টাইম ক্যাপসুল: অতীতের বার্তা ভবিষ্যতের জন্য - ৭টি অবিশ্বাস্য গল্প!
বন্ধুরা, বিজ্ঞান আর মানুষের বুদ্ধি বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কতটা এগিয়ে গেছে, সেটা আন্দাজ করা হয়তো এখনো পর্যন্ত আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, আপনারা ভবিষ্যতের মানুষের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে পারবেন কিনা? হ্যাঁ, আপনি সেটা করতে পারবেন। এটার জন্য আপনাকে একটা স্পেশাল কাগজের ওপর কিছু লিখতে হবে এবং তারপর সেটাকে একটি ক্যাপসুলের মধ্যে রেখে আপনার পছন্দ মতন স্থানে লুকিয়ে ফেলতে হবে, সেটা ভবিষ্যতে ২০০ কিংবা ৩০০ বছর পরে যাতে কেউ পড়তে পারে। যাতে আজকের দিনে আপনার অবস্থা সম্বন্ধে সেই ভবিষ্যতের মানুষটি জানতে পারে, বা আজকের দিনে পৃথিবী সম্বন্ধে আপনি তাদেরকে জানাতে পারেন। আর এই প্রক্রিয়াটিকে 'টাইম ক্যাপসুল' (Time Capsule) বলা হয়ে থাকে।
এবার হয়তো আপনি এটাই ভাবছেন, এই রকমটা কেই বা করতে পারে? এটা তো কেবল ইয়ার্কি করবার জন্য। কিন্তু আপনাদেরকে বলে রাখা ভালো, এটা কোনো ইয়ার্কি নয়। এইরকম কাজ অতীতে অনেকেই করেছে। আজকে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে আমি এমনই কিছু টাইম ক্যাপসুল সম্বন্ধে আপনাদের বলব, যেগুলো দেখবার পর আপনারও ইচ্ছা হতে পারে এরকম টাইম ক্যাপসুল বানানোর। তাই ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখার অনুরোধ রইল। তবে বেশি দেরি না করে চলুন, শুরু করা যাক!
১. তুলসা, ওকলাহোমা (Tulsa, Oklahoma): মাটির নিচে হারিয়ে যাওয়া গাড়ি
আজকের প্রথম বিষয়টি হচ্ছে তুলসা, ওকলাহোমা (Tulsa, Oklahoma) জায়গা সম্বন্ধে, যেটা আমেরিকাতে রয়েছে। এখানকার লোকেরা ১৯৫৭ সালে সেই সময়কার একটি বিখ্যাত গাড়িকে মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছিল এবং ঠিক করেছিল, যাতে ৫০ বছর পরে ওই স্থান থেকে ভবিষ্যতের মানুষেরা ওই গাড়িটিকে তোলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ১৯ শতকের লোকেরা কেমন ধরনের গাড়ি ব্যবহার করত, সেই গাড়ির সাথে ভবিষ্যতের মানুষের পরিচয় ঘটানো। তারা অনুমান করেছিল, আগামী ৫০ বছরে ভবিষ্যতের গাড়ি অনেক উন্নত হয়ে যাবে এবং এই পুরনো গাড়িগুলোকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না। তাই তারা সেই গাড়িকে মাটিতে পুঁতে রাখে।
যদিও ২০০৭ সালে যখন এই গাড়িটিকে বাইরে বের করা হয়, তখন গাড়িটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। গাড়িটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। আসলে যে সময়ে এই গাড়িটিকে পোতা হয়েছিল, সেই সময়কার লোকেরা মাটির তলায় থাকা জলের ব্যাপারটা লক্ষ্যই করেনি, যে কারণে গাড়িটি মাটির তলায় থাকা জলের সংস্পর্শে এসে সম্পূর্ণ জং ধরে যায়। আর এখন সেটা কেবল লোহার আবর্জনা ছাড়া কিছুই নয়। ২০০৭ সালে যখন এটাকে বাইরে বের করা হয়েছিল, তখন এই গাড়ির মধ্যে থাকা প্রায় সবকিছু জিনিসই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সম্পূর্ণ গাড়িটিতে শুধুমাত্র ভালো অবস্থায় ছিল আমেরিকার ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ। গাড়িটি বের করবার পর সেটাকে রিস্টোর করে পুনরায় চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেই চেষ্টা সম্পূর্ণ বিফল হয়। আর আজকের দিনে এই গাড়িটি মিউজিয়ামের একটি শোপিস হিসাবে রয়েছে।
২. কাল পাত্র (Kalpataru): ইন্দিরা গান্ধীর টাইম ক্যাপসুল
আপনাদের যদি আমি ক্যাপসুলের কথা এখন বলি, তবে আপনাদের মাথায় কেবল একটি বড় ক্যাপসুলের চিত্র ভেসে উঠবে। কিন্তু এমনটা ভাবা ভুল হবে। কারণ আপনি নিজেও জানেন না, সেইসব জিনিসকে ক্যাপসুল করা যেতে পারে, যেগুলোর মধ্যে আপনি কোনো কাগজ বা জরুরি কোনো সামগ্রী লম্বা সময়ের জন্য সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। আর সেটা আজ থেকে ১০০ হোক কিংবা ৫০০, অথবা ১০০০ বছর পর একই রকম থাকবে, যেমনটা আপনি আজকে রেখেছেন। আর সেটা যেকোনো জিনিসই হতে পারে, যেমন কোনো বাড়ি হোক কিংবা প্রসিদ্ধ কোনো জমিও হতে পারে।
ইন্দিরা গান্ধী যখন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলেন, তখন তার সরকারের স্বাধীনতার ২৫ বর্ষের দিনটাকে মনে রাখবার জন্য কিছু করতে চাইছিলেন। এই কারণে তিনি একটি যোজনা তৈরি করেন, যে যোজনা অনুযায়ী ১৫ই আগস্ট ১৯৭৩ সালে লালকেল্লার (Red Fort) সামনে একটি টাইম ক্যাপসুলকে পোতা হয়েছিল। সরকারের মতামত অনুযায়ী, এই টাইম ক্যাপসুলের মধ্যে রাখা হয়েছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতার শুরুর ২৫ বছরের উপলব্ধি সম্বন্ধে বিশেষ বিবরণের কাগজপত্র। দেশের প্রাচীন ইতিহাস থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি বিশেষ বিবরণের মাধ্যমে কাগজে লেখা হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে সরকার এই টাইম ক্যাপসুলটির নাম দিয়েছিল 'কাল পাত্র'।
কাল পাত্রের মধ্যে ভারতীয় ইতিহাসের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখা হবে, এটার ভার দেওয়া হয় ভারতীয় ইতিহাস অনুসন্ধান পরিষদকে। মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজের ইতিহাসের প্রফেসর এস. কৃষ্ণাস্বামী (S. Krishnaswamy) এই সকল সামগ্রীগুলোকে তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এই যোজনাটির শুরুতেই রাজনৈতিক বিবাদ হিসাবে ধরে নেওয়া হয়। কৃষ্ণাস্বামী, কাল পাত্রের ভেতর রাখা কাগজপত্রের ডিটেলস প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ বদ্রীনাথকে (Badrinath) পাঠিয়ে দেন এবং তাদের এই সম্বন্ধে বক্তব্য জানাতে চান। বদ্রীনাথ এই সম্বন্ধে বিষয়ের ওপর অধ্যয়ন করবার পর সবার সামনে এই বিষয়ে আলোচনা করে ফেলেন। ওনার মতামত অনুযায়ী, কাল পাত্রের ভেতরে রাখা সমস্ত কাগজপত্রের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের ভুল প্রশস্তিকরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলদের বক্তব্য ছিল যে, ইন্দিরা গান্ধী নিজের সম্বন্ধে এবং তার পরিবার সম্বন্ধে বিভিন্ন লিখিত সামগ্রী কাগজপত্রে রেখেছিলেন।
এই ঘটনা সম্বন্ধে আরও একটি অবাক করার বিষয় এটাই ছিল যে, কাল পাত্রের মাটির তলায় পোতার জন্য প্রায় ৪০০০ টাকা খরচ হয়েছিল, কিন্তু সেটাকে বাইরে বের করবার জন্য সরকারের ৫৮০০০ টাকার বেশি খরচা করতে হয়েছিল। কাল পাত্র যে মাটি থেকে বের করে নেওয়া হয়েছিল, এটার সম্বন্ধে রাজনৈতিক ইতিহাসবিদদের কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু পরে সেটার কী হয়েছিল, সেটা কেউই জানে না। এবং এটাও পরিষ্কার নয় যে, কাল পাত্রে রাখা কাগজপত্রতে আসলে কী লেখা হয়েছিল।
৩. স্টিভ জবস (Steve Jobs): অ্যাপেলের টাইম ক্যাপসুল
অ্যাপেলের (Apple) ফাউন্ডার স্টিভ জবস এর জীবন সবার জন্য খুবই প্রেরণাদায়ক। উনি যেভাবে নিজের জীবনের কঠিন কঠিন স্থিতির সঙ্গে সংঘর্ষ করে নিজের সফলতা অর্জন করেছেন, সেটা সত্যিই এক কথায় অসাধারণ। স্টিভ জবস এর জীবনে এমন সময়ও ছিল, যখন তাকে পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য মন্দিরের খাবার পর্যন্ত খেতে হয়েছিল এবং বন্ধুর বাড়িতে মাটিতে শুতেও হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, তিনি জীবনের সেই পরিস্থিতি দেখেছেন, যখন তাকে নিজের কোম্পানি অ্যাপেল থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত কিছু হওয়ার পরেও তিনি কখনো হার মানেননি, বরং প্রতি ধাপে ধাপে নিজে আগে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
তিনি ১৯৮৩ সালে যখন আইপ্যাড বানানোর কথা ভাবেন, তখন তার মাথায় একটি ভাবনা আসে। তিনি একটি টাইম ক্যাপসুল কিনে তার ভেতরে নিজের কিছু ডিভাইস কিছু দশকের জন্য মাটির তলায় রেখে দেন, যাতে ফিউচারে যদি এটা কেউ পায়, তবে সে যেন জানতে পারে ১৯৮৩ সালে মানুষ কী ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করত। এরকমই তিনি আরও একটি টাইম ক্যাপসুল কেনেন এবং তার মধ্যে কিছু জরুরি সামগ্রী যেমন বিয়ারের বোতল, ব্লুজের কিছু অ্যালবাম আর অ্যাপেলের প্রথম দিকের কম্পিউটারের মাউস - এই সমস্ত সামগ্রী একটি ৩ ফুট লম্বা টাইম ক্যাপসুলের মধ্যে রেখে দেন। আর ওই ক্যাপসুলটিকে মাটির নিচে তিনি এক জায়গায় পুঁতে দেন।
২০০০ সালে যখন এটাকে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হয়, তখন ল্যান্ড শিফটিংয়ের (Land Shifting) কারণে ক্যাপসুলটা মাটির তলাতেই কোথাও হারিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করবার পরেও সেটাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২০১৩ সালে সেটাকে খোঁজার আবারও চেষ্টা করা হয়। আর শেষমেশ আধুনিক ইকুইপমেন্ট থাকার কারণে সেটাকে খুঁজে বের করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটাকে দেখবার জন্য স্টিভ জবস বেঁচে ছিলেন না, কারণ ২০১১ সালে তিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এই বাক্সটাকে যখন খোলা হয়, তখন দেখা যায়, তিন দশক কেটে যাওয়ার পরেও অ্যাপেলের প্রথম দশকের কম্পিউটারের মাউস সম্পূর্ণভাবে সঠিক ছিল, আর সেটা এখনো ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. জুলিয়াস ভার্ন (Jules Verne): লেখকের গোপন বাক্স
ফেমাস ফ্রেঞ্চ অথর জুলিয়াস ভার্নের (Jules Verne) নাম তো আপনারা প্রায় বেশিরভাগ লোকেরাই শুনেছেন। তিনি তার ফেমাস নোবেল 'অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ'-এর (Around the World in Eighty Days) কারণে খুবই ফেমাস ছিলেন। জুলিয়াস ভার্নের জন্মের ব্যাপারে সেরকম ভালো তথ্য আমাদের কাছে নেই, কিন্তু ওনার মৃত্যু ১৯০৫ সালে হয়েছিল। আপনি এটা জেনে অবাক হবেন যে, উনি নিজের সময়ে একটি টাইম ক্যাপসুল বানিয়েছিলেন, যেটার ভেতরে তিনি তার সময়ের বহু জিনিস রেখেছিলেন। তিনি এই টাইম ক্যাপসুলটি মাটির তলায় কখন রেখেছিলেন, এটার সঠিক অনুমান এখনো পর্যন্ত কারো কাছেই নেই, কিন্তু এটা ২০১৭ সালে বের করা হয়। এবং সেটাকে আর্কিওলজিস্টদের মতামত অনুযায়ী, এই ক্যাপসুলটি প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ বছর পুরনো।
এই বাক্সের উপর জুলিয়াস ভার্ন কিছু লিখেও ছিলেন, কিন্তু সেটা বহু বছর ধরে মাটির তলায় থাকার কারণে মুছে গিয়েছিল। আর্কিওলজিস্টরা সর্বপ্রথম এর ভেতরে কী আছে, সেটা দেখার জন্য স্নেক ক্যামেরার (Snake Camera) ব্যবহার করেন, যাতে এই বাক্সটি না ভেঙে ভেতরে কী আছে, সেটা জানতে পারা যায়। কিন্তু এইরকম করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি, কারণ এই বাক্সে কোনো জায়গা থেকেই স্নেক ক্যামেরা ঢোকানোর মতো জায়গা ছিল না। কারণ এই বাক্সের কমপ্লেক্স অনেকটা ভিন্ন ধরনের। তাই শেষমেশ এটাকে ভাঙতেই হয়। বাক্সটির ভেতরে একটি টেলিস্কোপ, একটি ট্রায়াঙ্গেল, একটি নিউজপেপার, একটি কয়েন আর অনেকগুলো চাবি পাওয়া গেছে। এগুলো ছাড়াও এই বাক্সের মধ্যে একটি বইও পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ইউরোপের একটি ম্যাপ। এগুলির মধ্যে তার কিছু লেখা ছিল, যেগুলোর মধ্যে তিনি চাঁদের সম্পর্কে অনেক কিছু লিখেছিলেন।
৫. এমআইটি (MIT): এক হাজার বছরের জন্য লুকানো ক্যাপসুল
বন্ধুরা, এই পৃথিবীতে এমন কিছু লোক আছে, যারা মনে করেন যে, কোনো ক্যাপসুল ২০ কিংবা ৫০ বছরের মধ্যে খোলা সেরকম বড় কিছু ব্যাপার না। এ কারণে কিছু লোক মনে করেন যে, ক্যাপসুলের ব্যবহার লম্বা সময়ের জন্য হওয়া উচিত। তার সঙ্গে সেগুলোর ভেতরে আমাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস সম্বন্ধে কিছু তথ্য রাখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতের লোকেরা ৫০০ কিংবা ১০০০ বছরের ইতিহাস সম্বন্ধে জানতে পারে।
১৯৯৭ সালে এমআইটির (MIT - Massachusetts Institute of Technology) প্রেসিডেন্ট নিচে একটি টাইম ক্যাপসুল পুঁতে দেন। আর সেটার উপর পরিষ্কারভাবে লিখে দেয় যে, এটাকে ২৯৯৫ সালের আগে যেন কোনোভাবেই খোলা না হয়। আর ১০০০ বছর পর যখন লোকেরা এটা খুঁজে পাবেন, তখন সেই সময়ের লোকেরা যাতে ১৯৯৭ সালে ব্যবহার করা টেকনোলজি সম্বন্ধে জানতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই ভাবনা সফল হয়নি, কারণ এই কনস্ট্রাকশনের কাজ চলাকালীন যারা সেখানে কাজ করছিল, সেই ওয়ার্কাররা এটিকে খুঁজে পায়। তারপর সেই ওয়ার্কাররা ওই ক্যাপসুল নিয়ে গিয়ে এমআইটি প্রেসিডেন্টকে দিয়ে দেয়।
এটা দেখতে অনেকটা কাঁচের তৈরি টিউব মনে হয়, যেটার ভেতরে একটি জিনিস বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। এই টিউবটির ভেতরে তিনি কিছু ছোট ছোট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, একটি স্ট্যান্ডার্ড ট্রান্সমিটার, এক্সপেরিমেন্টাল অল্টারনেটিভ এবং অনেকগুলো পেপারের সঙ্গে সঙ্গে বহু রিসার্চের কাগজ রেখেছিল। যখন ওয়ার্কাররা এই টিউবটিকে যখন এমআইটি প্রেসিডেন্টের হাতে দেওয়া হয়, তখন এমআইটির প্রেসিডেন্ট কলেজের কিছু পুরনো পেপার চেক করেন এবং জানা যায়, এই ক্যাপসুলটি এমআইটির খুব পুরনো একজন প্রেসিডেন্ট, যার নাম জেমস আর. ক্লাইন (James R. Killian)। তিনি এই ক্যাপসুলটিকে সেইখানে মাটিতে পুঁতেছিলেন। তিনি এই ক্যাপসুলটাকে একটি নিউক্লিয়ার সায়েন্সের মাধ্যমে তৈরি করে মাটির তলায় পুঁতে ছিলেন। এগুলির ভেতরে রাখা জিনিস এবং লেখা কন্টেন্ট ১০০০ বছর পর্যন্ত সঠিক রাখার জন্য ওই ক্যাপসুলের মধ্যে অর্গন গ্যাস (Argon Gas) ভরেছিলেন। আর তারপরে ওই কাঁচের তৈরি টিউবটাকে হেভি এয়ার প্রেসারের মধ্যে ব্লু টর্চের মাধ্যমে সেট করে দিয়েছিলেন।
যদিও এই ক্যাপসুলটাকে আর খোলা হয়নি এবং ওয়ার্কাররা সেখানেই আবার মাটির তলায় ওই ক্যাপসুলটাকে পুঁতে দেন, যেখানে এটা আগে পোতা হয়েছিল। যাতে ৯০০ বছর পরে আবারও কোনো মানুষ ক্যাপসুলটাকে ওখান থেকে বের করতে পারে এবং ১০০০ বছর ইতিহাস সম্বন্ধে বা মানুষের জীবন সম্বন্ধে তারা জানতে পারে।
উপসংহার
তো বন্ধুরা, আজকের ভিডিওটি এইটুকুই। আজকের টাইম ক্যাপসুলগুলো কেমন লাগলো, অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। যদি টাইম ক্যাপসুল সম্বন্ধে আরও ভিডিও চান বা পার্ট টু চান, অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর ভিডিওটিকে ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করবেন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ারও করবেন। আর এখনো যদি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকম ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে।
কীওয়ার্ডস: টাইম ক্যাপসুল, ভবিষ্যতের বার্তা, তুলসা ওকলাহোমা, কাল পাত্র, ইন্দিরা গান্ধী, স্টিভ জবস, অ্যাপেল, জুলিয়াস ভার্ন, এমআইটি, হারানো আবিষ্কার, গোপন রহস্য, ঐতিহাসিক বস্তু, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, টাইম ট্রাভেল, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, প্রাচীন ইতিহাস, আধুনিক বিজ্ঞান।
