞ্চ করা হয়। আর এই সময় পুরো দুবাইকে ফায়ার ওয়ার্ক দিয়ে আলোকিত করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ইভেন্টে যত খরচ করা হয়েছিল, সেই সব টাকা বেকার হয়ে গিয়েছিল, কারণ এটা সেই সময় ছিল যখন পুরো পৃথিবীকে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস (Global Financial Crisis) ঘিরে রেখেছিল। 'দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর ৬০ শতাংশ আইল্যান্ড এই ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসের অনেক আগে থেকেই সেল হয়ে গিয়েছিল। আর এই ক্রাইসিসের কারণে না কেবল 'দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর আইল্যান্ড, বরং পুরো দুবাইয়ের প্রপার্টির রেট মাটিতে এসে পৌঁছেছিল। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিসের কারণে যারা যারা এই আইল্যান্ড কিনে রেখেছিল, তারাও এই আইল্যান্ডে কনস্ট্রাকশনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।
গ) সমুদ্রের জলের অনুপ্রবেশ ও ক্ষয়:
সময় ধীরে ধীরে এগোতে থাকে, আর এমনই সময় আরও একটি অসুবিধার সামনে এসে দাঁড়ায়। খালি পড়ে থাকা আইল্যান্ডগুলোতে ধীরে ধীরে সমুদ্রের জল প্রবেশ করতে শুরু করে। আর কয়েকটি আইল্যান্ড সম্পূর্ণরূপে জলের তলাতেই মিলিয়ে গিয়েছিল। আর এই খবরটা যখন মিডিয়া কভার করে এবং খবরটি জনসমক্ষে চলে আসে, এই প্রোজেক্টে ইনভেস্ট করা লোকেরা এই প্রোজেক্টের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস শেষ হয়ে যায়। আর দুবাইয়ের অন্যান্য এরিয়াগুলোতেও বিজনেস আবার ফেরত চলে আসে। কিন্তু 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডে ইরশনের (Erosion) কারণে কেউই এর ওপর কোনো রকম ইনভেস্ট করার সাহস করে না।
ইঞ্জিনিয়ার এবং রিসার্চ টিম যখন 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডের ইরশন নিয়ে ইনভেস্টিগেশন করে, তখন আরও একটি বিপদ সংকেত সামনে এসে দাঁড়ায়। পাম জুমেরা, পাম জেবেল আলি আর পাম ডেরিয়ার সঙ্গে সঙ্গে 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডের কনস্ট্রাকশনে ব্যবহার করা বালি পার্সিয়ান গাল্ফের (Persian Gulf) সমুদ্র থেকে ড্রেজারের (Dredger) মাধ্যমে বের করে আইল্যান্ডের সাইটে ডাম্প করা হতো। কিন্তু সমুদ্রের যে বালি বের করা হয়েছিল, সেখানে জলের চাপ অনেক বেড়ে যায়, যার কারণে সমুদ্রের ঢেউগুলোতে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সমুদ্রের ঢেউ চেঞ্জ হওয়ার কারণে কেবলমাত্র আর্টিফিশিয়াল আইল্যান্ডগুলোই নয়, বরং পুরো দুবাইয়ের কোস্ট লাইনে ইরশন দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল।
এই স্যাটেলাইট ফটোটি ২০০২ সালের, যখন কেবলমাত্র পাম জুমেরা বানানো হয়েছিল। এই ছবিতে দুবাইয়ের কোস্ট লাইনকে ভালো করে দেখুন। ভালো করে দেখলে বুঝতে পারবেন, এখানে কোস্ট লাইন সম্পূর্ণ সোজা রয়েছে।
এবার ভালো করে খেয়াল করুন এই ছবিটায়। আর এটা ২০০৮ সালের স্যাটেলাইট ছবি। এই সময় বাকি আইল্যান্ডগুলোও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এখানে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, দুবাইয়ের নিজের কোস্ট লাইন জায়গায় জায়গায় পরিবর্তন হয়েছে। আর এটাকে আটকানোর জন্য অনেক জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ওয়ালও বানানো হয়েছিল।
আর্টিফিশিয়াল আইল্যান্ড বানানো, দুবাইয়ের কোস্ট লাইনকে ডবল করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে খেলার কারণে দুবাই এর উপর উল্টো প্রভাব পড়েছে। এই ঘটনাটি ইনভেস্টর, বিজনেসম্যান এবং সেলিব্রেটিদের এতটাই খারাপ করেছে যে, দুবাই গভর্নমেন্ট খুব তাড়াতাড়ি 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ড কনস্ট্রাকশনের কাজ বন্ধ করে দেয়। কথাটা এতটাই দূরে পৌঁছে যায় যে, দুবাইকে পাম জেবেল আলীর ওপর ইনভেস্ট করা ইনভেস্টরদের রিফান্ড করতে হয়। আর পাম ডেরিয়া প্রোজেক্টকে অর্ধেক অবস্থাতেই ছেড়ে দিতে হয়।
৫. পাম জুমেরা: একটি সফল ব্যতিক্রম
নিঃসন্দেহে প্রাইভেট আইল্যান্ড একটা আলাদা অনুভূতি এনে দেয়। কিন্তু যে লাক্সারি 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডে এনজয় করা যেতে পারত, সেই সব কিছুই পাম জুমেরাতে অলরেডি উপভোগ করা যাচ্ছে। আর এটাই দুবাইয়ের সর্বপ্রথম আইল্যান্ড প্রোজেক্ট, যেটা সম্পূর্ণরূপে সফল হয়েছে। বহু ফেমাস সেলিব্রেটি অলরেডি পাম জুমেরাতে প্রপার্টি কিনে রেখেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ফেমাস ফুটবল প্লেয়ার ডেভিড বেকহাম। অনেক শিল্পীও রয়েছেন, যেমন শাহরুখ খান, শিল্পা শেঠি এবং বহু পরিচিত আর্টিস্টরা এর সাথে জড়িত রয়েছে।
কিন্তু এটা নয় যে, কেউই 'দ্য ওয়ার্ল্ড' আইল্যান্ডে নিজের ম্যানশন বা ভিলা বানাননি। ৩০০টি আইল্যান্ডের মধ্যে ৯টি আইল্যান্ড এমন রয়েছে, যেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ডেভেলপ করা হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে 'লাভিং অল আইল্যান্ড', 'ইউরোপ আইল্যান্ড' আর একজন ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভারের নাম অনুসারে বানানো 'মাইকেল শুমাখার আইল্যান্ড' সম্পূর্ণরূপে ডেভেলপ করা হয়ে গিয়েছে। বাকি থাকা ২৯১টি আইল্যান্ড এখনো পর্যন্ত খালি পড়ে রয়েছে। আর ধীরে ধীরে সমুদ্রের জলের তলায় মিলিয়ে যাচ্ছে।
৬. দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
কিন্তু দুবাইয়ের শেখ নিজের এই অসফলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং নিজের ভুলকে শুধরাবার জন্য নতুন নতুন এবং ইউনিক প্রোজেক্ট লঞ্চ করার জন্য লেগে পড়ে রয়েছেন। অতএব, এটা তো পরিষ্কার যে, দুবাই এইসব ছোটখাটো ফেইলিওর দেখে ঘাবড়ে যাচ্ছে না। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ হলো 'জুমেরাহ বে আইল্যান্ড' (Jumeirah Bay Island), 'মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার' (Museum of the Future), যা দুবাই এক্সপো ২০২০-তে দেখা গিয়েছিল। এর সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ের ফিউচার প্রোজেক্টে পৃথিবীর সর্বপ্রথম ডাইনামিক টাওয়ারও মজুত রয়েছে, যেটা রোটেটিং ফ্লোরের কারণে ভেতরে বসে থাকা লোক ৩৬০ ডিগ্রি এনজয় করতে পারবে।
উপসংহার
তো বন্ধুরা, আপনারা এই কেস স্টাডি থেকে কী শিখলেন? অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। পাশাপাশি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে।
কীওয়ার্ডস: দুবাই, দ্য ওয়ার্ল্ড প্রোজেক্ট, আর্টিফিশিয়াল আইল্যান্ড, পাম জুমেরা, পাম জেবেল আলি, পাম ডেরিয়া, বিলাসবহুল দ্বীপপুঞ্জ, কেন ব্যর্থ হলো, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস, সমুদ্রের ক্ষয়, ইরশন, শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, মেগা প্রোজেক্ট, রিয়েল এস্টেট, পর্যটন, প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ, দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ, জুমেরাহ বে আইল্যান্ড, মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার, ডাইনামিক টাওয়ার।
