পৃথিবীর ১০টি আশ্চর্য স্থান: রহস্যময় ঘটনা ও অজানা গল্প!

 


পৃথিবীর ১০টি আশ্চর্য স্থান: রহস্যময় ঘটনা ও অজানা গল্প!

বন্ধুরা, যখনই পৃথিবীর মানব ইতিহাস সম্পর্কে কথা বলা হয়, তখন বৈজ্ঞানিক এবং বহু ইতিহাসবিদদের মনে কিছু জটিল প্রশ্ন বাস্তবায়িত হয়। বহু প্রশ্নের উত্তর আপাতত বিজ্ঞানীরা খুঁজে বার করেছে এবং বহু প্রশ্নের উত্তরের উপর এখনও গবেষণা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকদের মাঝে মাঝে এমন কিছু গতিবিধির সম্মুখীন হতে হয়, যেটা বৈজ্ঞানিকদের অবাক হতে বাধ্য করে দেয়। বৈজ্ঞানিকদের কঠোর চেষ্টা এবং পরিশ্রম করবার পরেও পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সকল প্রাকৃতিক বিবরণের উত্তর এখনো বৈজ্ঞানিকদের কাছে নেই। কিছু কিছু ঘটনা এমনও আছে, যেগুলো সম্বন্ধে আমরা জানলে আমরা সত্যিই চমকে যাবো এবং সেই সব ঘটনার পেছনে উত্তর খুঁজে বের করার সম্ভাবনা এতটাই কম যে, সেগুলো কেন এবং কী কারণে ঘটেছিল, সেটা জানা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই আজকে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে আমি আপনাদের দশটি এমন আশ্চর্য করে দেওয়ার মতো স্থানের সম্পর্কে বলব, যেগুলি সম্বন্ধে আপনি হয়তো এখনো কোনোদিনও শোনেননি।

তো চলুন, বেশি দেরি না করে আজকের ভিডিওটিকে শুরু করা যাক!

১. ডুপ্লেক্স ট্রি (Duplex Tree): ইতালির এক গাছে দুই গাছ

একটা প্রবাদ আছে যে, "যদি তুমি দুখানা গাছ পালন করতেই পারো, তবে একটা কেন পালন করবে?" সাধারণত এই প্রবাদটা পরিবেশ বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কাসুশ্রতে (Casorzo, Italy) এই প্রবাদটি বাস্তব রূপে রয়েছে। এখানে একটি এমন গাছ রয়েছে, যেটা আসলে দুখানা গাছ! কথাটা শুনতে যতটাই অদ্ভুত মনে হচ্ছে না কেন, এটা ঠিক ততটাই সত্য। ভিডিওটিতে আপনি যেটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা একটি মালবেরি গাছ (Mulberry Tree), যেটার উপর একটি চেরি গাছ (Cherry Tree) জীবিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটি এক ধরনের হাইব্রিড ডুপ্লেক্স গাছ। বড় গাছের উপর এরকম ছোট গাছ উদ্ভব হওয়া খুবই কম দেখতে পাওয়া যায়। আর এরকম দুই ধরনের গাছ একই গাছে দেখতে পাওয়া এক অসামান্য ঘটনা।

সাধারণত এইরকম গাছে পুষ্টি সঠিকভাবে এবং সমানভাবে দুটি গাছে গিয়ে পৌঁছায় না, যে কারণে ছোট গাছটি সঠিক মতন পুষ্টি না পাওয়ার কারণে ততটা বিকাশ হয় না। কিন্তু এই গাছটির ক্ষেত্রে এইরকমটা হয়নি। আর সেটা চেরি গাছে ফোটা অতুলনীয় সুন্দর সাদা ফুলগুলি দেখলেই সহজে প্রমাণ পাওয়া যায়। গাছটির এই অদ্ভুত এবং আকর্ষণীয় বিশেষত্ব ইতালির এই এলাকাটাকে এক বিশেষ স্থান করে তুলেছে। গাছটির সুরক্ষার কারণে সেখানকার সরকার চারিপাশে প্রোটেকশন দিয়ে রেখেছেন এবং এই গাছটির ওপর ওঠা সরকারিভাবে দণ্ডনীয় বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।

২. ইনভাইটানের দ্য আইল্যান্ড অফ নো রিটার্ন (Enkaitana - The Island of No Return): কেনিয়ার অভিশপ্ত দ্বীপ

কেনিয়াকে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা বলে মনে করা হয়, সেটা আমরা প্রায় সবাই জানি। তুরকানা ঝিলের (Lake Turkana) পাশে ইনভাইটানার (Enkaitana) নামের একটি দ্বীপ রয়েছে, যেটার সম্পর্কে জানবার পর আপনি হয়তো এই জায়গাটাতে যাওয়ার আগে দশবার ভাববেন। কারণ এই জায়গাটি বিশেষভাবে অভিশপ্ত। কয়েক কিলোমিটার এরিয়া জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই দ্বীপটি। আর এই দ্বীপটির আশেপাশে বহু জনজাতি জীবন যাপন করে। কিন্তু এই দ্বীপটাতে কোনো জনজাতি জীবন যাপন করে না এবং ভুলেও কেউ এই দ্বীপটাতে পা রাখে না। এই দ্বীপটার আশেপাশে বসবাসকারী লোকেরা এটা মনে করেন যে, ওই জায়গাটি অভিশপ্ত আর এই জায়গায় যারা প্রবেশ করে, তারা আর কোনোদিনও ফিরে আসে না।

১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ রিসার্চার ভিভিয়ান ফোর্জ (Vivian Fuchs) তার দুই রিসার্চার বন্ধু মার্টিন সেলফি (Martin Shepley) এবং ভিশনকে (Vision) সঙ্গে নিয়ে এই জায়গাটির সত্যতা যাচাই করতে বেরিয়ে পড়ে এবং তারা এই দ্বীপে প্রবেশ করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তারা সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়। তাদের কোনো চিহ্ন সেখান থেকে আর পাওয়াই যায়নি, যে কারণে এই জায়গাটিকে ঘিরে যে কথাগুলো সামনে এসেছিল এবং যেগুলো ধারণা করা হয়েছিল, সেগুলো আরও গভীর হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর ওখানকার লোকেরা এটা মনে করেন যে, ওই জায়গাতে নিশ্চয়ই এলিয়েনদের বসবাস রয়েছে। ওই ঘটনার পর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দ্বীপটির ওপর থেকে শুধুমাত্র ছবি তোলা হয়েছে, কিন্তু এই দ্বীপটিতে প্রবেশ করার সাহস এখনো পর্যন্ত কারো হয়নি।

৩. আন্ধারা টেম্পল (Ain Dara Temple): বিশাল পদচিহ্নের মন্দির

সিরিয়াতে অনেক অদ্ভুত এবং প্রাচীন মন্দির রয়েছে, যেগুলির মধ্যে প্রায় প্রত্যেকটিরই নিজস্ব অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় ঘটনার গল্প রয়েছে। কিন্তু আন্ধারা টেম্পলের ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এই মন্দিরের প্রবেশ পথে রয়েছে বিশাল বড় বড় মানবীয় পায়ের পদচিহ্ন। এই পদচিহ্নটা ততটা পুরোনো, যতটা এই মন্দিরটা। আর এই মন্দিরটার বয়স প্রায় ৩৫০০ বছর। আন্ধারা টেম্পলে থাকা এই পদচিহ্ন সম্পর্কে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন ধারণা রয়েছে, যেগুলো একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বৈজ্ঞানিক এবং প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন যে, এই পদচিহ্ন তারাই বানিয়েছেন, যারা আসলে মন্দিরটা বানিয়েছিলেন। যদিও এই মন্দিরের আশেপাশে বসবাস করা মানুষেরা এটা বলেন যে, কোনো এক সময় এই মন্দিরে এক মহান দেবতা প্রবেশ করেছিলেন এবং সেই দেবতার পদচিহ্ন মন্দিরের দরজার সামনে রয়ে গিয়েছে। যদিও এই কথাটাও শোনা যায় যে, যারা এই মন্দিরটাকে তৈরি করেছিলেন, তারা বিশালাকার দেখতে ছিল আর এই পদচিহ্নগুলো তাদেরই। এই এলাকাটাতে পুরান কালের বিশাল আকার মানবজাতি গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সম্পর্কে বহু গল্প শুনতে পাওয়া যায়। আর এখানকার লোকেরা এই পদচিহ্নগুলোকে সেই বিশাল আকার মানব জাতির অস্তিত্বের প্রমাণ হিসাবে ধরে নিয়েছে।

দুঃখের বিষয় এটাই যে, ২০১৮ সালে তুর্কিতে এক বিমান হামলার কারণে এই মন্দিরটি বিশাল ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই পদচিহ্নগুলোর অস্তিত্ব এখনো রয়েছে।

৪. আবু গেরাফ সান টেম্পল (Abu Ghurab Sun Temple): মিশরের সূর্য মন্দির

মিশর আর গিজার পিরামিড (Giza Pyramids) - এই দুটোই নিজেরা নিজেদের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন রহস্য নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে। আর এ সম্বন্ধে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি। আর যদি না জেনে থাকেন, তাহলে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটি অবশ্যই দেখবেন এবং আকাশ বর্মণের এই ভিডিওটি দেখবেন, যে দুটির ভিডিওর লিংক আই বাটনে আপনারা পেয়ে যাবেন। সে যাই হোক, এখান থেকে মাত্র ২০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করে যদি আবু গেরাফ শহরে যেতে পারেন, তাহলে আর মিশর আর গিজার পিরামিডকে রহস্যজনক মনে হবে না। এই শহরে এমন কিছু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে, যেটাকে সূর্য মন্দির হিসেবে মানা হয়।

এই মন্দিরটি প্রায় ২৪০০ বছর আগে বানানো হয়েছিল। ঐতিহাসিকবিদরা বলেন, আবু গেরাবে মোট ৬টি সূর্য মন্দির ছিল, যেগুলোর মধ্যে এখন কেবলমাত্র দুটি অবশিষ্ট রয়েছে। বলা হয় যে, এই মন্দিরগুলি আফ্রিকার 'খেমেটিয়ার' (Kemetian) লোকেদের দ্বারা বানানো হয়েছিল। এই খেমেটিয়ার লোকেরা পাথরের ওপর কারুকার্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে খুব পারদর্শী ছিল। কিন্তু তবুও এই লোকেরা এতো ভারী ভারী ওজনের পাথর কিভাবে নড়াচড়া করত? এবং কিভাবে এই পাথরগুলো কাটত? এরকম বহু প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে বের করা যায়নি। এর থেকেও সব থেকে বড় আশ্চর্যজনক জিনিস হলো পাথরের মধ্যে গোল করে কাটা ছিদ্রগুলো। কয়েক শতাব্দীর পূর্বে বর্তমান সময়ের মতন এত আধুনিক যন্ত্রপাতিও তো ছিল না, তাহলে কিভাবে তারা পাথরের ওপর এরকম নিখুঁত হোল (Hole) ড্রিল করল? এই প্রশ্নটা এখনো রহস্য হয়ে রয়েছে।

৫. ব্ল্যাক ডিউ অফ কাজাখস্তান (Black Dew of Kazakhstan): অভিশপ্ত মরুভূমি

এটি বহু পুরনো সময়ের এক ঘটনা। আই রিএলসিতে (Aral Sea) বারস্যাক (Barsak-Kelmes) নামের একটি দ্বীপ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে জলস্তর কমে যাওয়ার কারণে জায়গাটি এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে। আর এই জায়গাটি কাজাখস্তানে অবস্থিত।

ইনভাইটানের দ্বীপের মতন এই দ্বীপটির সম্পর্কেও বিভিন্ন অভিশপ্ত ধারণা রয়েছে। বলা হয় যে, এই দ্বীপটিতে যারা যায়, তারা নাকি আর সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে না। ১৯৩৯ সালে এই জায়গাটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে অভিশপ্ত বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ লোকের জন্য জায়গাটিকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি এখনো পর্যন্ত এই জায়গাটিতে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র এবং উপকরণ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, এখানে যদি কোনো লোক বেশিক্ষণ সময় কাটায়, তাহলে তাদের গায়ের রং নীলচে হয়ে যায়।

৬. হ্যান্ডস অফ হারকিউলিস (Hands of Hercules): জর্ডানের বিশাল হাতের অবশেষ

জর্ডানের ওমানে (Amman, Jordan) একটু খুঁজে দেখলে আপনি প্রচুর ধসে যাওয়া মন্দির এবং বহু পুরোনো বাড়ির অবশিষ্ট অংশ দেখতে পাবেন। আর এখানেই আপনি তিনটি আঙুল নিয়ে তৈরি এক বিশাল বড় হাতের অবশিষ্টাংশ দেখতে পারবেন। যদিও এটা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে, কিন্তু তবুও এটা দেখতে যথেষ্ট ভয়াবহ লাগে। এটা হারকিউলিস মন্দিরের একটি অংশ, যেটা নির্মাণ দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমান আক্রমণের সময় হয়েছিল। ওমান শহরে তৈরি হওয়া এই মন্দির রোমের অন্যান্য যেকোনো মন্দিরের তুলনায় একটু বেশিই বড়। এমনটা মনে করা হয় যে, এই মন্দিরের নির্মাণকার্য কখনো শেষই হয়নি। যেহেতু এই জায়গাটি অধিক ভূমিকম্পের কবলে পড়ে, তাই হয়তো রোমানীয়রা এই জায়গাটিতে কোনো বিশাল আকার নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

৭. দ্য লস্ট সিটি অফ কালাহারি (The Lost City of Kalahari): মরুভূমির লুকানো শহর

কালাহারিতে (Kalahari Desert) অবস্থিত একটি শহরের হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এখনো একটি রহস্য হয়ে রয়েছে। এই কথাটি এখনো একটি বিবাদের বিষয় হয়ে রয়েছে যে, আদৌ এই শহরটি আসলে আছে? নাকি নেই? এই ঘটনাটি তখন শুরু হয়, যখন ১৮৮৫ সালে একজন কানাডিয়ান জাদুকর উইলিয়াম লীলা হান্ট (William Leonard Hunt) এটা দাবি করেন যে, তিনি কালাহারি মরুভূমি পায়ে হেঁটে পার করার সময় তিনি এক খালি পরিত্যক্ত শহর খুঁজে বের করেছেন। রয়্যাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির (Royal Geographic Society) একটি রিপোর্টে তিনি এটা বলেছেন যে, উনি ওই শহরের ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, আগুনে জ্বলে থাকা জমি এবং অর্ধেক তৈরি হয়ে থাকা পাথরের দেওয়ালের ঢের দেখেছেন। ওনার এই কথোপকথনের পর প্রায় ২৫টি অভিযান চালানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো অভিযানে তার কথা মতন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি, যেরকমটা তিনি বলেছিলেন।

১৯৬৪-তে এই যে অ্যানক্রিমেন্ট (A.J. Clement) একটা থিওরি দিয়েছেন যে, ওই জাদুকর হান্ট পরিত্যক্ত শহরটিতে পৌঁছানোর রাস্তা নিয়ে একটু কনফিউজ ছিলেন। আর অ্যানক্রিমেন্ট সেখানে পৌঁছানোর জন্য অন্য একটি রাস্তা ব্যবহার করেছিলেন। এই রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর অ্যানক্রিমেন্ট এমন একটি জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন, যেখানে অনেক পাথরের ঢের ছিল। অ্যানক্রিমেন্ট তারপর ব্যাখ্যা দিয়েছিল যে, জাদুকর হান্ট ওই পাথরগুলোকে হয়তো দেখেছিল, কিন্তু তার এই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক ছিল না। কালাহারির ওই শহর এখনো হারিয়ে রয়েছে। আর লোকেরা এখনো সেই শহরকে খুঁজে বের করবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়, এই শহরটি সত্যিই অস্তিত্ব রয়েছে? নাকি এটি একটি জাদুকরের কল্পনা মাত্র?

৮. রিং অফ বার্ডিংসে (Ring of Bardingsee): নাৎসিদের গোপন পরীক্ষা ক্ষেত্র

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি লোকেরা পূর্ব ইউরোপের বহু বিচিত্র ধ্বংসাবশেষের নির্মাণ করেছিলেন, যেগুলো সম্বন্ধে জানা কিংবা বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে খুবই কঠোর একটি ব্যাপার। নাৎসিদের এমনই এক নির্মাণ হচ্ছে বার্ডিংসে (Bardingsee) সমুদ্রতে কংক্রিট দিয়ে তৈরি গোল আকৃতি। যুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন এই জায়গাটির দায়িত্ব নিয়ে নেয় এবং এর আশেপাশে তারপর থেকে জনসাধারণের আসা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দেয়। এমনটা বলা হয়ে থাকে যে, এই জায়গাটিতে জার্মান অ্যান্টি গ্রাভিটি (Anti-Gravity) এবং মাস্ট ডেস্ট্রাকশন (Mass Destruction) ডিভাইসের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হতো। তার সঙ্গে সঙ্গে এটাও মনে করা হয় যে, নাৎসিরা 'ডাই ইগলোটেক' (Die Glocke) নামের একটি সিক্রেট প্রোজেক্টে কাজ করছিল এখানে। 'ইগলোটেক' সম্বন্ধে লোকেরা শুধুমাত্র এটাই জানে যে, এটা খুব ভয়াবহ শক্তিশালী হাতিয়ার।

৯. ড্রুয়ের টেম্পেল (Druid's Temple): সুইনটনের রহস্যময় মন্দির

ইংল্যান্ডের সুইনটনে (Swinton) বসবাসকারী লোকেরা এটা মনে করে যে, সুইনটনে একটি বহু পুরনো প্রাচীন মন্দির রয়েছে। কিন্তু সুইনটনে ড্রুইড মন্দিরের (Druid's Temple) নির্মাণশৈলী দেখলেই এটা বুঝতে পারা যায় যে, এটাকে প্রাচীন বলার পেছনে আসল কারণটা হচ্ছে এটাকে তৈরি করার কৌশল। এই মন্দিরটি দুই শতাব্দী আগে একজন দয়াবান জমিদার বানিয়েছিলেন। এই জমিদার নিজের আশেপাশে থাকা মানুষের বেকারত্ব দূর করবার জন্য এই মন্দিরটি বানিয়েছিলেন। ১৮২০-তে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল। মন্দিরটি তৈরি করবার পর ওই জমিদার এটা শর্ত রেখেছিলেন যে, যেই ব্যক্তি ওই মন্দিরে একটানা ৭ বছর কাটাতে পারবে, তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি ওই মন্দিরে ৪ বছরের থেকেও বেশি সময় কাটিয়েছিল, কিন্তু টানা ৭ বছর কেউ থাকতে পারেনি। সেটা কেন এবং কী কারণে, সেটাও জানা যায়নি। এবং আজ পর্যন্ত সেই জমিদারের পুরস্কারও কেউ পায়নি। আপনার যদি পুরস্কারের লোভ থাকে, তাহলে আপনি চাইলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।

১০. গুঞ্জি ওবাম (Gunjiwamb): অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীন রহস্য

অস্ট্রেলিয়ার গুঞ্জি ওবাম (Gunjiwamb) এমন একটি জায়গা, যেটা ঐতিহাসিকবিদ এবং প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে এক বিশাল বড় মাথা ব্যথা হয়ে রয়েছে। এই জায়গাটিতে প্রায় ১৪০০ বছর ধরে বিবিধ সম্প্রদায়রা কব্জা করে রেখেছিল। আর প্রত্যেককে নিজেদের নিজেদের ছাপ এখানে রেখে গিয়েছে। এখানে পাথর দিয়ে তৈরি অনেক কক্ষ রয়েছে। রয়েছে পাথরের রিংয়ের মতন জিনিস এবং দেওয়ালে লেখা রয়েছে অনেক কিছু, যেগুলোর ভাষা এখনো ডিকোড করা যায়নি। গুঞ্জি ওবামে মানুষের অস্তিত্বের এত চিহ্ন রয়েছে যে, এটা বলা মুশকিল, একটা যুগ কখন শুরু হয়েছে আর কখন সেটা শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা এখানকার ম্যাগনেটিক অ্যাক্টিভিটি (Magnetic Activity) চেক করেছিল এবং তারপর তারা জানতে পেরেছিল যে, এখানে ম্যাগনেটিক পদার্থ 'কর্ডোরসের' (Cordorite) অতিরিক্ত উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু কন্সপিরেসি থিওরি অনুসারে, এটা এলিয়েনদের উপস্থিতির কারণে হয়েছে।

উপসংহার

তো বন্ধুরা, আজকের ভিডিওটি এইটুকুই। আপনাদের এইরকম রহস্যময় স্থান সম্বন্ধে জেনে কেমন লাগলো? অবশ্যই ভিডিওর কমেন্ট বক্সে জানাবেন। ভালো লাগলে অবশ্যই ভিডিওটিকে লাইক করবেন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। আর এরকমই রহস্যময় ভিডিও সবার আগে দেখতে অবশ্যই 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন।

কীওয়ার্ডস: রহস্যময় স্থান, পৃথিবীর আশ্চর্য স্থান, ডুপ্লেক্স ট্রি, ইনভাইটানা দ্বীপ, অভিশপ্ত দ্বীপ, আন্ধারা টেম্পল, আবু গেরাফ সান টেম্পল, ব্ল্যাক ডিউ অফ কাজাখস্তান, হ্যান্ডস অফ হারকিউলিস, লস্ট সিটি অফ কালাহারি, রিং অফ বার্ডিংসে, ড্রুইড টেম্পল, গুঞ্জি ওবাম, প্রত্নতত্ত্ব, অজানা রহস্য, প্রাচীন সভ্যতা, এলিয়েন, টাইম মেশিন, ভৌগোলিক বিস্ময়, পৃথিবীর গোপন রহস্য।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال