সমুদ্রের ১০টি রহস্যময় প্রাণী: যা বিজ্ঞানীদেরও চমকে দিয়েছে!
বন্ধুরা, আমাদের পৃথিবী এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে একটি বালির কণার থেকেও ছোট। এবং এই পৃথিবীর ৭০ শতাংশই জল দ্বারা আবৃত। আর প্রাচীনকাল থেকেই সমুদ্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সীমাহীন। সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া ও সমুদ্রের রহস্যগুলির আসল কারণ জানার আগ্রহ নতুন কিছু নয়। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সাপেক্ষে আমাদের পৃথিবী অনেক ক্ষুদ্র হলেও পৃথিবী, সমুদ্রের অন্তর গহ্বরে লুকিয়ে রাখে হাজারো অমীমাংসিত রহস্য ও সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে জগৎ। কিন্তু মাঝে মাঝে এই রহস্যময় জলের জগতের কিছু ঝলক আমরা দেখতে পেয়ে যাই, যার কিছুটা আমরা বুঝতে সক্ষম হই আর কিছুটা কয়েক শতক অবধি রহস্যই হয়ে থাকে। এই রহস্যগুলির মধ্যে মাঝে মাঝে সমুদ্রের বসবাসকারী বিশাল আকারের মাছ বা রহস্যময় জীবও থাকে।
আধুনিক বিজ্ঞান সভ্যতায় আমরা হাজার হাজার বছর ধরে সামুদ্রিক জীবদের উপর অধ্যয়নরত। কিন্তু তারপরেও অজানা হাজারো এমন প্রজাতির প্রাণী, যাদের সম্বন্ধে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই। তাই আজ 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে এমন কিছু অদ্ভুত সামুদ্রিক জীব ও প্রাণী নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলি বিগত কিছু বছরের মধ্যে দেখা বা অনুভব করা গিয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক জগৎকে চমকে দিয়েছে। তো চলুন, ভিডিওটি শুরু করা যাক!
১. নয় ফুট হাঙ্গরকে গিলে খাওয়া অজ্ঞাত দানব
সামুদ্রিক এই দানবের কাহিনী আজ থেকে ১৭ বছর পুরোনো। ফিলিপ এবং তার টিম অস্ট্রেলিয়ার তৎসংলগ্ন সমুদ্রে বসবাসকারী গ্রেট হোয়াইট শার্কের উপর নিজেদের পরীক্ষামূলক ট্যাগ লাগিয়েছিল, যাতে তারা ওই হাঙ্গর মাছগুলির গতিবিধি ও ক্রিয়াকলাপ অধ্যয়ন করতে পারে। এবং চার মাস পর একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। যেসব শার্ক অর্থাৎ হাঙ্গরগুলির ওপর ট্যাগ লাগানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে 'আলফা' নামের ৯ ফুট লম্বা একটি মাছের ট্যাগ সমুদ্রের তীরে খুঁজে পাওয়া যায়। যখন ট্যাগটির অর্থগুলোকে অধ্যয়ন করা হয়, তখন এক আশ্চর্যজনক ফল জানা যায়। এই ট্যাগটি কোনো এক সামুদ্রিক জীবের পেট থেকে মলের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এসেছে।
ট্যাগটির ডেটা অনুযায়ী, হাঙ্গর মাছটি হঠাৎই নিজের সাধারণ গভীরতা থেকে ২০০০ ফিট নিচে চলে যায় এবং মাছটির শারীরিক তাপমাত্রা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ৩৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যায়। এই পরীক্ষালব্ধ ফল দেখে পরীক্ষকদের কপালে চোখ উঠে যায়। এই রকম ফল তখনই সম্ভব, যখন কোনো চিপ হাঙ্গর মাছটিকে জীবন্ত গিলে নেবে। কিন্তু ৯ ফুট লম্বা হাঙ্গর মাছকে গিলে খাওয়া কোনো সাধারণ জীবের পক্ষে সম্ভব নয়।
একদল পরীক্ষকদের মতে, আলফা নামক হাঙ্গরটিকে কোনো এক দ্বিগুণ আকারের হোয়াইট শার্ক গিলে নিয়েছিল। যদি এই ধারণাটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে এই শার্কটি পৃথিবীর সব থেকে বড় ওয়াইল্ড শার্ক হবে। আবার কিছু পরীক্ষক মনে করেন যে, কোনো এক মাছি হাঙ্গরের পিঠে ঝুলতে থাকা ট্যাগটিকে খেয়ে ফেলেছে ও মলের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দিয়েছে। এবং পরীক্ষকদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করেন যে, কোনো অজ্ঞাত দানব এই কাজটিকে করেছে। আপনাদের কী মনে হয়? অবশ্যই জানাবেন।
২. সাকলেন দ্বীপের বিচিত্র সামুদ্রিক জীব (Sakhalin Island Monster)
সাম্প্রতিক চার বছর আগে রাশিয়ার সাকলেন দ্বীপে একটি বিচিত্র সামুদ্রিক জীবের মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়, যা সামুদ্রিক জীব বিশেষজ্ঞদের চিন্তায় ফেলে দেয়। সমুদ্রের তীরে পাওয়া এই সামুদ্রিক জীবটির মৃতদেহের ছবি যখন রিলিজ করা হয়, তখন রাশিয়ার নিউজ মিডিয়ায় চর্চা পড়ে যায়। সমুদ্র থেকে ভেসে আসা এই প্রাণীটি এতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল যে, এর দেহের হাড়গুলিও বেরিয়ে এসেছিল। এই অজ্ঞাত জীবটির পাখির মতো লম্বা ঠোঁট ছিল ও লেজের দিকে পালকও ছিল। বাজে অবস্থায় পাওয়া সামুদ্রিক এই জীবটির আকৃতি কিছুটা ডলফিনের মতন হলেও, এর আকার মানুষের থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি।
এই রহস্যময় জীবটি আসলে কী, তার উপর বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন মত দিয়েছেন। সাঁকলেন রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওলজি ও সোনোগ্রাফি ফোরকাস্টিং ডিপার্টমেন্টের হেড নিকোলাই কিং বলেছেন, এই জীবটি ডলফিনেরই একটি দুর্লভ প্রজাতি ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু এই রহস্যময় জীবটি যদি সত্যিই ডলফিনের একটি প্রজাতি হয়, তাহলে এর লেজে পালক কেন আছে? ডলফিনের তো পালক থাকে না। এছাড়াও এর আকার অনেক বড়, ডলফিনের কোনো প্রজাতি আকারে এত বড় হয় না। মেরিন বায়োলজির প্রফেসর ডেভিড স্মিথের মতে, এই জীবটি সমুদ্রের একটি প্রাচীন জীবের নমুনা, যেটা অনেক বছর ধরে পারমাফ্রস্ট (Permafrost) অর্থাৎ জিরো ডিগ্রি তাপমাত্রায় মাটির নিচে চাপা পড়েছিল এবং কোনো কারণে তীরে ভেসে এসেছে। বহু বৈজ্ঞানিক বহু মত প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কোনটি সঠিক বলে গণ্য করা এখনো অবধি হয়নি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই রহস্যময় সামুদ্রিক জীবটি আসলে কী ছিল?
৩. ৫২ হার্টজ তিমির রহস্য (52 Hertz Whale)
একটি অজ্ঞাত আওয়াজকে নিয়ে এই রহস্য, যেটি ১৯৮৯ সালে প্যাসিফিক ওশান অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রে রেকর্ড করা হয়েছিল। বলা হয় যে, এই আনআইডেন্টিফাইড শব্দটি সমুদ্রে বসবাসকারী কোনো অজ্ঞাত বিশাল জীবের, যেটা কিনা সম্ভবত হয়তো নিজের প্রজাতির শেষ বংশধর। শব্দটির ফ্রিকোয়েন্সি ৫২ হার্টজের থেকেও একটু বেশি ছিল, যা তিমি মাছের শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি থেকে অনেক বেশি।
সমুদ্রে বসবাসরত সবচেয়ে বড় নীল তিমিগুলিও শুধুমাত্র ৩০ থেকে ৩২ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত শব্দ তৈরি করতে পারে। তাই ৫২ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত এই শব্দ নিয়ে সব সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিকেরা চিন্তায় ছিলেন। এটা প্রয়োজনীয় নয় যে, শব্দটি তিমি মাছেরই ছিল, যেটা নাও হতে পারে। কিন্তু শব্দটি যে জীবেরই থাকুক না কেন, এটা নিশ্চিত যে জীবটি তিমি মাছের থেকেও আকারে অনেক বড়, হয়তো কয়েক গুণ বড়। এরপরেও এই ৫২ হার্টজের শব্দটি বহুবার শোনা এবং রেকর্ড করা হয়।
আসুন শুনে নিই এই শব্দটিকে:
অনেক অনুসন্ধান করার পরেও জানা যায়নি যে, এই শব্দটি কোন প্রাণী দ্বারা সৃষ্টি হচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত সামনে এসেছে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে, এটি কোনো এক বিশাল দানবাকার নীল তিমির। কিন্তু সঠিকভাবে জোর দিয়ে কেউই বলতে পারে না যে, এটি আসলেই কী। এই অজ্ঞাত জীবটির সম্বন্ধে আমাদের কাছে কোনো নতুন তথ্যই নেই, শুধুমাত্র এর আওয়াজ ছাড়া। আপনারা এই ৫২ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ যুক্ত জীব নিয়ে কী মতামত রাখেন, তা অবশ্যই জানাবেন।
৪. ৬০ ফুট লম্বা বিশালাকার শার্ক (Giant Shark in Mariana Trench)
আগের দশকে জাপানিজ সামুদ্রিক জীব বিজ্ঞানীরা ফিলিপিন্সের পূর্বে অবস্থিত মারিয়ানা ট্রেঞ্চের (Mariana Trench) সামুদ্রিক জীবদের গতিবিধি, ক্রিয়াকলাপ ও নতুন প্রজাতির ওপর সমীক্ষা করছিলেন। ও হ্যাঁ, মারিয়ানা ট্রেঞ্চ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর খাদ। এই খাদটি এতটাই গভীর যে, মাউন্ট এভারেস্টের আপাদমস্তক ডুবিয়ে দিলেও কিছুটা স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের থেকে যাবে। আপনি যদি মারিয়ানা ট্রেঞ্চ নিয়ে ভিডিও দেখতে চান, তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
যাইহোক, বৈজ্ঞানিকদের দল একটি মাছকে চারা হিসাবে ব্যবহার করে এক কিলোমিটার জলের নিচে রেখে দেয়, যেখানে একটি ক্যামেরা লাগিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা আশায় ছিল, পুরনো কিছু প্রজাতির পাশাপাশি নতুন কিছু প্রজাতির জীবও দেখতে পাবেন। তারপর ক্যামেরায় ধরা পড়ে এমন কিছু, যা বৈজ্ঞানিকদের স্তম্ভিত করে দেয়। প্রথমে কিছু অসাধারণ ও পরিচিত প্রজাতির মাছ দেখা যাচ্ছিল। তারপর আগমন ঘটে সেই মহাকায় হাঙ্গর মাছটির। বৈজ্ঞানিকদের অনুমান অনুযায়ী, এই শার্কটি প্রায় ৬০ ফিট লম্বা ছিল। এই বিশাল শার্কটি কোন প্রজাতির, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে বৈঠক বসে যায়। কিন্তু এখনো অবধি জানা যায়নি এটি কোন প্রজাতির শার্ক। কিছু বৈজ্ঞানিক মত দিয়েছেন যে, এটি হয়তো স্লিপার প্রজাতির শার্ক। কিন্তু স্লিপার প্রজাতির হাঙ্গর মাছ ২৩ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। আবার কিছু বৈজ্ঞানিক ২৬ লক্ষ বছর প্রাচীন মেগালোডন (Megalodon) প্রজাতির শেষ হাঙ্গর বলে দাবি করেছেন। এত বড় বড় ও বিশাল শার্কের প্রজাতি আজ থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ বছর পূর্বেই অস্তিত্ব রাখতো এবং এখনকার বর্তমান যুগের শার্কের এরকম ভীম আকার ধারণ করা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।
৫. নিউজিল্যান্ডের সমুদ্রের তীরে পাওয়া সমুদ্র দানব (New Zealand Sea Monster)
২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র তীরে একটি সমুদ্র দানবের ৯ মিটার লম্বা দেহ দেখতে পাওয়া যায়। এই রহস্যটিও কিছুটা সাকলেন দ্বীপের অজ্ঞাত জীবটির মতনই। যাইহোক, এই সমুদ্রের দানবটি তখন জনসমক্ষে ভাইরাল হয়, যখন এলিজাবেথ নামক এক মহিলা এর ফটো ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং ইউটিউবে আপলোড করে। এই ফটো ও ভিডিওগুলি বৈজ্ঞানিকদের ধাঁধায় ফেলে দেয়। এটির প্রায় অনেকটা অংশই সমুদ্রের বালির নিচে চাপা পড়ে থাকায় প্রাণীটিকে ঠিকভাবে বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু একদল সামুদ্রিক জীব বৈজ্ঞানিক একে কিলার ওয়েল (Killer Whale) বা তিমির একটি প্রজাতি বলে আখ্যা দিতে চাইলেও, সেটা প্রমাণিত করা যায়নি। কারণ এই প্রাণীর দাঁতের সাথে কিলার ওয়েলসের সাদৃশ্য থাকলেও, চোয়াল একেবারেই ভিন্ন আকার এবং আকৃতির। আবার একদল গবেষক মনে করেন যে, এটি আসলে কোনো সামুদ্রিক জীবই নয়, এটি স্বাদু জলের কোনো ডলফিন বা কুমিরের কোনো প্রজাতি হতে পারে। কিন্তু রহস্যের ব্যাপারটি হচ্ছে, এই প্রাণী এখানে আসলো কিভাবে? আপনার এই রহস্যময় জীবটি নিয়ে কী ধারণা, তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
উপসংহার
পাশাপাশি মেগালোডন শার্ক বা মারিয়ানা ট্রেঞ্চ নিয়ে ভিডিও দেখতে হলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং পাশাপাশি এই ভিডিওটিকে লাইকও করবেন। বন্ধুদের সাথে শেয়ারও করে ফেলবেন।
কীওয়ার্ডস: সমুদ্রের রহস্য, সামুদ্রিক প্রাণী, অদ্ভুত সামুদ্রিক জীব, অজ্ঞাত দানব, হাঙ্গর, সাকলেন দ্বীপ, ৫২ হার্টজ তিমি, মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, মেগালোডন, নিউজিল্যান্ড সমুদ্র দানব, সামুদ্রিক গবেষণা, অজানা প্রজাতি, গভীর সমুদ্র, তিমি মাছ, ডলফিন, রহস্যময় জীব, সমুদ্রের গভীরতা, প্রাকৃতিক বিস্ময়।
