বাস্তব জীবনের সুপারহিরো: মানবতা এখনো বেঁচে আছে!

 


বাস্তব জীবনের সুপারহিরো: মানবতা এখনো বেঁচে আছে!

বন্ধুরা, আজকাল আমাদের কাছে একটা ধারণা খুবই স্পষ্ট। আর সেটা হলো, মানুষের মতো স্বার্থপর প্রাণী পৃথিবীতে আর একটাও নেই। সত্যিই মানুষ খুবই স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজের স্বার্থে গাছ কাটা থেকে শুরু করে কলকারখানার বিষাক্ত গ্যাস পরিশুদ্ধ না করেই বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দিচ্ছে, যার ফলে কষ্ট পাচ্ছে আমাদের এই প্রকৃতি মাতা। যে পৃথিবী আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে, লালন-পালন করেছে, তাকেই মারতে বসেছি আমরা।

কিন্তু এই পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছেন, যাদেরকে আমরা উদাহরণ হিসাবে নিতে পারি। আজ 'অদ্ভুত দশ'-এর এই পোস্টে এমনই কিছু আসল সুপারহিরোর কথা আপনাদেরকে বলব, যাদের মধ্যে কোনো স্বার্থপরতা বা অহংকারের লেশমাত্র নেই। তো চলুন, শুরু করা যাক!

১. মানবিক চোর: করাচির ভাইরাল ভিডিও

বলা হয়, চোর-ডাকাতের কোনো ইমান বা কোনো দয়া-মায়া থাকে না। কিন্তু এই ঘটনাটি করাচি, পাকিস্তানের এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরে সবার ধারণা বদলে দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ডেলিভারি বয় একটি বাড়িতে ডেলিভারি দিয়ে এসেছে। ডেলিভারি পৌঁছে দিয়ে যখন সে তার বাইকে ফেরত আসে, তখন পেছন দিক থেকে দুজন লোক একটি বাইকে করে আসে। তারা দুজনেই মাস্ক পরেছিল, ফলে তাদের মুখ দেখা যাচ্ছিল না। পেছনের লোকটি বাইক থেকে নেমে ওই ডেলিভারি বয়ের কাছ থেকে সমস্ত মূল্যবান জিনিস ও খাবারগুলো চুরি করে নিচ্ছিল। কিন্তু সেকেন্ড পরেই তাদেরকে সেই ডেলিভারি বয়ের সাথে কথাবার্তায় দেখা যায়। এবং কিছুক্ষণ পরে ডেলিভারি বয়টি কাঁদতে শুরু করে। তখন চোর দুটি তাকে তার সমস্ত জিনিস ফিরিয়ে দেয় এবং তাকে সান্ত্বনাও দেয়। তাকে সাবাসি দেয়, তার সাথে হ্যান্ডশেকও করে এবং তারা তারপর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উপদেশ দিয়ে কেটে পড়ে। এই চোর দুটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সব সময় চোরেরা খারাপ হয় না, কিছু কিছু মানুষ ভালোও হয়। সত্যিই অবাক করার বিষয়, তাই না? এই ভিডিওটি থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট – পরিস্থিতি খারাপ হয়, মানুষ নয়।

২. সদানন্দের মহৎ কাজ: বাছুর উদ্ধার

৪ঠা অক্টোবর, ২০২০, সদানন্দ নামে এক ভদ্রলোক ইতাহী ব্যারেজে দাঁড়িয়ে মনিপুর নদীর উচ্ছ্বসিত রূপ ক্যামেরা বন্দি করছিলেন। তখন দেখা যায় যে, একটি ছোট্ট বাছুর নদীর ঘাটে চলে আসে এবং সেই উচ্ছ্বসিত নদীর মধ্যে পড়ে যায়। সেই উদ্দাম নদীতে পড়ে যাওয়ায় সেই বাছুরটির মৃত্যু অবধারিত ছিল। কিন্তু তখনই একটি সহৃদয় ব্যক্তি সেই নদীতে নিজের প্রাণের পরোয়া না করে ঝাঁপ দেন। নদীতে বাঁধ পড়া সত্ত্বেও সে বাছুরটিকে ধরে ফেলে এবং আস্তে আস্তে পাড়ের দিকে নিয়ে আসে। এই সময় আরেকজন সহৃদয় ব্যক্তি তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং তারা দুজনে মিলে সেই বাছুরটিকে পুরোপুরি সুস্থ-সবলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপরে যে ব্যক্তি সেই ভিডিওটি রেকর্ড করেছিল, সে তাদেরকে গিয়ে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানায় এই মহৎ কাজটি করবার জন্য। সত্যিই হয়তো এরকম কিছু মানুষের মধ্য দিয়েই আজও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব বেঁচে রইল।

৩. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: মাঠের বাইরেও চ্যাম্পিয়ন

পরের ঘটনাটি পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। ঘটনাটি ছিল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল ম্যাচের। ক্রিশ্চিয়ানো রিয়াল মাদ্রিদের একজন ফুটবলার ছিল তখন। তিনি খেলা শুরু হওয়ার আগে নিজের সতীর্থদের সাথে শর্ট প্র্যাকটিস করছিলেন। এরকম সময় তাঁর একটি শর্ট গিয়ে লাগে একটি বাচ্চার মুখে। সিআর সেভেন সেটি দেখা মাত্র চমকে ওঠে। তাঁর এই রিঅ্যাকশন দেখেই আপনারা বুঝতে পারছেন।

প্র্যাকটিস শেষ হওয়ার পর তাঁর সতীর্থ এবং সে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিল ম্যাচ শুরু করবার জন্য, ঠিক তখনই বাকি সকল প্লেয়ার ড্রেসিংরুমে চলে গেলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যায়নি। সে দৌড়ে দৌড়ে পুরো মাঠটি ক্রস করে সেই ছেলেটির কাছে আসে এবং তাকে তার নিজের জার্সিটি গিফট করে। পরবর্তীকালে বাচ্চাটি ইন্টারভিউতে বলে, তার কাছে সিআর সেভেনের আসা তার ব্যথাকে সাথে সাথে কমিয়ে দিয়েছিল এবং এই ঘটনা তার জীবনে পাঁচটি সেরা ঘটনার মধ্যে একটি।

৪. মহম্মদ সালা: সহানুভূতিশীল তারকা

আর এটা যদি আপনার পাবলিসিটি মনে হয়, তাহলে ভেবে দেখুন মহম্মদ সালার কথা। মহম্মদ সালাকে পছন্দ করে অসংখ্য ফুটবল প্রেমিকরা, সঙ্গে আমিও। কিন্তু ব্রিটেনের একটি বাচ্চা ছেলে তাকে অত্যন্ত বেশি পছন্দ করে। যে কারণে মহম্মদ সালা লিভারপুল প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড থেকে গাড়ি করে নিজের বাসস্থানে ফিরছিল, তখন সেই বাচ্চাটি তার বন্ধুর সাথে মহম্মদ সালাকে ফলো করতে থাকে এবং বলতে থাকে যে, "আমি আপনাকে খুব পছন্দ করি।" ঠিক তখনি একটি লাইট পোলে সে ধাক্কা খায় এবং তার নাক খুব বাজেভাবে ফেটে যায়। সালা সেটি দেখে গাড়ি থামিয়ে সাথে সাথে গাড়িটিকে ঘোরায়, সেই বাচ্চাটিকে নেয়, হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং তার সম্পূর্ণ খেয়াল রাখে। বাচ্চাটিকে নিয়ে মহম্মদ সালা নিজে গাড়ি করে বাচ্চাটির বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এটা সত্যিই মনুষ্যত্বের প্রমাণ। পরবর্তীকালে এই বাচ্চাটি ইন্টারভিউতেও একই কথা বলেছে – তার জীবনে সেরা পাঁচটি ঘটনার মধ্যে এটি একটি।

৫. ট্রাফিক পুলিশের মানবতা: অবলা প্রাণীর প্রতি দয়া

২০২৫ সালের এই ঘটনাটি পশুপ্রেমীদের খুবই ভালো লাগবে। ভারতের ট্রাফিকের হাল আমরা সকলেই জানি, প্রত্যেক সময় ট্রাফিক লেগেই থাকে। এরকম সময় একটি কুকুর একটি ট্রাফিক পুলিশের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। কুকুরটি আসলে রাস্তা পার করতে চাইছিল, কিন্তু অত বেশি ট্রাফিক থাকার কারণে সে করতে পারছিল না। কিন্তু সেই ট্রাফিক পুলিশটি এতটাই সহৃদয়বান ছিলেন যে, তিনি ওই গাড়িগুলোকে থামান এবং কুকুরটিকে রাস্তা পার করতে সাহায্য করেন। পুলিশ চাইলে কুকুরটিকে বকা দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে পারত, কিন্তু তিনি সেটা করেননি। তিনি অবলা জীবটির সাহায্য করেছিলেন। এরকমই আরেকটি ঘটনা দেখা যায়, সেখানেও দেখা যায় একজন পুলিশম্যান একটি কুকুরকে রাস্তা পার করতে সাহায্য করছেন। এবং ইন্দোনেশিয়ান একজন পুলিশম্যান একটি বিড়ালকে রাস্তা পার করতে সাহায্য করছেন। সিরিয়াসলি, এই ঘটনাগুলি দেখে সত্যি চোখে জল চলে আসে। আর এরকমই ভিডিও যদি আরও পেতে চান, অবশ্যই লাইক করে দেবেন। সত্যি, এরকম ভিডিও বানাতেও ভালো লাগে।

৬. থাই পুলিশের 'যাদু কি ঝাপ্পি': ভালোবাসার শক্তি

আপনাদের হয়তো 'মুন্না ভাই এমবিবিএস' মুভির 'যাদু কি ঝাপ্পি'-র কথাটা নিশ্চয়ই মনে আছে। মুন্না ভাইয়ের 'যাদু কি ঝাপ্পি' রাগান্বিত দীনেশ বাবুকেও শান্ত করে দিয়েছিল। ঠিক এই রকমই ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডের কুয়াং থানাতে। যখন একজন ব্যক্তি চাকু হাতে পুলিশ স্টেশনে ঢুকে আসে, তখন পুলিশ অফিসার অনুরূপ মালি তার বন্দুকটি না বার করে সেই ব্যক্তিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন এবং তাকে চাকুটি ফেলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এবং যখন সে চাকুটি ফেলে দেয়, তখন পুলিশ তাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে এবং তার সমস্ত কথা শোনে। তারপর সেই ব্যক্তি কাঁদতে কাঁদতে বলে যে, সে একজন ম্যাজিশিয়ান এবং তার কোনো বাজে উদ্দেশ্য ছিল না। সে খুবই গরিব এবং চৌকিদারি করবার জন্য তাকে একজন নিয়োগ করেছিল এবং তিন দিন হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে স্যালারি দেয়নি। শুধু তাই নয়, তার গিটারটিও চুরি করে নিয়েছে। সে বুঝতে পারছে না তার কী করা উচিত, তাই সে এরকম ঘটনা করে ফেলেছে। সত্যিই ঘটনাটি দুঃখদায়ক। কিন্তু সত্যি, এটা আবারও প্রমাণিত হলো – সহানুভূতি ও মিষ্টি কথার কাছে সমস্ত কিছু হার মেনে যায়। এই অফিসারটির জন্য মন থেকে স্যালুট। এবং আপনারাও কক্ষনো মাথা গরম করে কাউকে খারাপ কথা বলবেন না, বরং মিষ্টি কথা বলে তার মন জয় করবার চেষ্টা করবেন।

৭. জন্মদিনের চমক: লকডাউনে পুলিশের মানবিকতা

এটি কিছুদিন আগের ঘটনা। করোনাভাইরাসের জন্য ইন্ডিয়াতে সম্পূর্ণ লকডাউন চলছিল এবং জরুরি জিনিসপত্র ছাড়া কোনো জিনিসের জন্য বাজারে গেলে পুলিশ ইচ্ছামত মারধরও করেছিল। কিন্তু মারধর ছাড়াও পুলিশেরা কিছু মনুষ্যত্বমূলক কাজ করেছিল। যেমন, পঞ্চাকুলা পুলিশ একটি বাড়ির মালিকের নাম জিজ্ঞাসা করে। তখন সেই বাড়ির মালিক খুবই রেগে গিয়ে বলতে থাকে যে, সে একজন সিনিয়র সিটিজেন এবং সে একা একা এখানে থাকে, তাকে যেন বিরক্ত করা না হয়। এ কথা শোনার পরেও পুলিশ তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করতে থাকে, যতক্ষণ না ওই ব্যক্তি নাম বলে। শেষমেষ ব্যক্তিটি নিজের নাম বলে। তখন পুলিশ তার নামে কনফার্ম হয়ে যায় এবং সেই ব্যক্তি যখনই গেটের কাছে আসে, তখন তাকে 'হ্যাপি বার্থডে' উইশ করা শুরু করে। সেই ব্যক্তিটি খুবই ইমোশনাল হয়ে কাঁদতে থাকেন এবং বলেন যে, তার ছেলেমেয়েরা বাইরে থাকে, সে এখানে একা এতদিন আবদ্ধ হয়ে থাকছে। তখন পুলিশ সেই ব্যক্তিকে দিয়ে কেক কাটেন এবং 'হ্যাপি বার্থডে' উইশ করে। নিঃসন্দেহে সেই ব্যক্তি খুবই খুশি হয়ে গিয়েছিলেন। সত্যিই এরকম আচরণ অত্যন্ত বিরল, অন্তত আমার লাইফে এরকম দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।

৮. হৃদয়বান ব্যক্তি ও ভিখারি: এক হাজার টাকার শিক্ষা

এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি স্যুট-বুট পরা লোক একটি ভিখারির কাছ থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য এক টাকা চায় এবং সেই ভিখারি তাকে নির্দ্বিধায় এক টাকা দিয়ে দেয়। সেই লোকটি সেই ভিখারির কাছ থেকে ব্রেকফাস্ট করবার জন্য ডাম্পলিং চায় এবং সেই ভিখারিটি নিজের আহারের জন্য রাখা অবশিষ্ট ডাম্পলিংটাও তাকে দিয়ে দেয়। সেই লোকটি সেখানে বসেই সেটি খায় এবং খাবার পর ভিখারিটিকে এক হাজার টাকা দেয়। ভিখারিটি প্রথমে সেটা নিতে চায় না, কিন্তু তারপর সেটা নেয় এবং সেই হৃদয়বান ব্যক্তি ওই ভিখারিটির বাড়িতে যায় ও তাকে নতুন পোশাক নিজের হাতে পরিয়ে দেয়। সত্যিই এরকম মানুষ পৃথিবীতে আরও কয়েকটি থাকলে হয়তো আরও বেশি ভালো হতো।

৯. কিয়ানু রিভস: মাটির কাছাকাছি থাকা তারকা

এখনকার দিনে আমরা অনেক ফিল্মস্টার দেখি এবং অনেক ইয়ংস্টার তাদেরকে চোখ বন্ধ করে ফলো করে, যারা কিনা একটি সিনেমা বেরোতে না বেরোতেই অহংকারে তাদের পা মাটিতে পড়ে না, ভিড় দেখলে। কিন্তু আমরা এখানে কথা বলছি ইন্টারনেটের সবথেকে পছন্দের ছেলে কিয়ানু রিভসকে নিয়ে। কিয়ানু রিভস এত বড় একজন আন্তর্জাতিক তারকা হওয়া সত্ত্বেও তার মাটির সাথে থাকার অভ্যাস কোনোদিনও যায়নি। সে অনেক সময় গরিব লোকেদের সাহায্য করে থাকে, কিন্তু সেটা কখনোই অন-ক্যামেরা না। সে মাঝে মাঝে অন্যরূপে সেজে লোকাল ট্রেনে বাসে যাতায়াত করে, পাবলিক প্লেসে বসে খাওয়া-দাওয়া করে। কিন্তু অনেক সময়ই সে ক্যামেরা বন্দি হয়ে গেছে। এরকমই একদিন তিনি লোকাল ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন এবং কোনো এক ব্যক্তি তাকে চিনতে পেরে ভিডিওটি শ্যুট করে। তিনি এখানে একটি মহিলাকে নিজে উঠে গিয়ে তার সিটটি দিয়ে দিলেন। তার সম্বন্ধে এরকম অনেক ভিডিও দেখা যায়। সম্প্রতি দেখা গেছে, তিনি ১ মিলিয়নেরও বেশি ডলার একটি চ্যারিটিতে ডোনেট করেছেন, কিন্তু এ সম্বন্ধেও তিনি কক্ষনো উল্লেখ করেননি। আর বর্তমানে 'সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭' (Cyberpunk 2077) এ তার অবদানের জন্য, সত্যি বলতে আমাদের মতো গেমাররাও অত্যন্ত খুশি তার প্রতি।

১০. প্যাট্রিক কিলঞ্জো: পশুদের রক্ষাকর্তা

আপনি আপনার পাশাপাশি অনেক ধরনের পশুপাখি দেখতে পান। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মানুষের উপর নির্ভরশীল, অর্থাৎ তাদের খাদ্য ও পালন মানুষ দ্বারাই হয়ে থাকে, যা কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি। কিন্তু যখন জঙ্গলে পশুদের ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে, তখন তাদেরকে কে সাহায্য করে? প্যাট্রিক কিলঞ্জো একজন কিডনি সমস্যার রোগী। ডাক্তার তাকে জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন যে, সে কোনোদিনই ঠিক হবেন না। এরকমই সময় তিনি একদিন সোবো ওয়েস্ট ন্যাশনাল পার্কের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন একটি হাতির বাচ্চাকে দেখতে পান, যে কিনা মৃতপ্রায় খাবারের জন্য। সেই ন্যাশনাল পার্কের সব প্রাণীদের অবস্থাই প্রায় একই রকম ছিল। তাই তিনি ডিসাইড করেন, এই প্রাণীগুলোকে তিনি সাহায্য করবেন ও যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, তিনি ততদিন অন্তত কোনো প্রাণীকে জল না পাওয়ার জন্য মরতে দেবেন না। তিনি মনে মনে এটাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তিনি মনে মনে ভেবে নেন যে, তার জীবনের তো কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই সে বাকি জীবনটা এই পশুদের সাহায্য করেই কাটিয়ে দেবেন। তারপর তিনি বাড়ি যান ও নিজের টাকায় গাড়ি ভাড়া করে জল ভরে ১৪০ কিলোমিটার দূর থেকে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রিপ ওই ন্যাশনাল পার্কে করতে থাকেন এবং সেই পশুগুলোকে জলের যোগান দিতে থাকেন।

যখন একটি মানুষ তাকে বলেন যে, "এটা প্রকৃতির নিয়ম। এই পশুগুলোকে যেন সে এই একই রকম অবস্থায় ছেড়ে দেয় এবং মরতে সাহায্য করে।" তখন সে তার উত্তরে বলে যে, "এই খরা প্রকৃতির নিয়মে হচ্ছে না। এই খরা হচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর জন্য, যা মানুষ দ্বারা সৃষ্টি। তাই এর প্রতিকার মানুষকেই করতে হবে।" এবং তারপর থেকে তার এই অভিযানে অনেক মানুষ সামিল হয়েছেন। তিনি এই কাজ এক অক্লান্তভাবে করে যাচ্ছেন। সত্যিই এই মানুষটি রিয়েল লাইফ হিরো। আর একটি আনন্দের বিষয় হলো, এই লোকটির গাড়ি দেখলেই সব পশুপাখিগুলি দৌড়ে দৌড়ে তার গাড়ির চাকার দিকে চলে আসে জল খাওয়ার জন্য, যা তাকে আরও মনোবল যোগায় এই কাজটি কন্টিনিউ রাখার জন্য।

১১. নারায়ণ কৃষ্ণন: দরিদ্রের ভগবান

আচ্ছা, কেউ কি গরিবদের পেট ভরানোর জন্য নিজের লাখ লাখ টাকার মাইনের চাকরি ছেড়ে গরিবের পেট ভরাতে থাকে? এরকমই একজন মানুষ তামিলনাড়ুর মাদুরায় থাকে, যার নাম নারায়ণ কৃষ্ণন। তিনি ইউরোপের লাখ লাখ টাকার মাইনের চাকরি ছেড়ে ভারতে এসে একটি এনজিও তৈরি করেন, যার নাম 'নারায়ণ ট্রাস্ট অর্গানাইজেশন'। এনার দিন শুরু হয় ভোর ৪টের সময় এবং প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ লোকের পেট ভরান। এই এনজিওতে এতদিনে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ লোকের পেট ভরিয়েছে। তাঁর এই কাজের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকা থেকে ২২ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এই এনজিওর জন্য তিনি অনেক টাকা চাঁদা পান, কিন্তু এই টাকা দিয়ে তার মাসে মাত্র ২২ দিনই চলে। বাকি ৮ থেকে ৯ দিন তার নিজের টাকা থেকেই তার ট্রাস্টের খরচা চলে। শুধুমাত্র গরিবদের তিনি খেতেই দেন না, নিজের হাতে স্নান করিয়ে দেন, চুল কেটে দেন। সত্যি, নারায়ণ কৃষ্ণন গরিব লোকের জন্য ভগবানের থেকেও অনেক অনেক বেশি কিছু। এটা সেখানকার গরিব মানুষেরাই সবথেকে ভালো জানে।

উপসংহার

তো বন্ধুরা, আজকের পোস্টটি এইটুকুই। আশা করি ভালো লেগেছে। যদি ভালো লেগে থাকে, তো ডেফিনেটলি লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার দেবেন। পাশাপাশি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ভিডিও সবার আগে দেখতে। পুরনো 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি নতুন 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেল। বাকি সকল চ্যানেল ফেক।

কীওয়ার্ডস: বাস্তব জীবনের সুপারহিরো, মানবতা, মানবিক কাজ, অনুপ্রেরণামূলক গল্প, সহানুভূতি, নিঃস্বার্থতা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, মহম্মদ সালা, কিয়ানু রিভস, প্যাট্রিক কিলঞ্জো, নারায়ণ কৃষ্ণন, ট্রাফিক পুলিশ, থাই পুলিশ, ডেলিভারি বয়, চোর, বাছুর উদ্ধার, জন্মদিনের চমক, দরিদ্র সেবা, পশুপ্রেম, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সমাজসেবা, ভালো কাজ, ইতিবাচক খবর।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال