এরিয়া ফিফটি ওয়ান: পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ও তার অজানা কাহিনী!

 এরিয়া ফিফটি ওয়ান: পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ও তার অজানা কাহিনী!

বন্ধুরা, আপনি নিশ্চয়ই এরিয়া ফিফটি ওয়ান (Area 51) এর কথা শুনেছেন। এরিয়া ফিফটি ওয়ানের আসল নাম 'নেভাডা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জ'। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এরিয়া ওয়ান, এরিয়া টু, এরিয়া থ্রি - এরকম নাম করে কয়েকটি অঞ্চলকে ভাগ করা হয়েছিল। এই অংশগুলোতে সাধারণত নিউক্লিয়ার বোমের টেস্ট করা হতো। এই এরিয়া ফিফটি ওয়ান বাকি অংশগুলির মতোই সাধারণ ছিল এবং এগুলোর কোনোটির মধ্যেই কোনো অসঙ্গতি ছিল না। কিন্তু এরিয়া ফিফটি ওয়ান বিগত কয়েক বছর ধরে ওখানে ঘটা রহস্যময় ঘটনার জন্য বিখ্যাত। আর এই রহস্যময় ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে ইউএফও ক্র্যাশ, এলিয়েনদের ওপর গবেষণা এবং আরও অনেক অনেক কাহিনী, যা প্রচলিত আছে এই এরিয়া ফিফটি ওয়ানকে নিয়ে।

আমি বলছি না যে, এরিয়া ফিফটি ওয়ানের ওপর করা অভিযোগ সত্য বা ঠিক। কিন্তু এখানে এমন কিছু তো আছে, যার জন্য এরিয়া ফিফটি ওয়ান পুরো পৃথিবীর কাছে সন্দেহজনক এবং রহস্যময়। তাই আজ 'অদ্ভুত দশ'-এর এই পোস্টে আমরা সেই সব ঘটনা এবং তথ্য সম্পর্কে জানব, যে সব কারণে পুরো পৃথিবীর কাছে এরিয়া ফিফটি ওয়ান এত বদনাম। তো চলুন, পোস্টটিকে শুরু করা যাক!

১. এরিয়া ফিফটি ওয়ান ও এলিয়েনের ছবি

এক বিজ্ঞানী এলিয়েনের এই ছবিটি প্রকাশ করেন। তার দাবি, আমেরিকার টপ সিক্রেট অঞ্চল এরিয়া ফিফটি ওয়ানে এলিয়েনদের নিয়ে গবেষণা করবার সময় এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। সায়েন্টিস্টের কথায়, তিনি এরিয়া ফিফটি ওয়ান থেকেই এই ছবিটি পান। এক্সামিনার ওয়েবসাইটের অনুসারে, এই ছবি ইউএফও এক্সপার্ট টম ক্যানিটকে (Tom Kenit) পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, এই ছবিটি ১৯৪৫ সালে তোলা হয়েছে। কিন্তু খেয়াল করবার বিষয় হচ্ছে, এই বছরই রসওয়েলে ইউএফও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছিল, যে বিষয়টি নিয়ে আমরা পরের পয়েন্টেই আলোচনা করব।

এই ব্যাপারে ইউএফও এক্সপার্ট টম ক্যানিট বলেছেন যে, তিনি এই ছবির সত্যতা যাচাই করবার জন্য নিউ ইয়র্কের কোডাক ফটো বিশেষজ্ঞদের সাথে দেখা করেন। এবং সেই ফটো বিশেষজ্ঞরা জানায় যে, এই ছবিটি ১৯৪৫ সালেই তোলা হয় এবং ফটোতে কোনো রকম ফটোশপ করা হয়নি। ঘটনাটি সত্যিই রহস্যময়। ছবিতে অন্য গ্রহের প্রাণীকে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ক্যানিটের মতে, এই এলিয়েনের উচ্চতা চার ফুট। এই ছবিটির সত্যতা কতখানি, তা এখনো জানা যায়নি।

২. রসওয়েল ইউএফও ইনসিডেন্ট (Roswell UFO Incident)

নিউ মেক্সিকোর একটি শহর রসওয়েল। ২রা জুলাই, ১৯৪৭ সালের পর রসওয়েল আলোচিত হয়েছিল সারা বিশ্বব্যাপী, কারণ সেদিন মিলিটারি বেসের কাছে একটি ইউএফও ক্র্যাশ ঘটে। বার্নেট এ. নামক একজন তেল অনুসন্ধানকারী (Oil Explorer) রসওয়েলের মরুভূমিতে কাজ করছিলেন, সেই সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে, যা তিনি নিজের চোখে দেখেন। শোনা যায় যে, ঘটনাগ্রস্ত ইউএফও থেকে আমেরিকান সেনারা এলিয়েনদের মৃতদেহ পেয়েছিল।

এফবিআইয়ের প্রকাশিত একাধিক পত্র থেকে প্রমাণ হয়েছে, ১৯৫০ সালের আগে নিউ মেক্সিকোতে এলিয়েনদের আবির্ভাব ঘটেছিল। এফবিআই তাদের আসার বা উপস্থিতির ফাইল অনলাইন রিসোর্স 'দা ওয়ান' (The Vault) প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যে এক অধিকারিক পত্র ২২শে মার্চ, ১৯৫০ সালে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত এফবিআই কর্মী গ্রে হোটেট (Guy Hottel) এফবিআইয়ের ডিরেক্টরকে লিখেছিলেন। তিনি জানান, রসওয়েলের তিনজন এয়ারক্রাফট কর্মী দুটি ইউএফওকে দেখেছে। এছাড়াও এফবিআইয়ের আরও একটি গোপন ফাইলও ফাঁস করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, আমেরিকান পুলিশ ও সেনা অধিকারিকরা ১৯৫০ সালে উটাহ রাজ্যে একটি ইউএফও ক্র্যাশ হতে দেখেছিল। আমেরিকার এই দুর্ঘটনাতেও এলিয়েনদের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকান আধিকারিকরা এই ঘটনার সত্যতার উপর পর্দা রেখেছে এবং এইসব বিষয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজও এরিয়া ফিফটি ওয়ানে হয়, যে কারণে বাইরের মানুষের এরিয়া ফিফটি ওয়ানে প্রবেশ আজও নিষিদ্ধ। এমনটাই মনে করে অনেক বিশেষজ্ঞ।

৩. গোপন গবেষণা (Secret Research)

কিছু লোক মনে করেন, এরিয়া ফিফটি ওয়ানে কোনো এক সিক্রেট বাঙ্কারে এলিয়েন ও মানুষকে নিয়ে গবেষণা চলছে। শোনা যায়, সেখানকার বিজ্ঞানীরা মানুষ ও এলিয়েনদের সংমিশ্রণে নতুন ধরনের এক জীব তৈরি করছে এবং এই গবেষণাতে তারা নাকি সাফল্যও পেয়েছে। বলা হয় যে, রসওয়েলের ইউএফও ক্র্যাশ থেকে পাওয়া এলিয়েনের ডিএনএ (DNA) এবং মানুষের ডিএনএ-কে একসাথে মেলানো হচ্ছে। তবে এর কোনো মজবুত প্রমাণ নেই এবং এটি কতটা সত্য, তা আমার জানা নেই।

৪. জেটা রেজিকুলি স্টার সিস্টেম (Zeta Reticuli Star System)

ইউএফওলজিস্টদের মতে, রসওয়েলের যে ইউএফও দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সে এলিয়েনরা দক্ষিণ মহাকাশে অবস্থিত 'ডাবল স্টার সিস্টেম' (Double Star System), যার নাম জেটা রেজিকুলি স্টার সিস্টেম, এর কোনো একটি গ্রহ থেকে এসেছিল। আমেরিকার ওহাইও-এর এক প্রফেসর ১৯৭০ সালে ওই ইউএফও দুর্ঘটনাকে এই সোলার সিস্টেমের সাথে যুক্ত করেন। মার্ক জিরোফিস (Mark Zerofis) নামক এই প্রফেসরের দাবি ছিল যে, তিনি ১৯৬১ সাল থেকে ইউএফও দ্বারা অপহরণের ঘটনাগুলোর একটি মানচিত্র তৈরি করেছেন।

এলিয়েন দ্বারা অপহরণ, অর্থাৎ অনেকে দাবি করেন যে, তাদের এলিয়েন অপহরণ করে তাদের উপর নানা রকম রিসার্চ করে। যদিও এই ঘটনাগুলি খুবই বিতর্কিত। অনেকেই এই ঘটনাগুলোকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু মাঝে মাঝে এই ঘটনাগুলির মধ্যে অনেকটা সত্যের আভাস থাকে। ১৯৬১ সালে প্রথম জন প্লেয়ারের সাথে এই ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, তার সাথে সাথে নিউ ইংল্যান্ডের এক দম্পতিকেও এলিয়েনরা অপহরণ করেছে এবং তাদের উপর এলিয়েন মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে বলেও তিনি জানান। প্রশাসন যখন এই ঘটনা জানতে পারে, তখন ওই দম্পতির মধ্যে মহিলাটিকে হিপনোটাইজ করা হয় সত্যতা জানবার জন্য। এবং হিপনোটাইজড অবস্থায় মহিলাটি একটি সোলার সিস্টেমের ছবি এঁকে দেন এবং বলেন যে, তিনি স্পেস শিপের বাইরে এই ছবিগুলো দেখেছেন। ১৯৭০ সালে তিনি এই ছবিটি এঁকেছিলেন। তখন কম্পিউটারের সিস্টেম অত উন্নত ছিল না, যার ফলে ওহাইও-এর প্রফেসরটি তাঁর ওই পুঁথি ওই চিত্রিত ছবিটির মতো একটি সোলার সিস্টেমের মডেল তৈরি করেছিলেন এলিয়েনদের ঠিকানা খোঁজবার জন্য। এবং তার এই মডেল দক্ষিণ মহাকাশে অবস্থিত জেটা রেজিকুলি সোলার সিস্টেমের সাথে মিলে যায়। এই ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর ওই মহিলাটি যে সত্যি কথাই বলেছিল, সেটা অনেকেই বিশ্বাস করে। কারণ এত নিখুঁতভাবে সোলার সিস্টেমের বর্ণনা করার ক্ষমতা ওই মহিলাটির ছিল না বলেই অনেকে মনে করেন।

৫. বয়েড বুশম্যানের বয়ান (Boyd Bushman's Statement)

২০০০ সালে বয়েড বুশম্যান (Boyd Bushman) একটি বয়ান দেন। তিনি বলেন যে, তিনি এরিয়া ফিফটি ওয়ানে একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার (Aerospace Engineer) হিসাবে কাজ করতেন। তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি এরিয়া ফিফটি ওয়ানের এমন এক সাইটে কাজ করতেন, যেখানে এলিয়েন ও ইউএফও সম্পর্কিত প্রজেক্টে কাজ করা হতো। তিনি একজন সিনিয়র সাইন্টিস্ট ছিলেন, যিনি খুবই অ্যাডভান্স এয়ারক্রাফটের উপর কাজ করছিলেন, যার কারণে তাঁর এরিয়া ফিফটি ওয়ানের অন্যান্য গোপন সাইডগুলোতে যাওয়ার অনুমতি ছিল।

তিনি আরও বলেন যে, ওই স্থানে কার্যরত কর্মী ছাড়াও কিছু এলিয়েনও ছিল। তিনি আরও বলেন যে, এই এলিয়েনগুলির উচ্চতা পাঁচ ফুট ছিল এবং তাদের আঙ্গুলগুলি লম্বাটে। এবং এরা খুবই বুদ্ধিমান ছিল। এরা নিজেদের মধ্যে কোনো মাধ্যম ছাড়াই কথা বলতে পারত এবং এদের বয়স ২০০ বছরের চেয়েও বেশি। তিনি বলেন, তিনি একটি ৩৮ মিটার ব্যাসযুক্ত ইউএফও-এর উপর কাজ করেছিলেন, যেটি অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি টেকনোলজি (Anti-Gravity Technology) দ্বারা কাজ করত। এই বয়ান কেউ কেউ সত্য বলে মনে করেন, আবার কেউ মিথ্যা। তবে ইউএস গভর্নমেন্ট স্বীকার করেনি যে, এই ব্যক্তি এরিয়া ফিফটি ওয়ানে কাজ করতেন। তবে আসল ব্যাপারটি কী, সেটা রহস্যের মধ্যেই রয়েছে। ইউএস গভর্নমেন্ট দাবি করে, ওখানে বিভিন্ন উন্নত টেকনোলজি এবং এয়ারক্রাফটের উপর কাজ করা হয়, যার জন্য স্থানটিকে বিশেষ সুরক্ষায় রাখা হয়। এলিয়েন সংক্রান্ত ঘটনাগুলি ইউএস গভর্নমেন্ট পাত্তাও দেয় না।

উপসংহার

আপনাদের কী মনে হয়? এরিয়া ফিফটি ওয়ানে কি সত্যিই এলিয়েন রয়েছে? অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। এরকমই আরও রহস্যময় ভিডিও পাওয়ার জন্য অবশ্যই লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন। পাশাপাশি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে।

কীওয়ার্ডস: এরিয়া ফিফটি ওয়ান, Area 51, এলিয়েন, UFO, রহস্যময় স্থান, গোপন গবেষণা, রসওয়েল ঘটনা, জেটা রেজিকুলি, বয়েড বুশম্যান, এলিয়েন অপহরণ, নেভাডা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জ, টপ সিক্রেট, ইউএফও ক্র্যাশ, মহাকাশ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, অজানা কাহিনী, অদ্ভুত ঘটনা, বিজ্ঞান, এফবিআই ফাইল।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال