ইতিহাসের গভীরে লুকানো রহস্য: প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার যা আপনাকে অবাক করবে!

 

ইতিহাসের গভীরে লুকানো রহস্য: প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার যা আপনাকে অবাক করবে!

ইতিহাসের গভীরে লুকানো রহস্য: প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার যা আপনাকে অবাক করবে!

হেই বন্ধুরা, আজ পর্যন্ত আর্কিওলজিস্টরা এমন অনেক জিনিসের সন্ধান পেয়েছে, যাদের ব্যাখ্যা মানব মস্তিষ্কের দ্বারা বোঝা এখনো সম্ভব হয়নি। আজ মানব জাতি বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির কল্যাণে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গেছে ঠিকই, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদেরকেও হতভম্ব করে দেয়। আর এই রহস্যের মধ্যে কখনো তারা খুঁজে পেয়েছে মাটির নিচ থেকে এমন সব মমি, যা মানুষের নয়, বরং নীল নদের কুমিরের! আবার তাঁরা খুঁজে পেয়েছে এমন কঙ্কাল, যাদের যীশু খ্রীষ্টের মতো ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করে দাফন করা হয়েছিল। আজকের ভিডিওটিতে আর্কিওলজিস্টদের দ্বারা খুঁজে পাওয়া এমন কিছু আজব জিনিস দেখব, যা হয়তো আপনি এর আগে কখনো দেখেননি বা শোনেননি।

তো চলুন, শুরু করা যাক!

১. পৌরাণিক চিড়িয়াখানা: প্রাচীন মিশরের বিস্ময়

১৯০০ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের দুই প্রত্নতত্ত্ববিদ, জেমস আর ফেব্রিক মিশরে খনন চালাচ্ছিল। তাঁরা মিশরের কায়রো থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে একটি ফাঁকা মাঠে খননের কাজ করছিল। আর এই জায়গাটির নাম ছিল কেমিক কাইরাহ। খননের পর তাঁরা কিছু কঙ্কালের সন্ধান পায়। এগুলো ছিল সব প্রাণীদের কঙ্কাল। এই দেখে ওই প্রত্নতত্ত্ববিদদের কৌতুহল অনেক বেড়ে যায়। তাই তাঁরা লাগাতার খনন চালাতে থাকে। আর এই খনন করতে করতে, সেখান থেকে তারা ১০০০-এর থেকেও বেশি প্রাণীর কঙ্কাল উদ্ধার করে। এই কঙ্কালগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীদের, যার মধ্যে ছিল কুকুর, বিড়াল, কুমির, এমনকি অনেক হিংস্র প্রাণীর কঙ্কাল। আর কিছু মমিও ছিল। এমনকি তারা হাতির মতো বৃহৎ প্রাণীরও কঙ্কালের সন্ধান পায় এখানে।

তারপর থেকে প্রায় দু বছর ধরে এই স্থানটিতে খননের কাজ চলতে থাকে। আর প্রাণীদের এক এক করে অনেক মমি উদ্ধার করা হয়। সাধারণত মিশরের মাটির নিচ থেকে রাজা-মহারাজাদের মমি পাওয়া সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু ওই মিশরেই ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীদের মমি খুঁজে পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এই জায়গাটি থেকে তারা এমন অনেক প্রাণীদের মমি খুঁজে পায়, যাদের মমি অতি যত্নের সাথে দাফন করা হয়েছিল।

আর্কিওলজিস্টদের টিম এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। তারা কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারছিল না যে, প্রাচীন মিশরীয়রা এই স্থানে এতগুলো প্রাণীদের কেন দাফন করেছিল? এই বিষয় নিয়ে অনেক গবেষণা করবার পর তারা এই সিদ্ধান্তে আসে। সম্ভবত সমাধি আশেপাশে প্রাচীন মিশরীয়রা চিড়িয়াখানা বানিয়েছিল। আর তার মধ্যে সব ধরনের প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। যখনই কোনো প্রাণী মারা যেত, তারা এখানে তাদের দাফন করে দিত। আজ আমরা বিনোদনের জন্য চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করতে যাই। কিন্তু আজ থেকে চার-পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও এই চিড়িয়াখানার অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু এখন ভাববার বিষয় হলো, কিভাবে প্রাচীন মিশরীয়রা আধুনিক যুগের মতো চিন্তা ভাবনা করে চিড়িয়াখানা বানিয়েছিল? তাহলে আমাদের থেকেও কি তারা আরও বেশি আধুনিক ছিল? আপনার কী মনে হয়? অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

২. পট বিরিয়াল (Pot Burial): পাত্রে দাফনের রহস্য

'পট বিরিয়াল', যার অর্থ পাত্রের মধ্যে দাফন করা। মিশর এমন একটি দেশ, যা প্রাচীন ইতিহাসে সবথেকে বিখ্যাত রহস্যময় জায়গা, যার মাটির নিচে রয়েছে অসংখ্য রহস্য। সম্প্রতি আর্কিওলজিস্টরা মিশর থেকে এক অদ্ভুত জিনিসের সন্ধান পায়। তাঁরা মাটির নিচে খনন করতে করতে এমন কিছু মৃতদেহের সন্ধান পায়, যাদের মাটির পাত্রের মধ্যে রেখে দাফন করা হয়েছিল। এই পাত্রের মধ্যে বেশিরভাগ কঙ্কালই ছিল নবজাতকদের। তবে প্রাপ্তবয়স্কের কঙ্কালগুলোকেও ভাঁজ করা অবস্থায় পাত্রের মধ্যে পাওয়া যায়।

বয়স্কদেরকেও খুব অদ্ভুতভাবে ছোট পাত্রের মধ্যে রেখে দাফন করা হয়েছিল। বহুদিন যাবৎ আর্কিওলজিস্টরা এই ধরনের অস্বাভাবিক সমাধি প্রথার রহস্য ভেদ করতে পারছিল না। সাধারণত প্রাচীন মিশরীয়রা নিহত ব্যক্তিদের উপর বিশেষ কেমিক্যাল লাগিয়ে, বিশেষ কাপড়ে মুড়ে কফিনের ভেতরে রেখে দাফন করে দিত। কিন্তু ছোট্ট মাটির পাত্রের মধ্যে এমন অদ্ভুত ভাবে রেখে দাফন করা মৃতদেহের কঙ্কাল এই প্রথম খুঁজে পাওয়া যায়। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। কারণ প্রাচীন মিশরীয়রা এতটাও বোকা নয় যে, তারা যেকোনো কারণ ছাড়া এমন কাজ করবে। তাদের প্রতিটা কাজের পেছনে কোনো না কোনো বিশেষ গোপন রহস্য লুকিয়েই থাকে।

আসলে এই পাত্রগুলোকে নিয়ে গবেষণা করবার পর একটি থিওরি উঠে আসে। আর এতে বলা হয় যে, সেই সময় গরিব পরিবারের লোকেরা মাটির পাত্রকে কফিন হিসাবে ব্যবহার করত। কারণ তাদের কাছে কফিন কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। অর্থাৎ, এই থিওরির মতে, ধনী এবং গরিবের ভেদাভেদ মিশরেও ছিল। কিন্তু নতুন একটি থিওরিতে বলা হয়, এই পাত্রগুলোকে নিম্ন শ্রেণীর মানুষেরা ব্যবহার করত না। আসলে এই পাত্রগুলো ছিল জীবনচক্রের প্রতীক। মাটির পাত্রগুলো রিপ্রেজেন্ট করে মাতৃগর্ভ হিসাবে, মানে জন্মের প্রথম চক্র। আর মৃত ব্যক্তিকে এর মধ্যে রেখে দাফন করার মাধ্যমে মিশরীয়রা এটাই বোঝাতে চাইতো, মৃত ব্যক্তির আত্মা মাতৃগর্ভের মধ্যে দিয়ে পরকালে প্রবেশ করবে।

সব থেকে আশ্চর্য বিষয় হলো, এইসব পাত্রগুলির আয়তন একদম সমান। প্রাপ্তবয়স্ক মৃত মানুষদের মস্তিষ্ক বড় হওয়ার কারণে এই পাত্রের মধ্যে তা ফিট হতো না। তাই তাদের মাথাকে হাতুড়ি দিয়ে আলাদা আলাদা অংশে ভেঙে পাত্রের মধ্যে ঢোকানো হতো। আপনার কী মনে হয়, মিশরীয়দের এই দৃষ্টিভঙ্গি কি ঠিক ছিল?

৩. গুপ্তধন: কিংস ভ্যালির অজানা সম্পদ

নেক্সট পয়েন্টটি হলো গুপ্তধনকে ঘিরে। তবে গুপ্তধন সম্বন্ধে জানবার আগে আপনাদের এটা জেনে রাখা উচিত, আর্কিওলজিস্টদের এই সমস্ত খোঁজ করবার জন্য অসংখ্য জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। কারণ এই সমস্ত খোঁজগুলি কোনটি মানুষের ইতিহাসের সাথে যুক্ত, কোনটি বা মহাকাশের সাথে যুক্ত। আর তাদের এই সমস্ত জ্ঞান বই পড়েই আসে।

'এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ টাইম' (A Brief History of Time) এমনই একটি বই, যেখানে অসংখ্য জিনিসের ওপর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব, সেটা বিজ্ঞানই হোক অথবা ব্ল্যাক হোল। এই বইটির সামারি আপনারা কুকু এফএম-এ পেয়ে যাবেন। কুকু এফএম ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ অডিও প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ৪০০০-এরও বেশি অডিও বুক এবং সামারি রয়েছে বাংলা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায়। কুকু এফএম-এর বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন ৩৯৯ টাকা। কিন্তু সব থেকে বিশেষ ব্যাপার হলো, আমার দর্শকেরা আমার কোড 'এডিভিউফিফটি' ব্যবহার করলে ১৯৯ টাকাতেই এক বছরের সাবস্ক্রিপশন পেয়ে যাবেন। আর এটা ভ্যালিড প্রথম ২৫০ জন বন্ধুদের জন্য। এই সাবস্ক্রিপশন আপনাকে অসংখ্য ভালো বই সম্বন্ধে জানতে সাহায্য করবে। আর বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই যান, কুকু এফএমকে ডাউনলোড করুন। ভিডিও ডেসক্রিপশনে লিংক রয়েছে এবং রয়েছে আমার নির্দিষ্ট কুপনটিও।

মিশরের কায়রো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে লায়ন্স স্টোনের বড় বড় পাহাড় রয়েছে। আর এই পাহাড় 'কিং অফ ভ্যালি' (Valley of the Kings) নামে পরিচিত। এই পাহাড়ের মধ্যেই রয়েছে অজস্র রহস্য। আর রয়েছে গুপ্তধন। এই পাহাড়ের রহস্য উন্মোচন করবার জন্য কিংস ভ্যালিতে প্রায় ২০০ বছর ধরে খননের কাজ চলছে। কিন্তু ১৯২২ সালে যখন একজন ব্রিটিশ আর্কিওলজিস্ট খননের কাজ করছিল, তখন সেই সময় তার নজর পড়ে পাহাড়ের নিচে সিঁড়ির মতো দেখতে ধাপের উপর। তিনি ওই সিঁড়ি দেখা মাত্রই খননের কাজ চালু করে দেয়। এরপর যতই খননের কাজ এগিয়ে যাচ্ছিল, ততই একটার পর একটা সিঁড়ির ধাপ বেরিয়ে আসছিল। আর ততই ব্রিটিশ আর্কিওলজিস্টের মধ্যে কৌতুহল বেড়ে যাচ্ছিল। তিনি একটি বিষয়ে নিশ্চিত ছিল যে, কোনো না কোনো রহস্য তাকে ডাকছে। খননের শেষে যখন তিনি পাহাড়ের নিচে গোপন চেম্বারের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন সে এক মুহূর্তের জন্য তার চোখ সরাতে পারছিল না। সেই চেম্বারটির মধ্যে ছিল সোনা দিয়ে তৈরি করা অলংকার। ওই ব্রিটিশ আর্কিওলজিস্ট এটা বুঝে গিয়েছিল, তিনি এমন গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে, যা গোটা বিশ্বকে হতবম্ব করে দেবে। ওই চেম্বারে থাকা সব অলংকারগুলি সোনা দিয়ে তৈরি ছিল। এছাড়াও সেখানে তিনি একটি সোনার কফিনের সন্ধান পেয়েছিলেন, যে কফিনটির কভারের ওজনই ছিল ৯০ কেজি। আর এই কফিনটি ছিল রাজা তুতানখামেনের (Tutankhamun), যিনি মাত্র আট বছর বয়সে রাজসিংহাসনে বসেন। তুতানখামেনের কফিন কেন অভিশপ্ত, সেই আকাশ বর্মণের একটি অলরেডি ভিডিও রয়েছে। আপনারা যদি সেই ভিডিওটিকে না দেখে থাকেন, তাহলে ভিডিও ডেসক্রিপশনে লিংক ফলো করে ভিডিওটিকে দেখে নেবেন।

৪. কুমিরের মমি (Crocodile Mummies): নীল নদের রহস্য

মিশরের একটি প্রাচীন শহর 'উলমাল বাড়ি' (Umm al-Barigat), যাতে আর্কিওলজিস্টদের একটি টিম খননের কাজ করছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মমি কিংবা পুরাতন গুপ্তধনের সন্ধান করা। কিন্তু তাঁরা হতবাক হয়ে যায়, যখন তাঁরা সন্ধান পায় এক থেকে ১০০টিরও বেশি নীল নদের কুমিরের মমি, যাদেরকে অতি যত্নের সাথে প্রিজার্ভ করে রাখা হয়েছিল। কুমিরগুলোকে প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে মমি বানানো হয়েছিল। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে মানুষের পরিবর্তে কুমিরগুলোকে মমি বানানো হয়েছিল, এর রহস্য তারা কোনোভাবেই উদঘাটন করতে পারছিল না।

আরও রিসার্চ করবার পর এই কুমিরগুলোর কফিন থেকে এমন কিছু জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়, যা গবেষকদের আরও বেশি চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। আসলে আর্কিওলজিস্টরা কুমিরের মমি থেকেও বেশি কৌতুহলী ছিল কুমিরের কফিনে লেখা ম্যাসেজগুলো নিয়ে। আসলে কোন উদ্দেশ্যে প্রাচীন মিশরীয়রা কুমিরের মমি করেছিল এবং এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লেখা ছিল কুমিরের কফিনগুলোর উপর। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বহু প্রাচীন ভাষা হওয়ার কারণে এই বার্তাগুলোকে কেউই সঠিকভাবে পাঠোদ্ধার করতে পারেনি। তাই আজও এই খোঁজ একটি রহস্যই হয়ে রয়েছে।

কিন্তু গবেষকরা রিসার্চ করবার পর মন্তব্য করেন, প্রাচীন মিশরীয়রা কুমিরদেরকে দেবতা বলে গণ্য করত। সেই যুগে তারা এমন অনেক মূর্তি তৈরি করত, যাদের মাথা কুমিরের মতো দেখতে এবং নিচের অংশটি মানুষের মতো। শুধু তাই নয়, প্রাচীন মিশরীয়রা বিড়ালদেরকেও পুজো করত। খননের সময় আর্কিওলজিস্টরা এমন অনেক মমির সন্ধান পেয়েছে, যেগুলো বিড়ালের ছিল। এদেরকে প্রাচীন মিশরীয়রা কুমিরের মতোই যত্নের সাথে মমি বানিয়ে রাখত। 'বাসটেট' (Bastet) এমন এক ধরনের বিড়াল ছিল, যাদেরকে তারা দেবতা বলে গণ্য করত। তবে কুমিরের মমির কফিনের গায়ে কী লেখা ছিল, তা এখনো রহস্য।

৫. রোমান ক্রুসিফিকেশন (Roman Crucifixion): এক ভয়াবহ শাস্তি

কিছু আর্কিওলজিস্টদের টিম রোমে খননের সময় একটি কঙ্কালের সন্ধান পায়, যাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল। ব্যক্তিটির পায়ে এবং হাতে পেরেক বিদ্ধ করা ছিল, ঠিক যেভাবে যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল। এক্সপার্টদের মতে, ব্যক্তিটি সম্ভবত কোনো ক্রীতদাস ছিল। আর তার বয়স ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে ছিল। তার পায়ের অংশটি দেখে গবেষকরা মন্তব্য করেন, ব্যক্তিটিকে মৃত্যুর পূর্বে অনেকদিন ধরে লোহার চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

ইংল্যান্ডের প্রত্নতত্ত্ববিদ ডেভিড ইনকাম (David Ingham), যিনি এই স্থানে খনন করতে গিয়ে ক্রুশবিদ্ধ কঙ্কালের সন্ধান পান, তার মতে আজ থেকে ৩০০০ বছর পূর্বে এই ধরনের শাস্তি ছিল প্রাচীন রোমে খুবই জনপ্রিয়। যখন তাঁরা এই জায়গাটিকে আরও ভালো করে খনন করেন, তখন তাঁরা সেখান থেকে ৪৮টি ক্রুশবিদ্ধ কঙ্কালের সন্ধান পায়। গবেষকরা এর উপর রিসার্চ করে মন্তব্য করেন, সম্ভবত এরা ছিল স্থানীয় ক্রীতদাস, যাদেরকে একটা সময় অন্য দেশ থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা এটাও মন্তব্য করেন, সেই সময় তাদেরকে অনেক কঠোর পরিশ্রম করানো হতো। এমনকি তাদেরকে চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। আসলে আর্কিওলজিস্টরা কবরস্থানের পাশেই প্রাচীনকালের একটি কারখানার সন্ধান পায়। সম্ভবত এখানেই ক্রীতদাসদের দিয়ে সাবান অথবা গৃহস্থালি সংক্রান্ত জিনিসপত্র তৈরি করানো হতো। আর যারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারতো না, তাদেরকে ক্রুশবিদ্ধ করে শাস্তি দিয়ে এই কবর স্থানে দাফন করে দেওয়া হতো। ভেবে দেখুন সেই সময়কার ক্রীতদাসদের অবস্থা একবার! শুধু সেই সময় কেন, এই পৃথিবীর ইতিহাসে ক্রীতদাসদের অবস্থা সব সময়ই খারাপই হয়।

৬. রঙিন কফিন (Colorful Coffins): প্রাচীন মিশরের শিল্পকলা

ইতিহাসবিদ আর প্রত্নতত্ত্ববিদরা মিলিতভাবে প্রায় সব সময় মিশর থেকে মমির সন্ধান পেয়ে থাকে। কিন্তু ২০০৯ সালে আর্কিওলজিস্টদের একটি টিম মিশরের লাক্সার শহরে খনন করবার সময় ২০টি এমন কফিনের সন্ধান পায়, যা সবাইকে চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। আপনারা জানলে অবাক হবেন, এই কফিনগুলোর উপর পেইন্টিং করে সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করা ছিল। এই কফিনগুলো প্রায় ৩০০০ বছর পুরাতন। এগুলোর কালার একটুও ফেড হয়নি। কফিনের উপর লাল, সবুজ, হলুদ এবং কালো রং স্পষ্ট বোঝা যায়। গবেষকরা কফিনগুলো নিয়ে অনেক রিসার্চ করে মন্তব্য করেন, এই কফিনগুলো সব কয়টি প্রাচীন মিশরীয় ধর্মযাজকদের ছিল। স্থানীয় জনগণ এই ধর্মযাজকদের খুবই শ্রদ্ধা করত। আর এই ধর্মযাজকদের মৃত্যুর পর তাদের কফিনকে রঙিন রঙিন পেন্টিং দিয়ে সাজাতো তারা।

শুধু তাই নয়, প্রাচীন মিশরীয়রা কেবল রাজাদের সমাধি সাজানোর ক্ষেত্রে অথবা পিরামিড তৈরির ক্ষেত্রেই মাস্টার ছিল না। তারা সবকিছুতেই মাস্টার ছিল। তারই একটি উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় ডেরেল মদিনাতে (Deir el-Medina)। বর্তমানে শরীরে ট্যাটু (Tattoo) করাটা মডার্ন ফ্যাশন বলে মনে করা হয়। কিন্তু আপনি শুনলে অবাক হবেন, প্রাচীন মিশরীয়রাও নিজেদের দেহে ট্যাটু করত। ডেরেল মদিনা থেকে আর্কিওলজিস্টরা সাতটি এমন মমির সন্ধান পায়, যাদের দেহে ট্যাটু করা রয়েছে। এমনকি একটি মমির দেহে প্রায় ৩০টির থেকেও বেশি ট্যাটু করা রয়েছে।

আর্কিওলজিস্টদের মতে, এর পূর্বে এমন কোনো মমি যাদের দেহে ট্যাটু রয়েছে, সেগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই সাতটি মমি দেখবার পর আর্কিওলজিস্টরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে, প্রাচীন মিশরীয়রাও বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ছিল। আর এই ট্যাটু ছিল সেই সময়কার মানুষের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমাজে নিম্ন শ্রেণীর মানুষেরাই ট্যাটু করত বলে তাদের ধারণা। যদি রাজা-মহারাজারা এই ট্যাটুর ব্যবহার করত, তাহলে এর খোঁজ হয়তো আগেই পাওয়া যেত।

উপসংহার

তো বন্ধুরা, এই আর্কিওলজিক্যাল ডিসকভারিগুলোর মধ্যে আপনার কাছে কোনটি বেশি বলে মনে হয়েছে? কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আর আপনি যদি সিনেমার ব্যাখ্যা দেখতে পছন্দ করেন, আর এখনো যদি 'বং মুভি ডায়েরি'কে সাবস্ক্রাইব না করে থাকেন, তাহলে কী করছেন? যান, চ্যানেলটিকে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করুন। ভিডিও ডেসক্রিপশনে লিংক রয়েছে।

কীওয়ার্ডস: প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, প্রাচীন রহস্য, মিশর, মমি, কুমিরের মমি, পট বিরিয়াল, কিংস ভ্যালি, তুতানখামেন, এনিগমা মেশিন, যীশু খ্রীষ্ট, ক্রুশবিদ্ধ কঙ্কাল, রোমান সাম্রাজ্য, প্রাচীন সভ্যতা, গুপ্তধন, ট্যাটু, আর্কিওলজি, অজানা ইতিহাস, রহস্য উন্মোচন, প্রাচীন মিশরীয়রা, কুকু এফএম।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال