কোয়েজার সম্পর্কে বাংলায় বিস্তারিত আলোচনা | Detailed discussion about Quezer in Bengali

কোয়েজার সম্পর্কে বাংলায় বিস্তারিত আলোচনা 

Detailed discussion in Bengali about Quezer



এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল সেই সাথে দূরবর্তী অবজেক্ট হচ্ছে । এক একটি কোয়েজার সম্পূর্ণ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় দশ থেকে এক লক্ষ গুণ পর্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে থাকে।

সূর্যের সাথে তুলনা করলে তা বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন গুণ বেশি উজ্জ্বল। এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করার সবচেয়ে উজ্জ্বল Z zero four three nine four seven point zero eight। Plus one six three four one five point seven। এটি আমাদের সূর্যের তুলনায় ছয়শো ট্রিলিয়ন গুণ বেশি উজ্জ্বল। ছয়শো ট্রিলিয়ন সংখ্যাটি খুবই বিশাল। এক ট্রিলিয় সমান এক লক্ষ কোটি। তার মানে ছয়শো ট্রিলিয়ন মানে হচ্ছে ছয়শো লক্ষ কোটি। এত উজ্জ্বল হবার পরেও এই কোয়েজারকে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। কারণ এটি খুবই খুবই দূরে অবস্থান করছে। এবং সেই দূরত্ব প্রায় বারো দশমিক আট বিলিয়ন লাইটিয়ার। বারো দশমিক আট বিলিয়ন লাইটিয়ারকে কিলোমিটারে প্রকাশ করতে গেলে কতগুলো শূন্যের প্রয়োজন হবে তা ফ্রি টাইমে হিসেব করতে পারেন।

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের হচ্ছে এমআর্কের টু থ্রি ওয়ান।

এটির কেন্দ্রে দুইটি সুপার massive black hole পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করছে। এই কোয়েজারটি পৃথিবী থেকে প্রায় ছয়শো মিলিয়ন বা ষাট কোটি লাইটের দূরে অবস্থান করছে। যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের দ্বারা প্রক্সিমা সেন্টারের দূরত্ব মাত্র ফোর পয়েন্ট টু লাইটিয়ার। এবং এই জন্যই কোয়েজারকে মোস্ট ডিসটেন্স অবজেক্টও বলা হয়।

মহাকাশের বস্তু সম্পর্কে জানতে গেলে আপনি অবশ্যই কোয়েজারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বলে উঠবেন। চুল তার, কবেকার, অন্ধকার, বিদিশার, নিশা।

মুক্তার সব স্ত্রীর কারুকার্য। অতি দূর সমুদ্রের পর হাল ভেঙেছে নাবিক হারায়েছে নেশা।

উনিশশো পঞ্চাশ সালের দিকে বিজ্ঞানীরা মহাকাশ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার শুরু করেন। তখন তাঁরা মহাকাশে কিছু অদ্ভুত অবজেক্ট দেখতে পান। যেই অবজেক্টগুলো থেকে উচ্চ মাত্রার রেডিও ওয়ে আসছিল। তাঁরা এদের নাম দেন ওয়াজিস টেলার রেডিও সোর্সেস। এই unknown রেডিও source গুলো আসলে কি তা জানার ক্ষেত্রে পরবর্তী একযুগ সময় লেগে যায়। যাদেরকে বর্তমান আমরা কয়েজার বলে জানি।

সর্বপ্রথম আবিষ্কার করা কৈজারের নাম হচ্ছে three C two seven three। এর দ্বারা বোঝানো হয় third cambridge catalogue এর দুইশো তিয়াত্তর তম radio source object।

যাইহোক কোয়েজার মুলত হচ্ছে সক্রিয় galaxy র কেন্দ্র। যাকে বলা হয় active galaxy নিউক্লিয়ার।

আমরা জানি প্রত্যেকটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে রয়েছে সুপার মেসি ব্ল্যাকহোল। যাদের ভর সূর্যের ভরের লক্ষ থেকে কোটিগুন। এই ব্ল্যাকহোলের চারপাশের ম্যাটার ব্ল্যাক হলে পতিত হবার আগে ব্ল্যাক হলের চারপাশে খুবই উচ্চগতিতে ঘুরতে থাকে। এইভাবে চক্রাকার আকারে ঘুরতে থাকা ম্যাটারগুলোকে বলা হয় এই আকার মোটামুটি আমাদের সোলার সিস্টেমের আকারের সমান।

উচ্চগতিতে ঘূর্ণাবন particle এর মধ্যে friction এর ফলে particle উত্তপ্ত হতে থাকে। যা থেকে প্রচুর পরিমান এনার্জি নির্গত হয়। এর ফলে এদেরকে খুবই উজ্জ্বল দেখায়। এবং এই উজ্জ্বল বিষয়টিকেই বলা হয় কোয়েজার। তার মানে কয়েজার মূলত হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা সুপারমাসি ব্ল্যাক হোল। এবং এর চারপাশের agrition ডেস্ক।

ওয়েজারের আরেকটি বিশেষ বিষয় হো এর দুই দিকের জেটস। এই জেটস অ্যাপ্লিকেশন ডিস্কের লম্বা বরাবর অবস্থান করে।

অ্যাক্রিসিয়ান ডিস্কে থাকা পার্টিক্যাল যখন উচ্চগতিতে ঘুরতে থাকে তখন ফিকশনের কারণে পার্টিক্যাল চার্জ প্রাপ্ত হয়। যার ফলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড এমনভাবে টুইস্ট হয় যে এর ফলাফল হিসেবে জেটস তৈরি হয়। এই জেটসের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ পার্টিক্যাল। প্রায় আলোর বেগে অনেক দূরে ছিটকে যায়। এখন এইখানে যে পার্টিক্যাল আলোর বেগে অনেক দূরে ছিটকে যাচ্ছে এই পার্টিক্যাল কিন্তু ব্ল্যাক হোল থেকে আসে না।

পার্টিক্যাল গুলো মূলত আসে এক রিশিয়ান ডেস্ক থেকে। এবং সাধারণভাবে কোন কৈজারকেই কাছাকাছি পাওয়া যায় না। যত আমরা দেখতে পেয়েছি বা দেখি এগুলো মূলত অনেক অনেক দূরে অবস্থান করে। এখন সকল কুয়েজরি অনেক অনেক দূরে অবস্থান করার কারণ হচ্ছে। ওয়েজার গুলো মূলত হচ্ছে বিগ ব্যাঙের পরবর্তী সময়ের object। আমরা জানি আমরা যত দূরের বস্তু দেখতে পাবো ততটাই মহাবিশ্বের অতীত অবস্থা দেখা যায়। এখন যেহেতু অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। সুতরাং কুয়েজারকে আমরা যেমন দেখছি মূলত মহাবিশ্বের প্রাথমিক সময়কার অবস্থা।

Early universe এর কিছু কয়েজারে কয়েক হাজার লাইটের স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত গ্যাসের চক্রাকার বলয় দেখা যায়। এবং এই গ্যাসের মাধ্যমেই ওয়েদারের কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাকহোলের গ্রোথ বজায় থাকে।

কোয়েস আর বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এটি নির্ভর করবে কোয়েজার থেকে কোন ধরনের আলো পৃথিবীতে আসছে। যেমন রেডিও ক্রেজার, ইনফোরেট কয়েজার, এক্সরে কোয়েজার। অর্থাৎ এই সকল কয়েজারকে খালি চোখে দেখা যাবে না। যেমন ইনফ্যারেটকে শুধুমাত্র ইনফরেট টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখা যাবে। এক্সরে কোয়েজারকে শুধুমাত্র এক্সরে টেলিস্কোপের মাধ্যমেই দেখা যাবে আবার পৃথিবীর বরাবর থাকে তবে তাকে বলা হবে ব্লেজার। এবং ব্লেজারকে কৈজারের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল দেখায়। আবার জেডস যদি পৃথিবীর সাপেক্ষে পারপেন্ডিকুলার থাকে তবে তাকে বলা হয় রেডিও গ্যালাক্সি। এখন একটি প্রশ্ন আপনার মনে আসতে পারে সাধারণ স্টার খুবই উজ্জ্বল।

আর কোয়েজারও উজ্জ্বল। তাহলে বিজ্ঞানীরা কিভাবে নিশ্চিত হন যে কোনটি স্টার এবং কোনটি কোয়ে কোনো একটি light source, star নাকি quezer। তা মূলত দুইটি বিষয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া যায়। এবং এই দুই পদ্ধতিতেই পারমাণবিক বর্ণালী ব্যবহার করা হয়। সাধারণ ষ্টার থেকে আসা আলোতে absorption লাইন দেখা যায়। যা ঘটে স্টারের atmosphere এ থাকা বিভিন্ন atom এর কারণে। এই সকল atom কিছু specific web লেন্থের আলো শোষণ করে নেয়। যার ফলে স্টার থেকে আসা আলোতে absorption লাইন দেখা যায়। অন্যদিকে কয়েজার, স্টারের তুলনায় খুবই বেশি উত্তপ্ত।

ফলে এদের থেকে আশা আলোতে শক্তিশালী লাইন দেখা যায়।

চারপাশের ম্যাটার বেশি এনার্জিটিক অবস্থায় থাকে। যার ফলে এদের থেকে নির্গত হয় radiation। এবং এই জন্য কয়েজার থেকে আসা আলোতে extra immission লাইন দেখা যায়। এ তো গেল একটি বিষয়। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে কোয়েজার পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। যার ফলে এরা অতি দ্রুত পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যার ফলে কয়জারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি রেট শিফট দেখা যায়।

কোয়েজারের ক্ষেত্রে এতটাই রেড শিপ দেখা যায় যে এদের আলট্রা ভায়োলেট লাইট শিফট হয়ে ইনফ্যারেট লাইট পর্যন্ত দেখা যায়।

ভাবে বেশিরভাগ মান দুইয়ের নিচে থাকে। যার দ্বারা বোঝা যায় ঐসকল কয়েজার নাইন বিলিয়ন লাইটার দূরে রয়েছে। বা নাইন বিলিয়ন বছর অতীত অবস্থা দেখছি। তবে রেড শিপের মান যত বাড়বে বুঝতে হবে কোয়েজার তত দূরে রয়েছে। যেমন প্রথমে উল্লেখ করা সবচেয়ে উজ্জ্বল কয়েজার জে জিরো ফোর থ্রি নাইন ফোর সেভেন পয়েন্ট জিরো এইট প্লাস ওয়ান সিক্স থ্রি ফোর ওয়ান ফাইভ পয়েন্ট সেভেন। এর রেট শিফটের মান সিক্স পয়েন্ট ফাইভ।

অর্থাৎ এটি খুবই খুবই দূরে রয়েছে। এটি প্রায় বারো দশমিক আট বিলিয়ন লাইটিয়ার দূরে রয়েছে। অর্থাৎ এই কোয়েজার দেখা মানে বিগ ব্যাঙের মাত্র এক বিলিয়ন বছর পরবর্তী অবস্থা দেখা।

দু হাজার একুশ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো খুবই রেয়ার ডবল শনাক্ত করেছেন।

ডবল কয়েজার ডিটেক্ট করা খুবই কঠিন বিষয়। কারণ সাধারণ ভাবে ডবল কয়েজার কে একটি সিঙ্গেল এর মতই মনে হয়। তবে বর্তমানের স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভে। ইসার্জ গাই স্যাটেলাইট, হাবল স্পেস টেলিস্কোপ, জেমিন নর্থ এবং লং বেস অ্যাড এ। এই সবগুলো উন্নত প্রযুক্তির টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আর্টিনিভার্সের এই ডবল টি সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

যেকোনো কুয়েজার তার চারপাশে প্রচুর পরিমাণ এনার্জি রিলিজ করে। যার ফলে যে সকল গ্যালাক্সিতে কয়েজার রয়েছে সেই সকল গ্যালাক্সিতে প্রতি বছর প্রায় এক হাজারের মতো নতুন স্টার তৈরি হয়। সেই তুলনায় আমাদের মিল্কিও গ্যালাক্সিতে প্রতি বছরে একটিও নতুন স্টার তৈরি হয় না। দুই বা তিন বছরে একটি নতুন স্টার তৈরি হয়। এখন একটি প্রশ্ন আপনার মনে আসতে পারে। মিল্কি এগ্যালাক্সির কেন্দ্রীয়ত একটি সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহল রয়েছে।

তবে কেন মিল্কিউয়েগ গ্যালাক্সিতে কয়েশান নেই।

সকল গ্যালাক্সিতে এক সময়ের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গ্যালাক্সি দুর্বল হয়ে ওয়েজার লুপ্ত হয়েছে। এখন এই সময়ে আমরা যে সকল গ্যালাক্সিতে কোয়েজার দেখছি তা কিন্তু অনেক অতীতের ছবি। কারণ যত দূরে আপনি দেখবেন ততটাই অতীত দেখবেন। কোটি কোটি লাইটের দূরের যে সকল গ্যালাক্সিতে আমরা কয়েজার দেখছি। সেই সকল গ্যালাক্সিতে বর্তমানে কয়জার হয়তোবা নেই। কিন্তু অনেক দূরে থাকা বস্তুর বর্তমান অবস্থা তো আর দেখা সম্ভব নয়। যার ফলে কোয়েজার শুধুমাত্র অনেক অনেক দূরের গ্যালাক্সিতে দেখা যায়।

কাছাকাছি গ্যালাক্সিতে ক্যুয়েজার দেখা যায় না।

তবে অনেকের ধারণা মিরকিউএক গ্যালাক্সি এবং অ্যান্ডরোম্যাডাক গ্যালাক্সির মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যে নতুন গ্যালাক্সি তৈরি হবে সেটিতে হয়তো বা কোয়েজার তৈরি হতে পারে। কারণ এই দুইটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রেই রয়েছে এক একটি করে সুপারম্যাসি প্লাক হোল। এখন এই দুইটি সুপার ম্যাসিবল্যাক হল যখন একসাথে হবে। তখন হয়তো বা এদের চারপাশে এক্রিশান ডিস্ক তৈরি হতে পারে। যার ফলে সেখানে দেখা যাবে কোয়েজার।

অ্যান্ডরোম্যাটা গ্যালাক্সি প্রতি সেকেন্ডে একশো দশ কিলোমিটার বেগে আমাদের দিকে আসছে। সেই হিসেবে আগামী four million বা চারশো কোটি বছরের মধ্যে milkia এবং অ্যান্ডরোম্যারা গ্যালাক্সির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটবে। এবং এই দুটি একসাথে হয়ে নতুন একটি গ্যালাক্সি তৈরি করবে। এমন ক্ষেত্রে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। এবং তা হচ্ছে আমরা জানি প্রত্যেকটি গ্যালাক্সি। একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এবং সময়ের সাথে সাথে দূরে সরে যাওয়ার স্পিড ক্রমাগত বাড়ছে। এবং যদি এমনটাই হয়ে থাকে তাহলে অ্যান্ড্রোম্যাডাক গ্যালাক্সি এবং মিল্কিএ গ্যালাক্সি পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথা তাহলে কেন কোন যুক্তিতে বলা হচ্ছে অ্যান্ড্রোমেডা এবং মিল্কিও গ্যালাক্সি কাছাকাছি আসছে।

এই বিষয়টি জানার আগ্রহ থাকলে কমেন্টে জানান। যথেষ্ট কমেন্ট আসলে আমি পরবর্তী ভিডিওটি এই বিষয় নিয়ে তৈরি করবো।

পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করা সুপার রেড জয়েন্ট স্টার হচ্ছে বেটেল জিওস। এটিতে যখন সুপর্ণপা ঘটবে তখন রাতের আলোতে খালি চোখেই ছয়শো তিপ্পান্ন দিন পর্যন্ত সুপর্ণা বিস্ফোরণের আলোক ছটা দেখা যাবে। ভেটেল জুস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। ভিডিও ভালো লাগলে বিজ্ঞান পাইসি পরিবারে যুক্ত হয়ে সাথে থাকতে পারেন

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال