আকাশে দুই বিমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ: এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অজানা কাহিনী!
বন্ধুরা, আমরা প্রত্যেকেই জানি যে, প্রতিদিন আকাশে কয়েক লক্ষ প্লেন যাতায়াত করে। তাদের যাত্রাপথ একে অন্যের সাথে মিলিতও হয়। কিন্তু এটা একবার ভেবে দেখুন তো, যদি হঠাৎ করে কোনো প্লেন মাঝ আকাশে অন্য কোনো প্লেনের সাথে ধাক্কা মারে, তখন কী হবে? ঠিক এরকমই এক ভয়াবহ ঘটনা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে একবার ঘটেছিল। আর আজকে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে আমি সেই বিষয়েই বিস্তারিত আপনাদের জানাবো। তো চলুন, দেরি না করে শুরু করা যাক!
সেই ভয়াল রাত: ১লা জুলাই, ২০০২
২০০২ সালের ১লা জুলাই, রাত ৮টা ৪৮ মিনিট। 'বাশকিরিয়ান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ২৯৩৭' (Bashkirian Airlines Flight 2937) ডোমোদেদোভো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে স্পেনের বার্সেলোনার দিকে নিজের যাত্রাপথ শুরু করে। প্লেনটিতে ৪৫ জন স্কুলের বাচ্চা সহ মোট ৬০ জন প্যাসেঞ্জার এবং ৯ জন ক্রু মেম্বার ছিল। এটি অন্যান্য দিনের মতোই একটি সাধারণ সিডিউল ফ্লাইট ছিল, যেটা প্রায় ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মধ্যে ৩০০০ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথ সম্পূর্ণ করতো।
রাত ১১টার সময় প্লেনটি সুইজারল্যান্ডের এয়ার স্পেসের মধ্যে প্রবেশ করে। সুইজারল্যান্ডের প্রাইভেট এয়ার স্পেস কোম্পানি 'স্কাইগাইড' (Skyguide) প্লেনটির কন্ট্রোলের দায়িত্বে ছিল। রাত্রি ১১টার সময় কন্ট্রোল রুমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার (ATC) হিসাবে পিটার মিলসন (Peter Nielsen) এবং তার এক সহকর্মী সেই সময় কর্মরত ছিলেন। সেই দিনটি এয়ার ট্রাফিকের জন্য খুব ব্যস্ততম দিন ছিল। রাত্রি ১১টার পর ওই এয়ার স্পেসে থাকা সমস্ত এয়ারপোর্টগুলিতে কোনো রকম সিডিউল ল্যান্ডিং ছিল না। আর ঠিক এই কারণে পিটার মিলসনের সহকর্মী নিজের ওয়ার্ক স্টেশনের দায়িত্ব পিটারের উপর ছেড়ে দিয়ে ব্রেকে চলে যায়। মানে, পিটার সেই সময় দুটো ওয়ার্ল্ড স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ করছিলেন, যেখানে প্রথম রাডার সিস্টেমে এয়ার স্পেস ট্রাফিক শো করছিল, আর দ্বিতীয় রাডার সিস্টেমে এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করতে আসা প্লেনগুলির সম্পর্কে মনিটর করছিল।
রাত ১১টা ৬ মিনিটে ফ্লাইট ২৯৩৭ ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় ফ্লাই করছিল। আর প্লেনে থাকা যাত্রীরা ভেবেছিল যে, তারা মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গন্তব্যস্থল বার্সেলোনাতে পৌঁছে যাবে। কিন্তু তারা কেউ জানতোই না যে, ঠিক ৬০০ কিলোমিটার দূরে এক ভয়ানক দুর্ঘটনা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
১১টা ৬ মিনিটে 'ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১' (DHL Flight 611) বারগোম এয়ারপোর্ট থেকে উড়ে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে। প্লেনটি বারগোমতে পৌঁছানোর পর প্লেনের সমস্ত যাত্রীরা নেমে যায়। এরপর বারগোম থেকে দুজন ক্রু মেম্বার নিয়ে প্লেনটি ব্রাসেলসের দিকে যাত্রা শুরু করে। প্লেনটিতে দুজন ক্রু মেম্বার ছাড়া আর কেউই ছিল না।
দুর্ঘটনার সূত্রপাত: বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি
এর কিছুক্ষণ পর, ১১টা ১০ মিনিটে পিটার মিলসনকে জানানো হয় যে, মূল রাডারকে মেইনটেন করবার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই তাকে ব্যাকআপ সিস্টেমটিকে ব্যবহার করতে হবে। ১১টা ২১ মিনিটে ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ এয়ার স্পেসে প্রবেশ করে এবং প্লেনের পাইলট ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় প্লেনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পিটার মিলসনের কাছে পারমিশন চায়। আর পারমিশন দেওয়ার আগে পিটার মিলসন এয়ার ট্র্যাফিক রেগুলেট করে এবং একই উচ্চতায় অন্য কোনো প্লেন আসার সম্ভাবনা আছে কিনা, সেটা ভালো করে খতিয়ে দেখে নেয়। কিন্তু তখন সেকেন্ড রাডার সিস্টেমে ফ্লাইট 'এইএফ ১১৩৫'-এর (AEF 1135) একটি মেসেজ আসে যে, প্লেনটিকে পাশের এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করতে হবে। পিটার এই বার্তা পাওয়ার পর সেকেন্ড রাডার সিস্টেমের উপর লক্ষ্য দেয়। পিটার পাশের এয়ারপোর্টের সাথে কন্টাক্ট করবার চেষ্টা করে, কিন্তু তার ফোন ওয়ার্ক স্টেশন মেইনটেনেন্সের কারণে কাজ করছিল না।
কিছুক্ষণের মধ্যে পিটার আবার ফার্স্ট রাডারের সামনে চলে আসে। কেননা তখন ফ্লাইট এইএফ ১১৩৫-এর ল্যান্ডিং করতে ১০ মিনিট বাকি ছিল। প্রথম রাডারের সামনে চলে আসার পর পিটার ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১-কে ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় ওড়ার পারমিশন দেয় এবং পুনরায় পাশের এয়ারপোর্ট টাওয়ারের সঙ্গে কন্টাক্ট করবার চেষ্টা করতে থাকে। অর্থাৎ, বড় কিছু ঘটবার ঠিক ২ মিনিট আগে পারমিশন পাওয়ার পর ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে থাকে। অন্যদিকে, ফ্লাইট ২৯৩৭, যেটা বার্সেলোনার দিকে যাচ্ছিল, সেটাও ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় ফ্লাই করছিল। অর্থাৎ, ঘটনার ২ মিনিট আগে ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ এবং ফ্লাইট ২৯৩৭, দুই প্লেনই ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় উঠছিল। এখানে দেখানো দুটো প্লেনেরই যাত্রাপথ সুইজারল্যান্ডের কাছে গিয়ে মিলিত হচ্ছিল।
ঘটনার ঠিক ৪৩ সেকেন্ড আগে পিটার জটিল সমস্যাটি সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং তৎক্ষণাৎ সে ফ্লাইট ২৯৩৭-এর উচ্চতা কমিয়ে ৩৫,০০০ ফুট করবার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই নির্দেশের ঠিক ১ সেকেন্ড পরে ফ্লাইট ২৯৩৭-এর টিসিএএস (TCAS) সিস্টেম বিপ অ্যালার্মের সঙ্গে বাজতে শুরু করে এবং বারংবার পাইলটকে প্লেনের উচ্চতা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। ফ্লাইট ২৯৩৭-এর পাইলট রীতিমতো কনফিউজড হয়ে যায় যে, সে টিসিএএস সিস্টেমের নির্দেশ অনুযায়ী প্লেনের উচ্চতা বাড়াবে, নাকি এয়ার ট্রাফিকের নির্দেশ অনুযায়ী প্লেনের উচ্চতা কমাবে। ঠিক এই সময় ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১-এর টিসিএএস সিস্টেমেও এই একই রকম বিপ অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং পাইলটকে উচ্চতা কমানোর নির্দেশ দেয়। এই সময় পিটার পুনরায় ফ্লাইট ২৯৩৭-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পাইলটকে উচ্চতা কমানোর নির্দেশ দেয়। এবং শেষমেষ ফ্লাইট ২৯৩৭-এর পাইলট ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ মেনে প্লেনের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমাতে শুরু করে। অন্যদিকে, ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১-এর পাইলটও উচ্চতা কমাতে শুরু করে টিসিএএস অ্যালার্মের কারণে।
অর্থাৎ, সেই সময়ে দুই প্লেনই একসঙ্গে নিচে নামতে শুরু করে।
টিসিএএস সিস্টেমের ভূমিকা: একটি জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তি
ভিডিওটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে আপনাদেরকে বলে রাখা ভালো যে, প্লেনের টিসিএএস সিস্টেম এমন এক ধরনের অটোমেটিক সিস্টেম, যেটা প্লেনের উচ্চতা, গতি এবং প্লেনের অভিমুখের উপর নির্ভর করে প্লেনের চারিপাশে একটি থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করে এবং অনবরত সেইসব ইনফরমেশন সেই সব প্লেনের চারিপাশে থাকা অন্যান্য প্লেনগুলোতে জানাতে থাকে। এই থ্রিডি ম্যাপের অন্য কোনো প্লেন প্রবেশ করলে টিসিএএস সিস্টেম অটোমেটিকভাবে একটি প্লেনকে নিচে এবং অন্য একটি প্লেনকে ওপরে উঠতে নির্দেশ দেয়।
কিন্তু এখানে পিটার মিলসানের নির্দেশে ফ্লাইট ২৯৩৭ তার উচ্চতা কমাতে শুরু করায় পিটার ভেবেছিল সবকিছু একদম সঠিক হয়ে যাবে এবং কোনো বিপদ ঘটবে না। কিন্তু এই সময় পিটার জানতো না যে, ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১-এর উচ্চতাও কমাতে শুরু করেছে। ফ্লাইট ২৯৩৭-এর সঙ্গে যোগাযোগ করবার জন্য ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১-এর সঙ্গে পিটারের যোগাযোগ করা কোনোভাবে সম্ভব হয়নি। মূল রাডার সিস্টেমের আন্ডারে মেইনটেনেন্সের জন্য পিটার ব্যাকআপ মোড ব্যবহার করছিল, যেখানে ভিজ্যুয়াল এইচটিসি (Visual HTC) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন ডিসপ্লে হয় না, যেটা এই ধরনের পরিস্থিতিতে রেড অ্যালার্ট সহ তীব্র আওয়াজ করতে থাকে। আর ঠিক এই কারণেই পিটার এই পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো রকম উপলব্ধি করতেই পারেনি। সবকিছু সঠিক আছে ভেবে পিটার সেকেন্ড রাডার সিস্টেমে ফ্লাইট এইএফ ১১৩৫-এর ল্যান্ডিং এর ব্যাপারে মনোযোগ দেয়। অন্যদিকে, ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ এবং ফ্লাইট ২৯৩৭, দুটি প্লেনেই টিসিএএস সিস্টেমের অ্যালার্ম একটানা বেজে চলেছে, আর দুই প্লেনের পাইলটই প্লেনের উচ্চতা কমাতে শুরু করেছে।
চূড়ান্ত সংঘর্ষ: এক মর্মান্তিক পরিণতি
ঘটনার ১৯ সেকেন্ড আগে পিটার আবারও ফ্লাইট ২৯৩৭-এর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পন্ন করে এবং জানায় সে ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ তাদের ঠিক ডান দিক থেকে আসছে। কিন্তু আসলে ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ তাদের বাম দিক থেকে আসছিল। আর ঠিক এই কারণে ফ্লাইট ২৯৩৭-এর পাইলট যখন তার ডান দিকে দেখে, তখন কোনো ফ্লাইট তাদের নজরে আসেনি। কিন্তু এই ঘটনার ঠিক ৩ সেকেন্ড আগে ফ্লাইট ২৯৩৭-এর পাইলট হঠাৎ দেখতে পায় ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ তাদের বাম দিক থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে। সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট ২৯৩৭-এর পাইলট প্লেনকে উপরে তোলবার জন্য নিজের সব চেষ্টা কাজে লাগিয়ে দেয়, কিন্তু নিচের দিকে যাওয়া প্লেনকে হঠাৎ করে কিছু সেকেন্ডের মধ্যে উপরের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব।
আর ঠিক ৩ সেকেন্ড পরে, মানে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে, প্রায় ৩৪,৮০০ ফিট উচ্চতায় ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ ফ্লাইট ২৯৩৭-কে দুই খন্ডে ভাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এই সংঘর্ষের ফলে ফ্লাইট ২৯৩৭ দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায় এবং সামনের দিকের অংশটি ভার্টিক্যালি পড়ে মাটির সঙ্গে এসে ধাক্কা খায়। আর পেছনের অংশ বেশ কয়েকবার বাতাসে ঘুরপাক খাওয়ার পরে অবশেষে মাটিতে এসে পড়ে। এই সংঘর্ষ এতটা ভয়াবহ ছিল যে, ফ্লাইট ২৯৩৭-এ থাকা ৪৫ জন বাচ্চাসহ ৬০ জন প্যাসেঞ্জার এবং ৯ জন ক্রু মেম্বার, সকলে একসাথে মারা গিয়েছিল। অন্যদিকে, এই সংঘর্ষের ফলে ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১-এর লেজ সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং প্লেনটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে উপরের দিকে গোল হয়ে পাক খেতে থাকে। আর প্রায় ২ মিনিট ৫ সেকেন্ড পর ডিএইচএল ফ্লাইট ৬১১ শেষমেষ ঘটনাস্থল থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের ওপর ভেঙে পড়ে এবং ফ্লাইটে থাকা দুজন ক্রু মেম্বারদের মধ্যে দুইজনই মারা যায়। মানে, এই ঘটনার পরে কেউ বাঁচেনি। দুটি প্লেন মিলে একটি ঘটনার মাধ্যমে ৭১ জন মারা যায়।
তদন্ত ও শিক্ষা: এভিয়েশন নিরাপত্তার গুরুত্ব
পরে ঘটনার তদন্তর পর জানা যায়, এয়ারস্পেস কন্ট্রোল কোম্পানি স্কাইগাইডের অবহেলাতেই এই ঘটনা ঘটেছিল। কারণ যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন দুখানা ওয়ার্ক স্টেশন অপারেট করবার জন্য কেবল একজন কন্ট্রোলার দায়িত্বে ছিলেন, যার ফলে ওই একজন ব্যক্তি এই ঘটনার সময় ফ্লাইট এইএফ ১১৩৫-এর ল্যান্ডিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এগুলো ছাড়াও মূল রাডার সিস্টেম মেইনটেনেন্সের কারণে কাজ করছিল না, তাই পিটারকে বাধ্য হয়ে ব্যাকআপ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ব্যাকআপ সিস্টেমে ভিজ্যুয়াল এইচটিসি-এর অ্যালার্মের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম না থাকার কারণে পিটার এই দুর্ঘটনার কোনো রকম ইন্ডিকেশন পায়নি। এসব ছাড়াও গ্রাউন্ড বেস অপটিক্যাল পলিউশন সিস্টেম, যা দুটি প্লেনের সংঘর্ষের আন্দাজ করে, সেটাও সংঘর্ষের প্রায় আড়াই মিনিট আগে মেইনটেনেন্সের কারণে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আর আশ্চর্যজনক ব্যাপার এটাই যে, পিটার মিলসন এইসব ব্যাপারে কিছুই জানতো না।
এই রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় যে, প্লেন দুটি একে অপরের দিকে এগিয়ে আসছিল, সেই সময় ঘটনাস্থল থেকে ১০৮০ কিলোমিটার দূরে জার্মানির একটি এয়ার স্পেস কোম্পানিতে কর্মরত একজন কন্ট্রোলার এই দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কথা বুঝতে পারে। কিন্তু এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কন্ট্রোলার তার এয়ার স্পেসের বাইরে থাকা প্লেনের সঙ্গে কোনোভাবে কন্টাক্ট করতে পারবে না। যে কারণে প্রায় ১১ বার পিটার মিলসনকে ফোন করে এই ঘটনার সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছিল সে। কিন্তু এদিকে মেইনটেনেন্সের কারণে টেলিফোন বন্ধ থাকায় তার এই চেষ্টা সফল হয়নি। এবং এরকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়।
উপসংহার
আজকের পোস্টটি এইটুকুই। যদি ইনফরমেশনগুলি ভালো লেগে থাকে, তবে অবশ্যই পোস্টটিকে লাইক করবেন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। এবং 'বাংলাকথা' চ্যানেলে নতুন হলে সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে। আমার গেমিং চ্যানেলের লিংকও ভিডিও ডেসক্রিপশনে রয়েছে, গিয়ে চেক করতে পারেন।
কীওয়ার্ডস: বিমান দুর্ঘটনা, আকাশে সংঘর্ষ, এভিয়েশন নিরাপত্তা, বাশকিরিয়ান এয়ারলাইন্স, ডিএইচএল ফ্লাইট, স্কাইগাইড, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, টিসিএএস সিস্টেম, পিটার মিলসন, সুইজারল্যান্ড, প্লেন ক্র্যাশ, বিমান সুরক্ষা, মর্মান্তিক ঘটনা, এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি, অজানা কাহিনী।
