ইতিহাসের ১০টি অমীমাংসিত রহস্য: এলিয়েন মমি থেকে যীশুর চামড়া!
বন্ধুরা, বিভিন্ন গবেষণা এবং আবিষ্কার থেকে আমরা বর্তমান সময়ে ইতিহাস সম্বন্ধে এমন কিছু ফলাফল পেয়েছি, যেটা প্রতিটি মানুষকে অবাক করে দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বহু বিজ্ঞানী নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর লেগে রয়েছে সেটা রহস্য উদ্ঘাটন করবার জন্য, যে কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের এই পৃথিবীতে বিভিন্ন নতুন নতুন রহস্য মানুষের সামনে বেরিয়ে আসছে। তাই আজকে 'অদ্ভুত দশ'-এর এই ভিডিওটিতে আপনারা দেখতে চলেছেন বিগত কিছু বছর খুঁজে পাওয়া কিছু অদ্ভুত মমি, যেটা সাধারণ মানুষের নয়, বরং এলিয়েনের হতে পারে। এর সঙ্গে সঙ্গে আপনারা এমন এক চামড়া সম্বন্ধে জানতে চলেছেন, যেগুলো নাকি যীশু খ্রীষ্টের। আর এই দাবিকে সঠিক বলেছেন বিজ্ঞানীরা। এবং আপনারা এটাও জানতে চলেছেন যে, মৃত্যুর আগে হিটলার এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছিল, যেটা সে সুইসাইড করবার ঠিক কিছুক্ষণ আগে সমুদ্রের গভীরে ফেলে দিয়েছিল। আর সেটা কিছু মাস আগেই সমুদ্রের গভীর থেকে খুঁজে বার করা হয়েছে! তাহলে আপনারা এতক্ষণে বুঝতেই পেরেছেন যে, পোস্টটা কতটা ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে।
তবে চলুন, বেশি দেরি না করে আজকের পোস্টটিকে শুরু করা যাক!
১. মিনোয়ান সভ্যতা (Minoan Civilization): ভূমধ্যসাগরের হারিয়ে যাওয়া বিস্ময়
এই সভ্যতাকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল গ্রীসের বহুদূরে অবস্থিত একটি আইল্যান্ডে। এই শান্ত দ্বীপে আর্কিওলজিস্টরা যখন নিজেদের খোঁজ চালাচ্ছিল, তখন হঠাৎ করে তারা ৪০০০ বছর পুরনো একটি সভ্যতার ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারত খুঁজে পায়। এই ইমারতটির অবস্থা এমন ছিল যে, সেটা দেখে মনে হচ্ছিল যেন কিছু সময় আগেই এটিকে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবার দেখে এটা কেউ বিশ্বাস করতে চাইবেই না যে, এটি ৪০০০ বছর আগে করা। ইমারতের ভেতরে থাকা বিভিন্ন চিত্রগুলো তো আরও অবিশ্বাস্যকর। এখনো পর্যন্ত আমরা সিন্ধু সভ্যতা, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি, কিন্তু এই হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা যেন সবার চোখের আড়ালেই ছিল।
কিছুদিন আগেই খুঁজে পাওয়া এই নির্জন দ্বীপের সভ্যতা ছিল আপনার কল্পনা থেকেও আরও বেশি উন্নত। বিজ্ঞানীরা তো এই চিত্রকর্মগুলো দেখে ভাবনায় পড়ে গিয়েছে যে, এইসব চিত্রকর্মগুলো কিভাবে ৪০০০ বছর পুরনো হতে পারে। গবেষকরা মনে করেন যে, এই সভ্যতা আর্থিক দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল। আর এই সভ্যতা টিকে ছিল প্রায় ১৫০০ বছর ধরে। এই সময়ের আধুনিক সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি ছিল এই হারিয়ে যাওয়া সভ্যতাটি। এই নির্জন দ্বীপে খুঁজে পাওয়া ইমারতের মধ্যে ইউরোপের সব থেকে পুরনো সিংহাসনটিকেও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ইমারতের নিচে ছিল একটি বাঙ্কার, যেটার মধ্যে তখনকার সময় রাজা-মহারাজারা সোনা-রূপা লুকিয়ে রাখত। সত্যি, ভাবনার বাইরে যে, এরকম একটি সভ্যতা একসময় রাজত্ব করত!
২. প্রাচীন জমি কেনাবেচার পদ্ধতি: কাদাল (Kudurru)
বর্তমান সময়ে আমরা যদি কোনো জমি কিনি বা বাড়ি কিনি, তাহলে আমাদের স্ট্যাম্প পেপার ব্যবহার করতে হয়, যেটার মধ্যে একটি রেকর্ড সরকারের কাছে জমা রাখতে হয়। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, সময় কাগজের অস্তিত্বই ছিল না, সেই সময় মানুষ জমি কিভাবে কেনাবেচা করত? কিছু বছর আগে আর্কিওলজিস্টরা খোদাই করবার পরে মাটির তলা থেকে অদ্ভুত কিছু ধাতব বস্তু পেয়েছে। এই বস্তুর ওপর তিন থেকে চার জন মানুষের চেহারা দেখা যায়। আরও গবেষণার শেষে জানা যায়, এই বস্তুগুলো অন্য কিছু না, এগুলো হলো সেই সময়ের জমি কেনা-বেচার রেজিস্ট্রেশন করবার প্রক্রিয়া। এগুলোকে সাধারণত 'কাদাল' (Kudurru) নামে ডাকা হয়। বর্তমান সময়ে খুবই অল্প মাপে জমি কেনাবেচা হয়ে থাকে, কিন্তু আপনারা এটা জানলে অবাক হবেন যে, হাজার বছর পূর্বে অল্প কিছু জমি কেনাবেচার পরিবর্তে কোনো পাড়া অথবা কয়েকশত একর জমি কেনাবেচা করা হতো। আর এগুলো করা হতো কেবলমাত্র এই সকল ধাতব বস্তু দিয়ে। সত্যিই এটা ভাবাই যায় না!
৩. মিশরের রহস্যময় মমি: এলিয়েনের অস্তিত্বের ইঙ্গিত?
মিশর সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি আর মমি নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাচীন কালের মিশর। আর হ্যাঁ, আজকে আমি মিশরের মমি দেখাতে চলেছি, তবে এগুলো কোনো মানুষের মমি নয়, বরং এগুলো হতে পারে এলিয়েনের! ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই না? একটু অপেক্ষা করুন। মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে বিজ্ঞানীরা মমির কিছু কালেকশন পেয়েছেন। সাধারণ গবেষকরা এটা বলে থাকেন, এই জায়গাটিতে কেবলমাত্র প্রাচীন মিশরের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের কবর দেওয়া হতো। আর সেইখানেই গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন আটখানা এলিয়েনের মতো দেখতে মমি।
এই মমিগুলোর চেহারা তেমনি, যেমনটা আমরা হলিউড মুভিতে বিভিন্ন এলিয়েনদের ক্ষেত্রে দেখতে পাই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না যে, কিভাবে হাজার হাজার বছর আগে এসব মমিগুলোর চেহারার ওপর বর্তমান সময়ের কাল্পনিক এলিয়েনদের মুখের ছবি থাকতে পারে। আর এসব মমিগুলোর বয়স ২৮০০ থেকে ২৯০০ বছর। এদের তিনটি মমির অবস্থা এমন যে, সেটাকে দেখে যেন মনে হয়, এগুলো কিছুদিন আগেই মাটির তলায় দাফন করা হয়েছে। আসলে এসব মমি কাদের ছিল এবং এসব মমিগুলোর ওপর কেন এলিয়েনদের মুখের ছবি আঁকা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানাই রয়েছে।
৪. হিটলারের এনিগমা মেশিন (Enigma Machine): সমুদ্রের গভীর থেকে উদ্ধার
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে জার্মানি প্রায় পুরো পৃথিবীকে দখল করতে চেয়েছিল। আর হিটলারের সাহায্যে সেই সময়ের জার্মানির বেশ কিছু বিজ্ঞানী হিটলারের জন্য একটি যন্ত্র তৈরি করে দিয়েছিলেন, যে যন্ত্র দিয়ে কোডের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানের সৈন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারত। আর সেই সময়ে এই যন্ত্রকে ট্র্যাক করার কোনো রকম উপায় ছিল না। এই যন্ত্রটি কেবলমাত্র একটি উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিল, আর সেটা হলো হিটলার তার সৈন্যদের সাথে সকল তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন, যা অন্য কেউ জানতেও পারবে না। যদিও পুরো বিশ্বের লোক জানতো যে, হিটলারের কাছে এক অত্যাধুনিক যন্ত্র রয়েছে, কিন্তু সেই মেশিন সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারত না।
হিটলার যখন বুঝতে পারে যে, সে হেরে যাচ্ছে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যুর আগে একটি জাহাজে করে সেই যন্ত্রটিকে সমুদ্রের গভীরে ফেলে দিয়ে আসার। এবং তিনি সেটাই করেন। তবে ২০১৬ সালে কিছু গবেষক হিটলারের তৈরি করা এই যন্ত্রটিকে খুঁজে পেয়েছিল। যন্ত্রটির নাম ছিল 'এনিগমা মেশিন'। যদিও বর্তমান সময়ে অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছেই এর থেকেও অনেক বেশি অত্যাধুনিক মেশিন রয়েছে, কিন্তু সেই সময় এই যন্ত্রটাই ছিল সব থেকে অত্যাধুনিক। তবে বিজ্ঞানীরা এই মেশিন থেকে সমস্ত ডেটা বের করে নিয়েছে।
৫. যীশু খ্রীষ্টের চামড়া? (Jesus Christ's Skin?)
মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের কাছে পবিত্র একটি নাম হলো যীশু খ্রীষ্ট (Jesus Christ) বা ঈসা নবী। সম্প্রতি ইউরোপে এমন কিছু চামড়ার টুকরো পাওয়া গেছে, যা দেখে গবেষকরা অনুমান করছে যে, এই চামড়া ছিল যীশু খ্রীষ্টের বা ঈসা নবীর। যদিও কিছু গবেষক মনে করেন যে, এই চামড়াটি ছিল ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কোনো এক ব্যক্তির। কিন্তু তারপরেও ইউরোপের কিছু জৈব বৈচিত্র্য ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানরা এই চামড়ার উপাসনা করে চলেছে। যদিও তারা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত না যে, এই চামড়াগুলো যীশু খ্রীষ্টের কিনা। কিন্তু তারপরেও সেই চামড়া কয়েকশো বছর ধরে লুকানো অবস্থায় ছিল। আরও অনেক গোপনীয়তা সত্ত্বেও এই চামড়ার বেশ কিছু অংশ চুরি হতে থাকে।
আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের উপর আঙুল তুলে বলে, এগুলো সবই নাকি কাল্পনিক। তবে মাঝেমধ্যেই হাজার হাজার বছর পুরনো এমন কিছু পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, যা থেকে খুব সহজেই এইসব ধর্মীয় গ্রন্থগুলো কোনোভাবেই কাল্পনিক হতে পারে না। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমনই পুরোনো দিনের মুদ্রা পেয়েছে, যা দেখে খুব ভালোভাবেই বোঝা যায় যে, এটা ছিল ইসলাম ধর্ম অনুসারে ঈসা নবীর সময়কাল এবং খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারে বাইবেল লেখার সময়কাল। আর এটা আমরা সবাই জানি, বাইবেলের কিছু অংশ এখনো অবিকৃত আছে। পুরনো দিনের সেই মুদ্রার ওপরে এমন কিছু লেখা ছিল, যা কেবলমাত্র একজন পড়তে পারে। আর সে খুব ভালো করে পড়ে গবেষণা করে জানিয়েছেন যে, এই মুদ্রার উপরে যীশু খ্রীষ্টের নাম লেখা ছিল।
৬. ইতালির রহস্যময় গর্ত: এলিয়েন যোগাযোগের মাধ্যম?
কিছু বছর আগে আর্কিওলজিস্টরা ইতালির একটি বহু পুরনো দিনের গর্ত রিসার্চ করতে শুরু করে। আর তারা সেই গর্তের মধ্যে খুঁজে পায় একটি ডিম্বাকার আকৃতি, যেটা দেখবার পর কেউই বুঝতে পারছিল না যে, ওই গর্তটিকে কেন করা হয়েছিল আর গর্তটিতে কাঠ কেন রাখা হয়েছিল। বেশ কিছু মাস রিসার্চ করবার পর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারে যে, সেখানে এক বিশেষ পদ্ধতিতে হাজার বছর আগে জল রাখত। কিন্তু তারপরেও গবেষকদের মনে আরও কিছু প্রশ্নের উদয় হয়।
তার মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো, গর্তটিতে তারা কিভাবে জল রাখত? সেখানে তো কোনো পাইপ বা আন্ডারগ্রাউন্ড সিস্টেম ছিলই না। গবেষকরা আরও কিছুদিন রিসার্চ করবার পরে বুঝতে পারে যে, সে সময় মানুষেরা ওই গর্ত দিয়ে হয়তো কোনো এলিয়েনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত। তাই অনেক কন্সপিরেসি থিওরির মতে, ওই স্থানে মানুষ অন্য জগতের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত। মানে, হয়তো এলিয়েনের সাথে ওই গর্ত দিয়ে যোগাযোগ করত মানুষ। কারণ গবেষকরা যখন গর্তে জল পূর্ণ করেছিল, তখন তারা সেই জলে দেখতে পায় মহাশূন্যের এক অন্যরকম প্রতিচ্ছবি। আর এই দৃশ্য দেখে তারা মনে করতে থাকে যে, সেই সময় মানুষেরা হয়তো এই গর্তের কাছে এসে উপাসনা করত অথবা কন্সপিরেসি থিওরির মতে, অন্য কোনো গ্রহের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত। যদিও এই তথ্যগুলির মধ্যে কোনটিরও বাস্তব ভিত্তি নেই। এগুলোকে কেবলমাত্র অনুমানই করা হয়েছে।
৪০ ফুট দৈর্ঘ্য, ২৩ ফুট প্রস্থ এবং ১০ ফুট গভীরতা বিশিষ্ট গর্তটির বয়স প্রায় ৩৫০০ বছর। এই গর্তটির আশেপাশে বেশ কিছু ভয়ানক মূর্তিও পাওয়া যায়, যেটা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
উপসংহার
মিশরীয়দের কাছে প্রযুক্তি আমাদের থেকে অনেক আধুনিক ছিল, নয়তো এই পিরামিডগুলো বানানোর পেছনে অন্য কোনো গ্রহের ইন্টেলিজেন্ট সভ্যতার হাত ছিল – একথা আমি বলছি না, কন্সপিরেসি থিওরিগুলো বলে থাকে। সে যাই হোক না কেন, তাদের কাছে এমন কোনো না কোনো শক্তি নিশ্চয়ই ছিল, যেটা এখনও আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রয়েছে।
তো বন্ধুরা, আজকের এই রহস্যময় ভিডিওটি এই পর্যন্তই। যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই লাইক করবেন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট বক্সে জানাবেন যে, এরকম ভিডিও আরও পেতে চান কিনা। আর এখনো যদি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলটিতে নতুন হয়ে থাকেন, তবে লাল সাবস্ক্রাইব বাটনে ক্লিক করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও আগে দেখতে।
কীওয়ার্ডস: ইতিহাসের রহস্য, অমীমাংসিত রহস্য, এলিয়েন মমি, যীশু খ্রীষ্টের চামড়া, হিটলারের এনিগমা মেশিন, মিনোয়ান সভ্যতা, কাদাল, মিশরীয় মমি, প্রাচীন প্রযুক্তি, এলিয়েন যোগাযোগ, কন্সপিরেসি থিওরি, প্রত্নতত্ত্ব, অজানা আবিষ্কার, রহস্য উদ্ঘাটন, ঐতিহাসিক প্রমাণ, বাইবেল, ঈসা নবী, ইতালির গর্ত।
