১৫টি বিপজ্জনক বিশ্ব রেকর্ড: যা আপনার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেবে!
হেই বন্ধুরা, একটা ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানো কোনো সহজ ব্যাপার নয়। ওয়ার্ল্ড রেকর্ড মানে এমন একটি কাজ করা, যেটা এর আগে কেউ এরকম ভাবে এতো স্পিডে এবং সফলতার সঙ্গে করতে পারেনি। ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানো খুবই কঠিন একটি কাজ। কিন্তু এই ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানাতে পারা ব্যক্তির নাম ইতিহাসের পাতায় নথিভুক্ত হয়ে যায়। ওয়ার্ল্ড রেকর্ড যেকোনো প্রকারের হতে পারে, কারণ গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড (Guinness Book of World Records) এমন সব ধরনের ওয়ার্ল্ড রেকর্ড একসেপ্ট করে, যেগুলো সাধারণ মানুষকে আশ্চর্য করবার জন্য যথেষ্ট এবং যেগুলো অন্যান্যদের দ্বারা করা সম্ভব নয় বা যেগুলো অন্যান্য ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে আলাদা হয়। কিছু কিছু ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তো খুবই বিবাদজনক এবং অদ্ভুতও হয়। তাই আজ 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে ১৫টি বিপদজনক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সম্বন্ধে জানব, যা আপনাদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেবে। তাই বেশি দেরি না করে চলুন, শুরু করা যাক!
১. স্টিলম্যান অফ ইন্ডিয়া (Steel Man of India): অমরদীপ সিং
যেমনটা আপনারা সবাই জানেন, ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানোর দিক থেকে ইন্ডিয়া তৃতীয়তম দেশ হিসাবে পরিচিত। হরিয়ানাতে বসবাস করা অমরদীপ সিং (Amardeep Singh) পুরো পৃথিবীতে 'স্টিল ম্যান অফ ইন্ডিয়া' নামে খুবই পরিচিত। ইনি আজকের লিস্টে প্রথমে কেন রয়েছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। এই ব্যক্তি ২০০০-এর থেকেও বেশি বিপদজনক স্টান্ট এখনো পর্যন্ত করেছে। নিজের দাঁতের সাহায্যে ৬৫ কিলো ওজনের মানুষকে তোলা হোক, কি মোটা মোটা লোহার পাইপের আঘাতকে নিজের শরীর দিয়ে আটকানো হোক, আবার ধরুন নিজের চেস্ট মানে বুক, হাত এবং পায়ের মাঝখানে হাতুড়ির বাড়ি সহ্য করা হোক, কিংবা দুখানা বাইককে একসঙ্গে ওঠানো হোক বা নিজের শরীরের ওপর দিয়ে ট্রাককে নিয়ে যাওয়া হোক - এরকম বহু বিপজ্জনক স্টান্ট এই ব্যক্তি করে ফেলেছে এবং বহু ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও বানিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এই ব্যক্তির এতো ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানোর পরেও এখনো পর্যন্ত কোনো রকম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তিনি ভাগ নিতে পারেননি। কিন্তু আশা করা যায়, কিছু সময়ের মধ্যে তিনি নিজের নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নথিভুক্ত করতে পারবেন। ২০০৯ সালে হওয়া 'মিস্টার সিং কম্পিটিশন'-এ ইনি 'স্টিলম্যান অফ ইন্ডিয়া'র টাইটেল পেয়েছেন। আপনাদের বলে রাখা ভালো যে, এই কম্পিটিশনে ১৫,০০০-এরও বেশি শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু ইনি সবাইকে হারিয়ে দিয়েছিলেন।
২. ডেভিড ব্লেইন (David Blaine): ম্যাজিকের মাস্টার
ইনি আমেরিকার একজন বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান। এনার বয়স ৪৭ বছর। ইনি বহু বিখ্যাত টিভি শো এবং সিনেমাতেও অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও ডেভিড নিজের আলাদা আলাদা ম্যাজিক ট্রিকের কারণে পরিচিত, কিন্তু ১৯৯৯ সালের ৫ই এপ্রিল ডেভিড এমন একটি ম্যাজিক করে, যেখানে ডেভিড নিজেকে একটি কাঁচের বাক্সে বন্ধ করে মাটির নিচে চাপা দিয়ে দেয় এবং তার উপর জল ভর্তি একটি কাঁচের বাক্স চাপিয়ে দেয়, যাতে লোক তাকে পরিষ্কারভাবে দেখতে পারে। অবাক করার বিষয় এটাই যে, ডেভিড পুরো ৭ দিন কোনো কিছু না খেয়ে ওই কাঁচের বাক্সের মধ্যে কাটিয়ে দেয় আর নিজের নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নথিভুক্ত করে ফেলে। এগুলো ছাড়াও তিনি এমন বহু ম্যাজিক করেছেন, যেমন একটি বড় সুঁইকে নিজের হাতের মধ্যে দিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিয়ে যাওয়া। এরকম বহু বিপজ্জনক ম্যাজিক ট্রিট তিনি দেখিয়েছেন, যেগুলো দর্শকেরা দেখে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল।
৩. ভেসপি খার্দি ও ভেসপি কাসাদ (Vespi Khardi & Vespi Kasad): পেটে তরমুজ কাটার রেকর্ড
ভেসপি কাসাদ (Vespi Kasad), যিনি ইন্ডিয়ার একজন ফেমাস মার্শাল আর্টিস্ট। ইনি নিজের সহকর্মী ভেসপি খার্দির (Vespi Khardi) সঙ্গে ২০১৮ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী পেটের ওপর সবচেয়ে বেশি তরমুজ কাটার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানিয়েছেন। ইনি এক মিনিটে ৪৯টি তরমুজ তরোয়ালের সাহায্য নিয়ে পেটের ওপর কেটে আমেরিকার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙেছিলেন। এই ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এতটাই বিপদজনক যে, তলোয়ারের প্রেসার যদি একটু বেশি হতো, তবে তার পার্টনারের পেট কেটে যেত। আপনাদের এটাও জেনে রাখা ভালো, এই টিম এগুলি ছাড়াও আরও বিভিন্ন ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজেদের নামে করেছে। চোখে কাপড় বেঁধে নিজের পার্টনারের শরীরের ওপর সবজি কাটা থেকে শুরু করে পেরেকের বিছানায় একের পর এক মানুষ রেখে পৃথিবীর সবথেকে বড় স্যান্ডউইচ বানানো - এরকম বহু বিপদজনক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে নথিভুক্ত করেছে।
৪. হোল্ডিং ব্রেথ (Holding Breath): নিঃশ্বাস আটকে রাখার রেকর্ড
মানে সবচেয়ে বেশি সময় পর্যন্ত নিজের নিঃশ্বাস আটকে রাখা। যদি সাধারণ মানুষের কথা বলা হয়, তবে একজন সাধারণ ব্যক্তি খুব জোর নিজের ২ থেকে ৩ মিনিট নিঃশ্বাস আটকে রাখতে পারবে। আর অন্যদিকে, একজন ট্রেন্ড ব্যক্তি ৯ মিনিট পর্যন্ত নিজের নিঃশ্বাস আটকে রাখতে পারবে। কিন্তু অ্যালেক্সো আগুরা (Aleixo Agura) নামের এক ব্যক্তি, যিনি স্পেনের একজন বসবাসকারী, তিনি ২০১৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী ৮ কিংবা ১০ মিনিট নয়, বরং পুরো ২৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত জলের তলায় নিজের নিঃশ্বাস আটকে রেখে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। অ্যালেক্সো এই ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানোর জন্য বহু বছর ধরে প্র্যাকটিস করেছিল।
৫. দ্য ব্যালেন্সিং আর্ট (The Balancing Act): ভিয়েতনামের অসাধারণ স্টান্ট
এবার আপনারা একটু ভেবে দেখুন তো, যদি আপনার মাথায় একটি জল ভর্তি কলসি রেখে দেওয়া হয় এবং আপনাকে বলা হয়, কোনো রকম হাত না লাগিয়ে আপনাকে দ্রুত সিঁড়ি চড়তে হবে, তাও আবার এক মিনিটে ৯৭টি সিঁড়ি। তবে আপনি কি সেটা করতে পারবেন? ভিয়েতনামের এই দুটি ছেলে এরকমই একটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানিয়েছে, যেটা আমরা হয়তো মাথায় জল ভর্তি কলসি রেখেও করতে পারব না। এই দুটো ছেলের মধ্যে একটি ছেলে দ্বিতীয় ছেলেটিকে নিজের মাথার উপর উল্টো করে ৯৭টি সিঁড়ি উঠেছিল, তাও আবার মাত্র এক মিনিটে। এটা এতটাই অসাধারণ স্টান্ট ছিল যে, এদের দেখতে স্পেনে বহু লোক এক জায়গায় জড়ো হয়ে গিয়েছিল। এটাকে দেখে যতটা সিম্পল স্টান্ট মনে হয়, এটা তার থেকেও অনেক বেশি কঠিন। এদের মধ্যে একজনেরও যদি সামান্যতম ব্যালেন্স এদিক থেকে ওদিক হতো, তবে উপরে থাকা ছেলেটির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারত।
৬. কেভিন পাস (Kevin Fast): পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বৃদ্ধ
এবার দেখে নিন কানাডার একটি চার্চের একজন বৃদ্ধ ফাদারকে, যিনি ৩২টারও বেশি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড জিতেছেন। এনাকে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী বৃদ্ধ বললেও খুব একটা ভুল হবে না। ইনি ২০০৯ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮৩০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি উড়োজাহাজ টেনে এনে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এটা ছাড়াও তিনি আরও বহু ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে করেছেন, যেমন ১৫টি একসাথে টানা গাড়ি টানা। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে এনাকে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী ব্যক্তির খেতাব দেওয়া হয়েছে।
৭. ওলগা লিয়াস (Olga Liaschuk): থাই দিয়ে তরমুজ ভাঙার রেকর্ড
ইউক্রেনে বসবাসকারী এই মহিলার নাম ওলগা (Olga Liaschuk), যিনি একটি অদ্ভুত ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে নথিভুক্ত করেছেন। ইনি এক মিনিটের মধ্যে অনেকগুলো তরমুজ নিজের থাইয়ের প্রেসার দিয়ে ভেঙে ফেলতে পারেন। আর আপনারা প্রায় সবাই জানেন যে, থাই মাসলে অতটা শক্তি থাকে না যে, সেটার সাহায্যে তরমুজের মতন শক্ত ফলকে ভাঙতে পারবে। কিন্তু এই মহিলার থাইয়ে একটু বেশি শক্তি রয়েছে। ইনি ১৪ সেকেন্ডে ৩টে তরমুজ ভেঙে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। ২০১৪ সালে ওলগা নিজের নামে একটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানিয়ে ইউক্রেনে প্রথম মেয়ে হিসাবে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছিলেন।
৮. হাইয়েস্ট রোগ স্টান্ট (Highest Rope Stunt): নিক ওয়ালিন্ডা
এবার আপনি যে সাহসী ব্যক্তিটাকে দেখবেন, তিনি হলেন নিক ওয়ালিন্ডা (Nik Wallenda)। তাঁর দুঃসাহসিকতা দেখে আপনি অবাক হতে বাধ্য হবেন। তিনি অনেক উঁচুতে বাঁধা একটি দড়ির ওপর দিয়ে কোনো রকম সেফটি ইকুইপমেন্ট ছাড়াই খুবই সাধারণ ভাবে হেঁটে যেতে পারেন। এরকমই কয়েকটি ভয়ঙ্কর স্টান্ট করে তিনি পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছেন।
২০১২ সালের ১৫ই জুন তিনি নায়াগ্রা জলপ্রপাতের (Niagara Falls) উপর দিয়ে হেঁটে যান। এবং তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি সরাসরি নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উপর দিয়ে হেঁটেছিলেন। এরপর তিনি ২০১৩ সালে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃসাহসিক স্টান্ট করেছিলেন। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের (Grand Canyon) ভয়ঙ্কর উপরে হাওয়াতে বাঁধা দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে, তাও আবার কোনো রকম সাপোর্ট ছাড়াই। তিনি এই স্টান্টটি সফলতার সঙ্গে সম্পূর্ণ করে পুরো বিশ্বকে নিজের সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। এই বিপদজনক এবং মারাত্মক স্টান্টটি করবার পর তিনি আরও কয়েকটি স্টান্ট করেন এবং বর্তমানে ৯খানা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তার নামে, যেগুলো এখনো পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি। আর আমার পরামর্শ থাকবে, ভাঙবার চেষ্টাও করবেন না।
৯. আর্চারি বাই ফুট (Archery by Foot): পায়ের সাহায্যে তীর চালানো
আর্চারি (Archery) ওপর বহু ওয়ার্ল্ড রেকর্ড আছে। আর সাধারণ মানুষ হাতের সাহায্য নিয়ে তীর চালায়, কিন্তু পায়ের সাহায্য নিয়ে তীর চালানোর মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। তাদের মধ্যে একজন হলো ন্যান্সি সাইফকার (Nancy Siefker)। তিনি ২০ ফুট দূর পর্যন্ত পায়ের সাহায্যে টার্গেট হিট করতে পারেন। এটা সত্যি খুবই অবাক করার মতো। এখনো পর্যন্ত তার কোনো টার্গেট মিস যায়নি। প্রতিটা টার্গেট সে সফলতার সাথে সম্পূর্ণ হয়েছে। যে কাজ সাধারণ মানুষের পক্ষে করাই খুবই কঠিন, সেটা এই মহিলা পা দিয়ে অনায়াসে করে ফেলে। শুধু তাই নয়, স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ১২ ইঞ্চি ডায়ামিটারের মধ্যেই নিশানা করতে হয়, কিন্তু ইনি মাত্র ৫.৫ ইঞ্চি ডায়ামিটারের মধ্যে সহজে হিট করতে পারেন। আর তার এই অসাধারণ নিশানা হিট করার ক্ষমতাই তাকে বিশ্বরেকর্ড এনে দিয়েছে।
১০. হাইয়েস্ট স্কাই ডাইভ (Highest Skydive): ফেলিক্স বমগার্টনার
বর্তমানে স্কাই ড্রাইভিং (Skydiving) একটি সাধারণ খেলায় পরিণত হয়েছে। আর অনেক মানুষ এটা করতেও ভীষণ পছন্দ করে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে, তারা যেকোনো কাজকে এক্সট্রিম লেভেলে নিয়ে যেতে পছন্দ করেন। আর এরকমই একজন ব্যক্তি, যার নাম হলো ফেলিক্স বমগার্টনার (Felix Baumgartner)। তিনি মহাকাশে গিয়ে সেখান থেকে লাফ দিয়েছেন। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন, তিনি মহাকাশ থেকে লাফ দিয়েছেন!
ভূপৃষ্ঠ থেকে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ফুট উপরে গিয়ে এই ধরনের স্টান্ট করবার জন্য খুব সাহস এবং মনের জোরের দরকার, যেটা এই পৃথিবীতে খুব কম মানুষেরই আছে। আমার তো একদমই নেই। এটা জানলে আরও অবাক হবেন, তিনি উপর থেকে নিচে পড়ার সময় তার গতিবেগ পৌঁছে গিয়েছিল ১৩৫৭ কিলোমিটার পার ঘন্টায়, যেটা কল্পনার বাইরে। উপর থেকে নিচে আসতে তার প্রায় ৪ মিনিট ১৯ সেকেন্ড সময় লেগেছিল, যেটা পৃথিবীর সবথেকে বড় ফ্রি ফল (Free Fall) হিসাবে ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নথিভুক্ত হয়েছে। মহাকাশে পৌঁছানোর জন্য তাকে একটি ছোট্ট বাঙ্কারে বসানো হয়েছিল। আর বাঙ্কারটি একটি হিলিয়াম দিয়ে ভর্তি একটি বড় বেলুনের মধ্যে বাঁধা ছিল, যেটা তাঁকে উপরে নিয়ে গিয়েছিল।
১১. ব্যালেন্সিং কার অন হেড (Balancing Car on Head): জন ইভান্স
যদি আপনি মাথার কখনো কোনো জিনিস তুলে থাকেন, তবে আপনার এটা নিশ্চয়ই মনে আছে, সেটার জন্য মাথায় কতটা ব্যথা সহ্য করতে হয়। সেই জায়গায় সম্পূর্ণ একটি গাড়ি মাথায় তোলা কি সম্ভব? ঠিক এইরকমই দুঃসাহসী একটি স্টান্ট করে দেখিয়েছেন জন ইভান্স (John Evans)। বহু বছর ধরে প্রচুর প্র্যাকটিস করবার পর তিনি একসঙ্গে এত ওজন মাথার উপর নিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি গাড়িটা শুধু মাথার উপর তোলেনইনি, গাড়ি থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে পুরো গাড়িটাকে ব্যালেন্স অবস্থায় ৩৩ সেকেন্ড পর্যন্ত মাথার উপর রেখেছিলেন।
১২. টু হুইল কার স্টান্ট (Two-Wheel Car Stunt): লি লিন
আপনারা বিভিন্ন টিভি শোতে কিংবা সিনেমাতে নানান ধরনের স্টান্ট দেখেছেন। তার মধ্যে একটা হলো চারচাকা গাড়ি মাত্র দুই চাকার ওপর কাত করে চালানো। এবার প্রশ্ন হলো, একটা চারচাকা গাড়ি দুই চাকার উপর ভর করে কতদূর যেতে পারবে? ৪০ ফুট, ৬০ ফুট বা খুব জোর হলে ১০০ ফুট? কিন্তু এইরকম ভাবে ৩২৮ ফুট যাওয়া কি সম্ভব? মনে হতে পারে এটা অসম্ভব। কিন্তু এটাকেই সম্ভব করে চীনের বাসিন্দা লি লিন (Li Lin) তৈরি করেছেন একটি নতুন ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। তিনি কেবলমাত্র দুই চাকা দিয়ে গাড়ি চালাননি, গাড়িটি চালিয়েছেন মাত্র ২২ ইঞ্চি চওড়া একটি প্ল্যাটফর্মের উপর দিয়ে। এই প্ল্যাটফর্মটি গাড়ি চালানোর জন্য এতটাই ছোট ছিল যে, তার আগে অন্য দুজন বিখ্যাত স্টান্টম্যান এতে অসফল হয়ে গিয়েছিলেন এবং এদের গাড়িও সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছিল। কিন্তু লি লিন এই প্ল্যাটফর্মের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাড়িটির ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ১০০ মিটার লম্বা প্ল্যাটফর্মের উপর এইভাবে গাড়ি চালিয়ে লি লিন, গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছিল এবং তার সঙ্গে পুরো বিশ্বে অনেক সুনাম অর্জন করেছিল।
১৩. গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন জাম্প (Grand Canyon Jump): রবি কিবেল
এবার যেই ব্যক্তিকে দেখবেন, তিনি তার বাবার অধরা স্বপ্ন সফল করবার জন্য বাইকে বসে ২২৮ ফুট লম্বা লাফ দেন। তাও আবার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উপর দিয়ে। এই ব্যক্তির নাম হলো রবি কিবেল (Robbie Knievel)। ইনি ১৯৯৯ সালে বাইকে বসে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উপর দিয়ে লাফ দিয়ে নিজের নাম ইতিহাসে নথিভুক্ত করেছিলেন। তার বাবার স্বপ্ন ছিল, ইনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উপর দিয়ে লাফ দেবেন, কিন্তু তার বাবা সেটা পূরণ করতে পারেননি। তাই তার ছেলে রবি তার বাবার সেই স্বপ্ন নিজে পূরণ করেছিলেন। খাদ থেকে আড়াই হাজার ফুট উপর থেকে ১৩০ কিলোমিটার পার ঘন্টার গতিবেগে যখন রবি জাম্প করেছিল, তখন তিনি নিজেও জানতেন না যে, তিনি জীবিত থাকবেন নাকি থাকবেন না। তবে আনন্দের ব্যাপার হলো, সামান্যতম আঘাত পেয়ে তিনি সাফল্যের সঙ্গে এই স্টান্টটি সম্পন্ন করেছিলেন এবং বাবার স্বপ্নকে পূরণ করেছিলেন।
১৪. বাস্কেটবল অন টুথব্রাশ (Basketball on Toothbrush): সন্দীপ সিং
এবার একটি প্রশ্ন। একটা বাস্কেটবল নিয়ে কত রকম ভাবে খেলা যেতে পারে? আঙ্গুলের ওপর, মাথার ওপর বা সাধারণ ভাবে খেলা যেতে পারে। কিন্তু আপনারা কি কখনো দেখেছেন? একটি বাস্কেটবল দাঁত মাজার ব্রাশের উপর ঘুরছে? হয়তো এর আগে কখনো দেখেননি। তবে দেখে নিন, পাঞ্জাবের বাসিন্দা সন্দীপ সিং (Sandeep Singh) মুখে ধরে রাখা ব্রাশের উপর ৫৩ সেকেন্ড পর্যন্ত বাস্কেটবলকে ঘুরিয়েছেন। আর তার এই ব্যালেন্স করবার অসাধারণ ক্ষমতা ২০১৭ সালে বিশ্ব রেকর্ডে পরিণত হয়েছে। এটা এখনো পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি। বলটা ঘোরানোর সময় তার মনোযোগ এতটাই বেশি ছিল যে, তার আশেপাশে থাকা লোকজনের থেকে সে একটুও ডিস্টার্ব হয়নি।
১৫. হাইয়েস্ট বাস্কেটবল শট (Highest Basketball Shot): ডেরেক হ্যারেন
এই ওয়ার্ল্ড রেকর্ডটি অন্য রকমের। অনেক ইউটিউবার এই বিশ্বরেকর্ডটি করেছেন, আবার অন্যদিকে অনেক ইউটিউবার সেই রেকর্ডটিকে ভেঙেও দিয়েছেন। ২০১৬ সালে 'ডুড পারফেক্ট' (Dude Perfect) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের সদস্য ৫৩৩ ফুট উঁচু থেকে বাস্কেটবল বাস্কেটের ভেতরে ঢোকাতে সক্ষম হয়েছিল। আর যেটা কিনা সত্যি অসাধারণ ছিল। তারপর ২০১৮ সালে 'হাউ রিডিকিউলাস' (How Ridiculous) নামের ইউটিউব চ্যানেলের একজন সদস্য ডেরেক হ্যারেন (Derek Herron) ৬৬০ ফুট উঁচু থেকে বাস্কেটবল বাস্কেটে প্রবেশ করান এবং বর্তমানে এই ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তার নামেই রয়েছে।
উপসংহার
তো বন্ধুরা, আজকের ভিডিওটি এইটুকুই। যদি ভালো লেগে থাকে, তবে অবশ্যই লাইক করবেন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। পাশাপাশি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে।
কীওয়ার্ডস: বিশ্ব রেকর্ড, গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, বিপজ্জনক স্টান্ট, অমরদীপ সিং, ডেভিড ব্লেইন, ভেসপি খার্দি, ভেসপি কাসাদ, নিঃশ্বাস আটকে রাখা, অ্যালেক্সো আগুরা, ব্যালেন্সিং আর্ট, কেভিন ফাস্ট, ওলগা লিয়াস, নিক ওয়ালিন্ডা, আর্চারি বাই ফুট, ন্যান্সি সাইফকার, স্কাই ডাইভ, ফেলিক্স বমগার্টনার, জন ইভান্স, লি লিন, রবি কিবেল, সন্দীপ সিং, ডেরেক হ্যারেন, দুঃসাহসিক রেকর্ড, মানব ক্ষমতা, অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
