সূর্যের উপর এক বালতি জল ঢাললে কী হবে? জানুন মহাজাগতিক এক অদ্ভুত রহস্য!

সূর্যের উপর এক বালতি জল ঢাললে কী হবে? জানুন মহাজাগতিক এক অদ্ভুত রহস্য!

সূর্যের উপর এক বালতি জল ঢাললে কী হবে? জানুন মহাজাগতিক এক অদ্ভুত রহস্য!

হেই বন্ধুরা! আমি যদি আপনাদের প্রশ্ন করি যে, এই পৃথিবীতে সব থেকে পাওয়ারফুল, ডেঞ্জারাস আর অ্যাগ্রেসিভ অ্যানিম্যাল কোনগুলো? তাহলে আপনারা হয়তো মনে মনে সিংহ, টাইগার, ফক্স আর যত বন্য জীব আছে, এদের কথাই বলবেন। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, এই পৃথিবীতে কুকুরদের এমনও কিছু প্রজাতি আছে, যারা সিংহ, টাইগার আর বাকি অন্য বন্য জীবগুলোর থেকেও বেশি হুংকার আর আদমখোর হয়? হ্যাঁ বন্ধুরা, ওয়ার্ল্ডের ডগেদের এমনও কিছু ব্রিড এক্সিস্ট করে, যারা সত্যি টাইগারের থেকেও বেশি ডেঞ্জারাস আর তাদের থেকেও বেশি চতুর হয়। এই কুকুরগুলো ঠিক কতটা শক্তিশালী, তা আপনি এই কথাটা থেকেই আন্দাজ করতে পারবেন যে, পুলিশ বা আর্মি থেকে আরম্ভ করে বড় বড় সিকিউরিটি এজেন্সি কোম্পানিরাও এদেরকে ব্যবহার করে অপরাধীদের ধরার জন্য। আর এই এক একটা কুকুরের মার্কেট প্রাইস হয় লক্ষ লক্ষ টাকারও বেশি।

বন্ধুরা, মানুষের সবথেকে ফেটফুল পেট হল কুকুর, যারা নিজের মালিকের জন্য অন্যের প্রাণ নিতেও পারে, আবার নিজের প্রাণ দিতেও পারে। এই জন্য আজও বহু লোক নিজের ঘরবাড়ি দেখাশোনা করার জন্য একটা কুকুরকেই পুষে রাখে। এই কারণে আজ আমি এই ভিডিওর মাধ্যমে আপনাদের এমন কিছু কুকুর দেখাবো, যাদেরকে দেখে আপনি একদম হতবাক হয়ে যাবেন। এই জন্য ভিডিওটাকে স্কিপ করার অপরাধ একদমই করবেন না। আর এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও বারবার দেখার জন্য আমাদের চ্যানেল বাঙ্গালা কথাকে এখনই সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকা বেল আইকনে ক্লিক করে অল অপশনটি অবশ্যই সিলেক্ট করে নেবেন।

তাহলে চলুন, শুরু করা যাক!

১. সূর্যের শক্তি ও তার ক্ষয়

বন্ধুরা, এই পৃথিবীতে সব থেকে পাওয়ারফুল, ডেঞ্জারাস আর অ্যাগ্রেসিভ অ্যানিম্যাল কোনগুলো? যদি আমরা সমস্ত সূর্যালোককে নিই, যা আমাদের পৃথিবীতে প্রতিদিন পৌঁছায়, তবে আমরা যে শক্তি পাবো, তা প্রায় ১৭০ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট। এত পরিমাণ শক্তি আমাদের পৃথিবীকে হাজার হাজার বছর ধরে চালানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এটা কিছুই নয়। সূর্য মোট যে শক্তি তার চারিদিকে ছড়ায়, সেটা আমাদের পৃথিবীতে পৌঁছানো শক্তির ২ বিলিয়ন গুণ বেশি। কিন্তু এত শক্তি, এত এনার্জি, সূর্য কোথায় ছড়ায়? সাধারণ উত্তর, মহাকাশে। একবার ভাবুন, এই শক্তি, এই এনার্জিকে যদি আমরা ধরে রাখতে পারতাম, তাহলে পেট্রোলের দাম বাড়ল কিনা, গ্যাসের দাম কমল কিনা, সেই সমস্ত কিছু নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথাই থাকত না। এমনকি হয়তো ইলেকট্রিক বিলও আমাদের দিতে হতো না।

এবার এই সমস্ত ফালতু গল্প বাদ দিয়ে বিজ্ঞানে ফিরে আসা যাক। রিলেটিভিটির থিওরি (Theory of Relativity) অনুযায়ী, যদি কোনো বস্তু থেকে শক্তি বা এনার্জি বেরিয়ে যায়, তবে তার ভর কমতে থাকে। সুতরাং, সূর্যও কিন্তু প্রতি সেকেন্ডে তার ভর বা বাংলা ভাষায় যাকে বলে ওজন হারাচ্ছে। মোটামুটি ৪০ লক্ষ টন প্রতি সেকেন্ড। মোদ্দা কথা হলো, সূর্যের ওজন কমছে, কারণ সূর্য পুড়ে যাচ্ছে। মানে সূর্য নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করছে।

সূর্য যদি পৃথিবীর মতো সাইজের হতো, তবে ৫০ হাজার বছরের মধ্যেই পুড়ে শেষ হয়ে যেত। কিন্তু সূর্য পৃথিবীর থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার গুণ বড়। সুতরাং, প্রতিদিনও যদি ১৭০ বিলিয়ন টন করে পুড়ে, তবে সূর্য প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর ধরে পুড়তে পারে। অর্ধেক সময় তো প্রায় হয়েই গেল। মানে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এখনো ৫ বিলিয়ন বছর আছে ভাবার জন্য, তারা কী করবে ওই ধ্বংসাত্মক ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য।

২. সূর্যের উপর জল ঢাললে কী হবে?

না না না না না! এতো দেরি করা যাবে না। তাই আমার মাথায় এলো, যদি বড় এক বালতি জল সূর্যের উপর ঢেলে ওটাকে নেভানো যায়। তাহলে সব থেকে বড় সমস্যা হলো বালতিটা খোঁজার, যেটা আমার মনে হয় পাওয়া সম্ভব নয়। আচ্ছা, ধরে নিচ্ছি বালতিটাও আছে, আর সূর্যের উপর সেই জল ছড়ানোর প্রযুক্তিও আছে। কিন্তু কী হবে তারপর?

এর অ্যাকুরেট উত্তর কোনো অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্টই (Astrophysicist) দিতে পারবে, তাও কোনো স্পেশ্যাল সফটওয়্যার ব্যবহার করে। কারণ এরকম ঘটনা প্রকৃতিতে আগে ঘটেনি। আর ঘটবে বলেও মনে হয় না। নরমালি আমাদের পৃথিবীতে যদি কিছু পুড়ে, তবে তার জ্বলন প্রক্রিয়ায় পুড়ে। যার জন্য তিনটি প্রধান উপাদান প্রয়োজন: ইন্ধন (Fuel), বাতাস (Oxygen) ও উত্তাপ (Heat)। আর যদি আমরা কোনো জ্বলন্ত জিনিসকে জল দিয়ে নেভাই, তবে ওই জল ইন্ধনের উপর একটি লেয়ার তৈরি করে, যার ফলে আগুনটি নিভে যায়। কিন্তু মহাকাশের ব্যাপারটা একটু আলাদা। কারণ সেখানে বাতাস নেই। জল, থার্মোনিউক্লিয়ার ফিউশন (Thermonuclear Fusion) আটকাতে পারবে না।

সে আমরা যতই জল ব্যবহার করি না কেন, সূর্যকে নেভানো যাবে না, যতক্ষণ ওর ফিউশন রিঅ্যাকশন চলতে থাকবে। সোজাসুজি বললে, সূর্য জলকেও পুড়িয়ে ফেলতে পারে। সুতরাং, যদি আমরা বড় বালতির এক বালতি জল সূর্যের উপর ঢালি, সূর্য আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে আর আরও ৬ গুণ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। জলের মধ্যে ৮৯ শতাংশ অক্সিজেন থাকে। আর সূর্যের ঘনত্ব জলের থেকে প্রায় দেড় গুণ বেশি। অতএব, জলের আয়তনে সমান সূর্যের আয়তন এক সাথে মিশে ০.৭ গুণ ওজন বাড়িয়ে দেবে সূর্যের। তার ফলে যে নতুন নক্ষত্রটা তৈরি হবে, তা সূর্যের প্রায় দ্বিগুণেরও বড়, যাতে ৪৮ শতাংশ হাইড্রোজেন, ১৪ শতাংশ হিলিয়াম ও ৩৭ শতাংশ অক্সিজেন থাকবে। তবে যাই হোক, আমরা যতই জল ঢালি না কেন, সূর্যকে আমরা নেভাতে পারব না। বরং যত জল ঢালব, সূর্য আগের থেকে আরও বেশি শক্তিশালী ও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। আর আমরা পৃথিবীর উপর দাঁড়িয়ে দেখব এক নতুন সূর্যের জন্ম, যা আগের থেকে আরও বড়, আরও উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত।

উপসংহার

ভিডিওটা যদি একটু ইন্টারেস্টিং লাগে, তবে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। দেরি না করে চটপট সাবস্ক্রাইব করে নিন। ও ভিডিওটা শেয়ার করে দিন। আর একটা লাইক আপনার কাছে পাওনা রইল। আবার দেখা হবে পরের ভিডিওতে।

কীওয়ার্ডস: সূর্য, মহাকাশ, নক্ষত্র, নিউক্লিয়ার ফিউশন, সূর্যের শক্তি, সূর্যের ওজন, মহাজাগতিক ঘটনা, থার্মোনিউক্লিয়ার ফিউশন, সূর্যের উপর জল, মহাকাশ বিজ্ঞান, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নক্ষত্রের জন্ম, বিজ্ঞান, অজানা তথ্য।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال