ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া ৭ যুগান্তকারী আবিষ্কার: যা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারত!

 

ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া ৭ যুগান্তকারী আবিষ্কার: যা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারত!

ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া ৭ যুগান্তকারী আবিষ্কার: যা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারত!

হেই বন্ধুরা, আজ পর্যন্ত আর্কিওলজিস্টরা এমন অনেক জিনিসের সন্ধান পেয়েছে, যাদের ব্যাখ্যা মানব মস্তিষ্কের দ্বারা বোঝা এখনো সম্ভব হয়নি। আজ মানব জাতি বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির কল্যাণে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গেছে ঠিকই, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদেরকেও হতভম্ব করে দেয়। এই রহস্যগুলির মধ্যে কখনো তারা খুঁজে পেয়েছে মাটির নিচ থেকে এমন সব মমি, যা মানুষের নয়, বরং নীল নদের কুমিরের! আবার তাঁরা খুঁজে পেয়েছে এমন কঙ্কাল, যাদের যীশু খ্রীষ্টের মতো ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করে দাফন করা হয়েছিল।

বন্ধুরা, আপনারা কি কখনো এমন হাতিয়ারের নাম শুনেছেন, যেটা তার মুখ দিয়ে আগুন বের করে? অথবা হাই কোয়ালিটি এইচডি ভিডিও বা সিনেমা স্টোর করতে, যেখানে আমাদের ২ থেকে ৩ জিবি স্টোরেজ লাগে, সেই একই সিনেমা বা ভিডিও স্টোর করতে যদি ৪ কেবি লাগতো, তাহলে সেটা কেমন হতো? অথবা বিনা মরসুমে যদি বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে সেটা কৃষকদের জন্য কতটা কার্যকরী হতে পারে? আসলে এই ধরনের জিনিসপত্র আজ আমাদের জন্য কোনো স্বপ্ন নয়, বরং সত্যি হতে পারত। কারণ আমরা তো সবাই জানি যে, আমাদের এই আধুনিক পৃথিবীতে বিজ্ঞানীদের অবদান বলতে গেলে প্রায় অসীম। বিজ্ঞানীদের এই জয়যাত্রায় তাঁরা মানব সভ্যতাকে দিয়েছে অসংখ্য আবিষ্কার, যার সাহায্যে কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্রেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবন খুবই সহজ হয়ে চলেছে। কিন্তু কিছু বিজ্ঞানীর আবিষ্কার আমাদের জীবনে আরও বেশি পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারত, কিন্তু সেইসব আবিষ্কার রহস্যজনকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে কোনোদিনও পৌঁছাতে পারেনি।

তাই আজকে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে আমি আপনাদের নিকোলা টেসলা সহ বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি এমন কিছু আবিষ্কার সম্পর্কে বলতে চলেছি, যেটা হয়তো আমাদের পৃথিবীকে সম্পূর্ণ বদলে দিত। তবে চলুন, বেশি দেরি না করে আজকের পোস্টটিকে শুরু করা যাক!

১. ক্রোনোভাইজার (Chronovisor): অতীতে ভ্রমণের যন্ত্র?

ফাদার ফ্র্যান্সিস (Father François) নামের একজন বিজ্ঞানী ১৯৫০-এর দশকে এমন একটি মেশিন আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন, যেটার দ্বারা নাকি ভূতকাল দেখতে এবং শুনতে পারা যেত। যে মেশিনটিকে সাধারণত 'ক্রোনোভাইজার' নামে জানা যায়। ফাদারের মতে, রুমাক এনার্জি (Rumack Energy) এবং সাউন্ড যখন কোনো বস্তু থেকে বের হয়, তখন সেটা বায়ুমণ্ডলে রেকর্ড হয়ে যায়। আর এই রেকর্ডই ক্রোনোভাইজার যন্ত্রের সাহায্যে দেখতেও শুনতে পেতেন তিনি। এমনকি বিজ্ঞানী ফাদার ফ্র্যান্সিস নিজে মেশিনের সাহায্যে ভূতকালকে অনেক সময় ধরে দেখেছেন এবং অভূতপূর্ব আওয়াজও শুনেছেন। আর এই যন্ত্রটাকে বানাতে তাকে যারা যারা সাহায্য করেছিল, তিনি তাদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। এবং এর পরেই তিনি এই মেশিনটাকে ধ্বংস করে দেন।

আর্টিনি ফেসওয়া (Artini Faswa), যিনি এই বিষয়টা নিয়ে অনেক রিসার্চ করেছেন, তার মতে এই যন্ত্রটি বানাতে ফাদার ফ্র্যান্সিসকে সেই সময়কার সেরার সেরা বারোজন বিজ্ঞানী সাহায্য করেছিল। তিনি তাদের দুইজনকে চিহ্নিতও করেছেন, যাদের মধ্যে একজন হলেন এনরিকো ফার্মি (Enrico Fermi)। ক্রোনোভাইজার ব্যবহার করে দেখবার জন্য ক্যাথোড নামক একটি বড় ক্যাবিনেটকে ব্যবহার করা হতো এবং ভূতকালের সময় এবং অবস্থান নির্বাচন করবার জন্য বোতাম এবং লিভার ছিল। এটি অতীতকালের কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত এবং ট্র্যাক করতে পারত। এটি অতীতের ঘটনাগুলি থেকে পেছনে থাকা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনকে গ্রহণ করে ডিকোডিং এবং পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, এটি অতীতের ইভেন্টগুলির দ্বারা নির্গত অডিও উপাদান বা শব্দ তরঙ্গগুলোকেও তুলতে পারত।

ফাদার ফ্র্যান্সিসের মতে, তিনি ক্রোনোভাইজার ব্যবহার করে অন্যান্য দৃশ্যের মধ্যে রোমের ১৬৯ খ্রিস্টাব্দে ল্যাটিন কবিতার জনক কুইন্টাস এনিয়াস (Quintus Ennius) এর হারিয়ে যাওয়া ট্র্যাজেডির একটি পারফরম্যান্স প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তবে অনেক কন্সপিরেসি থিওরির মতে, এই আবিষ্কার শুধুমাত্রই কল্পনা। যদি সত্যিই এটি আবিষ্কার হয়ে থাকে, তবে এটি পৃথিবীর প্রথম টাইম মেশিন। আর এনিয়াসের পারফরম্যান্স ফাদার নিজেই কল্পনা করে লিখেছিলেন। আর কন্সপিরেসি থিওরি এটাও বলে যে, যদি ফাদার সত্যি এরকম আবিষ্কার করে থাকতে পারতেন, তাহলে সেটাকে নিজের হাতেই কেন ধ্বংস করলেন? কারণ এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হত। নাকি ফাদার নিজেই ভূতকালের অস্তিত্বকে স্বীকার করতে পারেননি? বা যার ভয়ে তিনি এই যন্ত্রটিকে নষ্ট করতে বাধ্য হয়েছিলেন? আপনার কী মতামত, অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

২. গ্রিক ফায়ার (Greek Fire): প্রাচীন রোমানদের রহস্যময় যুদ্ধাস্ত্র

বন্ধুরা, আমরা যদি মানব ইতিহাসের একটু পেছনে গিয়ে দেখি, তাহলে আমাদের এটা মনে হয় যে, পৃথিবীর সব থেকে বড় বড় এবং আশ্চর্য আবিষ্কারগুলো বিগত ১৫০০ বছর আগেই আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু আসলে এরকমটা ঠিক নয়। কারণ পুরাতন সময়েও এমন বহু বড় এবং বিপদজনক আবিষ্কার করা হয়েছে। আর গ্রিক ফায়ারও সেইসব আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি। আসলে গ্রিক ফায়ার এক ধরনের হাতিয়ার, যেটাকে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের (Roman Empire) যুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হতো। সেই সময় রোমান এম্পায়ারদের অনেক শত্রু ছিল, যে কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে যুদ্ধ হতো। আর এই যুদ্ধের সময়ই রোমান এম্পায়ারের সৈন্যরা গ্রিক ফায়ারের ব্যবহার করত।

আসলে এটি এমন এক ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ছিল, যেটা অনেক বেশি পরিমাণে আগুন নিক্ষেপ করত। এই হাতিয়ারের সাহায্যে রোমান এম্পায়ারের সৈন্যরা নিজেদের শত্রুপক্ষের জাহাজের ওপর আগুন লাগিয়ে দিত। আর এর একটি বিশেষত্ব এটাই যে, এর থেকে নির্গত আগুন জল দিয়েও নেভানো যেত না। এখনো পর্যন্ত কেউ এটা জানে না যে, রোমান সৈন্যরা এই হাতিয়ার বানানোর জন্য কী পদার্থ ব্যবহার করত। আর এমনটা বলা হয় যে, এই যুদ্ধাস্ত্র বানানোর পদ্ধতি রাজা এবং তার কাছের কয়েকজন মানুষই জানত। রোমান এম্পায়ার এই হাতিয়ারকে সবসময় গুপ্ত রাখত। কারণ তারা এটা কখনোই চাইতো না যে, এই যুদ্ধাস্ত্র তাদের শত্রুপক্ষের হাতে কোনোভাবে লাগে। এইভাবে ধীরে ধীরে যখন রোমান সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে, তখন তাদের সঙ্গে সঙ্গে এই যুদ্ধাস্ত্রও বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর এই যুদ্ধাস্ত্রের উদাহরণ হলিউডের বিখ্যাত মুভি সিরিজ 'পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান'-এ (Pirates of the Caribbean) দেখা গেছে।

৩. ক্লাউড ব্লাস্টার (Cloudbuster): বৃষ্টি তৈরির যন্ত্র?

'ক্লাউড ব্লাস্টার' এমন একটি যন্ত্র, যেটা বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারত। এই আবিষ্কারটি ১৯৫১ সালে অস্ট্রেলিয়ান শরীরতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রিচ (Wilhelm Reich) করেন। এই যন্ত্রটি বৃষ্টির মধ্যে থাকা অর্গানিক এনার্জিকে (Orgone Energy) ম্যানিপুলেট করে এমন একটি এনার্জি আবিষ্কার করত, যেটার মাধ্যমে পরেও বৃষ্টি ঘটানো সম্ভব হতো, যাকে উইলিয়াম 'অর্গোনিক এনার্জি' নাম দিয়েছিলেন।

১৯৫৩ সালে দুই কৃষকের জমিতে তিনি এই মেশিনটির প্রয়োগ করেছিলেন এবং তার নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৫৩ সালের ৬ই জুলাই সকালের দিকে ক্লাউড ব্লাস্টার মেশিনটিকে চালু করা হয় এবং ঠিক সন্ধ্যার মধ্যেই বৃষ্টি নামতে শুরু করে। ১৯৫৩ সালের পরে বিজ্ঞানী উইলিয়াম রিচ এই মেশিনটিকে আর ব্যবহার করতে পারেনি, কারণ তাকে এফডিএ (FDA) সংস্থা মানুষকে বোকা বানানোর অপরাধে গ্রেপ্তার করে নেয় এবং তিনি কারাগারে বন্দি অবস্থাতেই মারা যান। এফডিএ সংস্থার দাবি ছিল, ৬ই জুলাই এর দিনে রাতের বেলা থেকেই আবহাওয়া পাল্টাতে শুরু করেছিল, তাই কার্যত স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তাদের এই দাবিকে এখনো পর্যন্ত অনেকেই বিশ্বাস করতে পারে না।

কারণ কিছু কন্সপিরেসি থিওরির মতে, ক্লাউড ব্লাস্টারের কার্যকরী ক্ষমতা যে দেশগুলো বিশেষত অনুন্নত দেশ, তাদেরকে অনেক আগে নিয়ে যেত। এই মেশিনটির প্রভাবে কৃষকরা অনেক বেশি ফসল ফলাতে সক্ষম হতো। কিন্তু বাকি ধনী দেশগুলো এটা কখনোই চায়নি। কারণ তারা এটার ফলে নিম্ন শ্রেণীর দেশগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতো। আর এটা তখন তারা খুব ভালোভাবেই জানতো। তাই তারা বিজ্ঞানী উইলিয়াম রিচকে এফডিএর মাধ্যমে কারাগারে বন্দি করে। আর আপনিই ভেবে দেখুন, তিনি যদি সেই কৃষকগুলোকে সত্যিই মিথ্যা কথা বলেছিল বা সহজ কথায় তাদেরকে ঠকিয়ে ছিল, শুধুমাত্র এই কারণেই কি তার কারাদণ্ড হওয়া উচিত ছিল? আর শুধু কারাদণ্ডই নয়, সেই কারাগারে তার মৃত্যু হওয়াটা কি সন্দেহজনক নয়? আর সব থেকে ভাবার বিষয় এটাই যে, বিজ্ঞানীরা অনেক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন ঠিকই, কিন্তু কৃষি ক্ষেত্রে সত্যিই কি উন্নতমানের যুগান্তকারী আবিষ্কার হয়েছে, যার মাধ্যমে দিনকে রাত করা সম্ভব? আর সত্যি কথা বলতে, আপনি একটু রিসার্চ করলেই জানতে পারবেন যে, বড় বড় কোম্পানি, বড় বড় ব্র্যান্ড বা বড় বড় সংস্থা কৃষি ক্ষেত্রের আবিষ্কারের জন্য কখনোই বিজ্ঞানীদের ফান্ডিং করে না, যার ফলে সেরকম বড় কোনো যুগান্তকারী আবিষ্কার হয়ই না।

৪. ফ্লেক্সিবল গ্লাস (Flexible Glass): রোমানদের অভঙ্গুর কাঁচ

আজকের সময় কাঁচের ব্যবহার পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি কোনায় করা হয়। আর আমরা প্রত্যেকেই এটা জানি যে, কাঁচ দেখতে যতটা সুন্দর হোক না কেন, সেটা ততটাই ভঙ্গুর। কারণ কাঁচের সামান্য আঘাত লাগলেই সেটি কয়েক হাজার টুকরোয় পরিণত হয়। কিন্তু আপনারা এটা জানলে অবাক হবেন যে, একটা সময় পৃথিবীতে এমন ধরনের কাঁচ আবিষ্কার করা হয়েছিল, যেটা ভাঙা অসম্ভব। আর এই আবিষ্কার আজ থেকে ৫০ অথবা ১০০ বছর আগে নয়, বরং আজ থেকে ২০০০ বছর আগে রোমান সভ্যতাতে হয়েছিল।

আসলে হয়েছিল কী? সেই সময় দ্বিতীয় রোমান সম্রাট টাইবেরিয়াস সিজারের (Tiberius Caesar) দরবারে এক ব্যক্তি এসে রাজাকে কাঁচের পাত্র উপহার দেন এবং ওই ব্যক্তি রাজাকে বলেন, এই কাঁচের পাত্রটিকে কেউ ভাঙতে পারবে না। এরপর রাজা এই কথা শুনে খুবই আশ্চর্য হয়ে যান। কারণ রাজা কেন, এখনো পর্যন্ত কোনো মানুষ এইরকম কোনো পাত্র দেখেনি। রাজার আদেশে সেই পাত্রে বেশ কিছু আঘাত করা হয়। এবং আশ্চর্যজনকভাবে ওই লোকটির কথা মতন কাঁচের পাত্রটি না ভেঙে কেবলমাত্র তুবড়ে যায়। এরপর ওই ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা একটি হাতুড়ির মাধ্যমে সেই তুবড়ে যাওয়া কাঁচটিকে পিটিয়ে ঠিক করে দেন। এরপর রাজা এবং রাজার দরবারে থাকা বাকি সমস্ত লোক এটা দেখে রীতিমত অবাক হয়ে যান। রাজা সেই ব্যক্তিকে বলে, "তুমি ছাড়া এই ধরনের কাঁচ আর কে বানাতে পারে?" তখন সে ব্যক্তিটি বলে যে, সে ছাড়া এই ধরনের কাঁচ এই পৃথিবীতে কেউ বানাতে পারে না। এ কথা শোনার পর রাজা তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আসলে সম্রাট এটা ভেবেছিলেন যে, যদি এই কাঁচের চলন শুরু হয়ে যায়, তাহলে সোনা এবং রুপোর দাম অনেক কমে যাবে। ঠিক এই কারণে রাজা সেই বিজ্ঞানীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। আর এইভাবেই এই আবিষ্কার চিরদিনের মতো রহস্য হয়ে যায়। আর এইসব তত্ত্ব রোমান সভ্যতার অনেক লিপি থেকে পাওয়া গেছে।

৫. স্লট ডিজিটাল কোডিং সিস্টেম (Slot Digital Coding System): হারিয়ে যাওয়া ডেটা কম্প্রেশন

আমরা প্রত্যেকেই এখন স্মার্টফোন ইউজ করি। আর এই স্মার্টফোনগুলোতে কিছু পরিমাণে ইন্টারনাল মেমোরি থাকে, যেখানে আমরা আমাদের নিজের প্রয়োজনীয় ডেটা সেভ করতে পারি, যেমন সিনেমা, গান, ছবি এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ডেটা। এগুলো করতে করতে আমাদের প্রত্যেকেরই আরও বেশি ডেটা স্টোরেজের মেমোরি প্রয়োজন পড়ে। জন ক্রুস (John Cruse) নামের একজন ইলেকট্রনিক টেকনিশিয়ান এই সমস্যাটাকে দূর করে ফেলেছিলেন। তিনি ১৯৯৫ সালে একটি যুগান্তকারী ডেটা কম্প্রেশন টেকনিক বানিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি নিজের আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি বড় হলিউড মুভিকে মাত্র ৭ কেবি ডেটাতে কম্প্রেস করে ফেলেছিলেন। তিনি ফিলিক্স কোম্পানির (Philips Company) এক্সিকিউটিভদের সামনে সেটা প্রদর্শনও করেছিলেন, যেখানে তিনি মাত্র ৬৪ কেবি মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে আটটি ফুল রেজুলেশনের ফুল কালারফুল সিনেমাকে চালিয়ে দেখিয়েছিলেন।

এমন একটি যুগান্তকারী ইনভেনশন আমাদের টেকনোলজিকে আরও বেশি এগিয়ে নিত। আর এটা ফিলিক্স কোম্পানি বোঝে। তাই তারা সঙ্গে সঙ্গে এই ইনভেনশনকে কিনে ফেলে। কিন্তু ইনভেনশনটাকে জন ক্রুস তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই, ১৯৯৯ সালের ১১ই জুলাই, তিনি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার এই ইনভেনশনের সোর্স কোড (Source Code) খোঁজার সব চেষ্টা বিফলে যায়। ফলে তার সোর্স কোডগুলিও রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায়।

৬. স্টারলাইট (Starlite): তাপ প্রতিরোধী আশ্চর্য পদার্থ

অপেশাদার কেমিস্ট এবং হেয়ার ড্রেসার, মরিস ওয়ার্ড (Maurice Ward), ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে এমন একটি পদার্থ আবিষ্কার করেছিলেন, যেটা কিনা খুবই উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারত। বিজ্ঞানী মরিস এটার নাম 'স্টারলাইট' রেখেছিলেন। 'সায়েন্স টেকনোলজি' নামের একটি টিভি শোতে গিয়ে তিনি এই পদার্থটি প্রদর্শনও করেছিলেন। বিজ্ঞানীর মতে, এই পদার্থ ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারত। এমনকি নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের তাপমাত্রাও সহ্য করতে পারত। এই এক্সপেরিমেন্টে তিনি এটাই দেখিয়েছিলেন যে, যদি একটি পদার্থের মধ্যে একটি ডিম ঢুকিয়ে দিয়ে সেটাকে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই ডিমটি সেই রকমই থাকবে, যেমনটা আগে ছিল। নাসা (NASA) এই পদার্থের উপর ভীষণভাবে আকর্ষণ বোধ করেছিল, কিন্তু বিজ্ঞানী মরিস এটা মানব সভ্যতার কাছে তুলে ধরার আগেই মারা যান।

৭. ডেথ রে (Death Ray): নিকোলা টেসলার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন

নিকোলা টেসলা (Nikola Tesla) - এই নামটির সঙ্গে হয়তো আপনি আগে থেকেই পরিচিত, কারণ তিনি একজন মহান বিজ্ঞানী ছিলেন, যার আবিষ্কার যুগ যুগ ধরে মানব সভ্যতাকে সাহায্য করে চলেছে। তার আবিষ্কার বর্তমানেও ঘটে চলেছে। কিন্তু কিছু আবিষ্কার তার মৃত্যুর সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর সেই সকল আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একটি অসম্পূর্ণ আবিষ্কার হলো এই 'ডেথ রে'। যেটা যুগ যুগ ধরে মানুষকে আকর্ষণ করে চলেছে।

১৯৩০ সালে তিনি 'দ্য ডেথ রে' বা 'ডেজ বিম' (Death Beam) নামক একটি থিওরিটিক্যাল পার্টিক্যাল বিম ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েপন (Electromagnetic Weapon) প্রায় বানিয়ে ফেলেছিলেন। এই অস্ত্রটির ক্ষমতা এত হত যে, ১০ হাজার এয়ারক্রাফট ২৫০ কিলোমিটার দূর থেকেই ধ্বংস করে দিতে পারত এই অস্ত্র। এটা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটা যার কাছে থাকবে, তাকে হারানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। কিন্তু ইতিহাসবিদদের মতে, বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এটা কখনোই তৈরি করে উঠতে পারেননি। কারণ এই আবিষ্কারের জন্য যে পরিমাণের মূলধন প্রয়োজন ছিল, সেটা তার কাছে ছিল না। আর তখনকার মানুষদের ধারণা এটাই ছিল যে, এরকম ভয়ঙ্কর অস্ত্র কখনোই তৈরি হতে পারে না বা তৈরি করা কখনই সম্ভব নয়। তাই কোনো কোম্পানি বা কোনো সংস্থা বা কোনো দেশ এই আবিষ্কারের জন্য টাকা ব্যয় করতে রাজি হয়নি। যে কারণে তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই এই আবিষ্কারটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।

উপসংহার

তো বন্ধুরা, এগুলো ছিল এমন সাতটি আবিষ্কার, যা আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের সমাজের উন্নতি এবং ক্ষতি, উভয়ই হতে পারত। আপনার কী মনে হয়, কোন আবিষ্কারটি হলে সত্যি সত্যি আমাদের উন্নতি হতো? ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ক্লাউড ব্লাস্টার আবিষ্কার হলে সেটা আমাদের সমাজে অনেক উন্নতি ঘটাতে পারত। আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

আর আপনারা যদি সিনেমার ব্যাখ্যা দেখতে পছন্দ করেন, তাহলে আমার নতুন চ্যানেল 'বং মুভি ডায়েরি'-তে অবশ্যই ভিজিট করবেন। পাশাপাশি 'আকাশ বর্মণ' এবং 'বং ক্রীড়া' চ্যানেলগুলোতেও ভিজিট করবেন।

কীওয়ার্ডস: হারিয়ে যাওয়া আবিষ্কার, নিকোলা টেসলা, ক্রোনোভাইজার, গ্রিক ফায়ার, ক্লাউড ব্লাস্টার, ফ্লেক্সিবল গ্লাস, স্লট ডিজিটাল কোডিং সিস্টেম, স্টারলাইট, ডেথ রে, রহস্যময় আবিষ্কার, যুগান্তকারী আবিষ্কার, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রাচীন অস্ত্র, ডেটা কম্প্রেশন, তাপ প্রতিরোধী পদার্থ, টাইম মেশিন, কন্সপিরেসি থিওরি, উইলিয়াম রিচ, মরিস ওয়ার্ড, জন ক্রুস, রোমান সাম্রাজ্য।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال