চার্লি চ্যাপলিনের জীবন কাহিনী: হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সংগ্রাম ও সাফল্য!
হেই বন্ধুরা, এই ঘটনাটি তখনকার, যখন দুইজন জিনিয়াসের একসঙ্গে দেখা হয় এবং একজন আরেকজনকে বলে, "আমি আপনার ভীষণ বড় ফ্যান। আপনি আপনার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের করেন না, কিন্তু পুরো বিশ্ব এটা বুঝতে পেরে যায় যে, আপনি কী বলতে চাইছেন?" এই কথার উত্তরে অপরজন বলেন যে, "এর থেকেও আরও বেশি বড় ফ্যান আমি আপনার। কারণ আপনি বিজ্ঞান নিয়ে যেসব লেকচার দেন, যেগুলো সবাই কিন্তু শোনে এবং বদলে আপনাকে অনেক প্রশংসাও করে, কিন্তু কেউ আপনার সেই লেকচারগুলো বুঝতে পারে না।" এই কথোপকথন আপনার কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু এই কথোপকথন সত্যিই দুজন জিনিয়াস নিজেদের মধ্যে করেছিলেন। প্রথমজন হলেন রিলেটিভিটি থিওরির (Relativity Theory) সঙ্গে পুরো বিশ্বকে ইন্ট্রোডিউস করানো ফেমাস সায়েন্টিস্ট এবং নোবেল প্রাইজ বিজয়ী ডক্টর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। আরেকজন হলেন নিজের সময়ে কমেডির দ্বারা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া জিনিয়াস কমেডিয়ান চার্লি চ্যাপলিন (Charlie Chaplin)। আজকের এই ভিডিওটিতে আমি আপনাদের জানাবো চার্লি চ্যাপলিনের লাইফ স্টোরি সম্পর্কে। তার সঙ্গে সঙ্গে এটাও জানাবো যে, তিনি কিভাবে জীবনে সাফল্য পেয়েছিলেন।
তো চলুন, শুরু করা যাক!
১. চার্লি চ্যাপলিনের জন্ম ও শৈশব: হাসির আড়ালে দুঃখ
১৯৪০ সালের 'দ্য গ্রেট ডিক্টেটর' (The Great Dictator) নামক একটি সিনেমাতে বেস্ট অ্যাক্টরের অ্যাওয়ার্ড জেতার সঙ্গে সঙ্গে ফিল্ম লাইফলাইটে মিউজিক ক্যাটাগরিতে চার্লি চ্যাপলিন অস্কার অ্যাওয়ার্ড পান। এখানেই শেষ নয়, ১৯৯৫ সালে অস্কার অ্যাওয়ার্ড সেরেমনি চলাকালীন 'দ্য গার্ডিয়ান' (The Guardian) নিউজপেপার একটি সার্ভে করে এবং তখনকার সময় বেস্ট অ্যাক্টরের নাম খুঁজে বের করেন। সাধারণ মানুষেরা অনেক আগে থেকেই জানতেন যে, ওই বেস্ট অ্যাক্টরের নামের লিস্টে চার্লি চ্যাপলিনের নাম অবশ্যই থাকবে। আর ঠিক এমনটাই হয়। শুধুমাত্র অ্যাওয়ার্ডসে মিনিটেই নয়, মানুষের মনেও চার্লি চ্যাপলিন ছিল একজন ব্র্যান্ড।
চার্লি চ্যাপলিন এমন একজন কমেডিয়ান ছিলেন, যার অঙ্গভঙ্গি লোকেদের হাসানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল প্রচন্ড দুঃখ, দারিদ্রতা এবং বিভিন্ন অসুবিধার সঙ্গে সংগ্রাম। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, চার্লি চ্যাপলিন নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুঃখ-কষ্টগুলোকে তার অভিনয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করে সারা বিশ্বকে দেখিয়ে গেছেন।
চার্লি চ্যাপলিন হিটলারের থেকে কেবলমাত্র ৪ দিনের বড় ছিলেন। ১৮৮৯ সালের ১৬ই এপ্রিল তিনি লন্ডন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। আর চার্লি চ্যাপলিন এবং হিটলারের জন্মানোর সময়টাও একই ছিল। কিন্তু এদের মধ্যে একজন সারা বিশ্বের মুখে হাসি উপহার হিসেবে দিয়ে গিয়েছিল, আরেকজনের সম্পর্কে তো আপনারা সবাই জানেন। চার্লি চ্যাপলিনের মা-বাবা, সিনিয়র মিউজিশিয়ান হলেও জুনিয়র আর্টিস্ট এবং সিঙ্গার ছিলেন। চার্লি চ্যাপলিনের পিতা চার্লস চ্যাপলিন (Charles Chaplin) এবং তার মাতা হানা চ্যাপলিনের (Hannah Chaplin) অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন একটা ভালো ছিল না।
চার্লি চ্যাপলিন যখন ৫ বছর বয়সী ছিলেন, তখন তার মা একটি হলের স্টেজে পারফর্ম করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গান গাওয়ার সময় হানা চ্যাপলিনের আওয়াজ খারাপ হয়ে যায়, যে কারণে সে সম্পূর্ণ গানটিকে কমপ্লিট করতে পারে না। আর এই কারণে হলে থাকা সমস্ত অডিয়েন্সরা প্রচন্ড রেগে যায়, আর স্টেজে জুতো ছুড়তে শুরু করে। এমন অবস্থায় চার্লি নিজের মাকে বাঁচানোর জন্য স্টেজে উঠে আসে এবং নিজের শিশুসুলভ আওয়াজের মাধ্যমে মায়ের গাওয়া গানের নকল করতে থাকে। আর সেটা হলে বসে থাকা অডিয়েন্সরা খুবই পছন্দ করতে থাকে, যে কারণে তারা স্টেজে পয়সা বৃষ্টি করিয়ে দেয়। এটা ভালো করে মনে রাখবেন, ৫ বছর বয়সে এটাই ছিল চার্লি চ্যাপলিনের প্রথম রোজগার। এরপর থেকেই চার্লি চ্যাপলিন একটা ব্যাপার ভালো মতন বুঝে গিয়েছিলেন যে, নিজের ভেতরে থাকা কষ্টকে কিভাবে ব্যবহার করে, অন্যদের আনন্দ দেওয়া যেতে পারে।
পরবর্তী সময়ে চার্লি চ্যাপলিনের পিতা এবং মাতার ডিভোর্স হয়ে যায় এবং এরপরে চার্লি চ্যাপলিনের মা বেকার হয়ে যায়, যে কারণে চার্লি চ্যাপলিনকে এবং তার ভাইকে অনাথ আশ্রমে থাকতে হয়। অন্যদিকে, তার মাও মানসিক রোগের শিকার হয়। ওইদিকে চার্লি চ্যাপলিন এবং তার ভাই তার বাবার কাছে ফিরে যায় এবং তার সঙ্গেই থাকতে শুরু করে। কিন্তু চার্লি চ্যাপলিনের বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করে, যে কারণে তাদের পরিবারে সৎ মা চলে আসে এবং তার সৎ মা তাদের দুই ভাইয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে। এরপর কিছুদিন বাদে হানা চ্যাপলিনের মানসিক সমস্যা ঠিক হয় এবং পুনরায় সে তার বাচ্চাদের কাছে চলে আসে। নিজের মায়ের সঙ্গে দুই ভাই আবারও খুশি-খুশিতে থাকতে শুরু করে। কিন্তু চার্লি চ্যাপলিনের মন পড়াশোনার দিকে একদমই ছিল না, সে তো একজন অভিনেতা হতে চাইছিল।
২. অভিনয়ের জগতে প্রবেশ ও খ্যাতি অর্জন
চার্লি চ্যাপলিন প্রথম দিকে সাধারণত ছোটখাটো কাজ করতেন এবং কোনো রকম ভাবে নিজের জীবনযাপন চালানোর জন্য পয়সা উপার্জন করছিলেন। এটা ছাড়াও তিনি 'ব্ল্যাকমোর' (Blackmore) নামক একটি থিয়েটারে প্রতিদিন যেতেন। কারণ অ্যাক্টিং ওনার পেশা ছিল। এমনই একটি স্টেজ শোতে তিনি যখন অ্যাক্টিং করছিলেন, তখন একজন ডিরেক্টরের নজর ওনার ওপর পড়ে। আর ডিরেক্টরটি একবারেই ওনার ট্যালেন্টকে লক্ষ্য করে ফেলেন। তাই ডিরেক্টর পরবর্তীকালে চার্লি চ্যাপলিনকে ই হামালটনের (E. H. Hamilton) সঙ্গে দেখা করান। ই হামালটন চার্লি চ্যাপলিনকে একটি জনপ্রিয় সিরিজে কাজও দেন। কিন্তু চার্লি চ্যাপলিন কোনো রকম পড়াশোনা জানত না। কিন্তু তারপরেও তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়ে সেই সিরিজে রাখা হয়। ওই জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করবার সময় চার্লি চ্যাপলিন যথেষ্ট পপুলারিটি পান। কিন্তু তখনও তাকে জীবনের সঙ্গে সংঘর্ষে লড়াই করতে হচ্ছিল।
১৮৯৯ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত চার্লি চ্যাপলিন বিশেষ অভিনেতা রূপে পুরো বিশ্বকে এন্টারটেইন করতে থাকেন। তিনি মূল রূপে অ্যাক্টর, ডিরেক্টর, সম্পাদক এবং স্ক্রিনপ্লে রাইটারের সাথে সাথে প্রোডিউসারও ছিলেন।
৩. ব্যক্তিগত জীবন ও সুপারস্টারডম
চার্লি চ্যাপলিন নিজের জীবনে চারটি বিবাহ করেছিলেন: প্রথম বিবাহ মিলড্রেট হ্যারিসের (Mildred Harris) সঙ্গে, দ্বিতীয় বিবাহ লিটা গ্রে-এর (Lita Grey) সঙ্গে, তৃতীয় বিবাহ পলিটি গোল্ডারের (Paulette Goddard) সঙ্গে, আর চতুর্থ বিবাহ উনা ও'নিলের (Oona O'Neill) সঙ্গে। চার্লি চ্যাপলিনের মোট এগারোটি বাচ্চা ছিল।
চার্লি চ্যাপলিন কেবলমাত্র ২৬ বছর বয়সেই সুপারস্টার হয়ে গিয়েছিলেন। আর তিনি এমন একটি মিউচুয়াল কোম্পানিতে চলে গিয়েছিলেন, যেখান থেকে ওনাকে ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ডলার বছরে মাইনে দেওয়া হতো। এই কোম্পানির সঙ্গে তিনি অনেক ভালোভাবে কাজ করেন। চার্লি চ্যাপলিনের উচ্চতা কেবলমাত্র ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি ছিল। তার সঙ্গে সঙ্গে ওনার শরীরও অনেক হালকা পাতলা ছিল। কিন্তু তিনি তার এই উচ্চতা এবং এই শরীর নিয়েই সাধারণ মানুষকে বেকারত্ব, দারিদ্রতা এবং জীবনের কঠিন সময়েও হাসতে শিখিয়েছিলেন। তিনি অন্যান্যদের হাসাতে এবং এন্টারটেইন করতে জানতেন। এটা সেই সময় ছিল, যখন পুরো বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল।
৪. 'দ্য গ্রেট ডিক্টেটর' ও রাজনৈতিক বিতর্ক
চার্লি চ্যাপলিন ১৯৪০ সালে 'দ্য গ্রেট ডিক্টেটর' সিনেমার মাধ্যমে সেই সময়ের সবথেকে ডেঞ্জারাস মানুষ মুসোলিনি (Mussolini) এবং হিটলারের এমন প্রতিরূপ পর্দার সামনে প্রস্তুত করেছিলেন যে, সেটা দেখে সাধারণ মানুষ খুবই পছন্দ করেছিলেন। এরপর ১৯৬৭ সালে 'এ কাউন্টেস ফ্রম হংকং' (A Countess from Hong Kong) নামের একটি সিনেমা আসে, যেটা ওনার শেষ সিনেমা ছিল এবং এটাই ওনার জীবনের সর্বপ্রথম কালার সিনেমা ছিল। যদিও এই সিনেমাতে তিনি অনেক বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরকে ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু তবুও সিনেমাটি তেমন একটা চলেনি। কিন্তু ১৯৭৫ সালে মহারানী এলিজাবেথের (Queen Elizabeth) দ্বারা ওনাকে 'নাইট' (Knight) উপাধি দেওয়া হয় এই সিনেমাটি করবার জন্য।
একবার চার্লি চ্যাপলিন একটি ইন্টারভিউতে বামপন্থীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলে ফেলেছিলেন, যে কারণে নিউজপেপারের লোকেরা ওনাকে কমিউনিস্টদের এজেন্ট বলা শুরু করে দেয়। যে কারণে মিডিয়াও এই ব্যাপারটিকে খুব বড় হাইলাইট করে এবং বিগত ১০ বছর পর্যন্ত আমেরিকান সরকার এবং মিডিয়া চার্লি চ্যাপলিনকে বিরক্ত করতে থাকে। ১৯৫২ সালে চার্লি চ্যাপলিনের আরও একটি সিনেমা 'লাইমলাইট' (Limelight) রিলিজ হয়। কিন্তু আমেরিকাতে সেটা ব্যান করে দেওয়া হয়। কিন্তু চার্লি চ্যাপলিন আমেরিকার সঙ্গে ইমোশনালি জুড়ে ছিলেন, কিন্তু আমেরিকানদের এই ব্যবহারে তিনি খুবই দুঃখ পান। যে কারণে তিনি আমেরিকান সিটিজেনশিপকে ফিরিয়ে নেন এবং লন্ডনে এসে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু লন্ডনে এসে তিনি কোনো রকম থাকার স্থান পান না, যে কারণে তিনি সুইজারল্যান্ডে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। আর এখানে এসেই তার সঙ্গে দেখা হয় পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর (Jawaharlal Nehru) এবং তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) সঙ্গে।
চার্লি চ্যাপলিন যখন লন্ডনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, তখন তিনি মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি মহাত্মা গান্ধীর আইডিওলজির (Ideology) উপর ভীষণভাবে প্রভাবিত ছিলেন। ওই সময় মহাত্মা গান্ধী গোল টেবিল সম্মেলনের (Round Table Conference) জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। আর যে জায়গায় মহাত্মা গান্ধী এসেছিলেন, ওখানে চার্লি চ্যাপলিন মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবার জন্য পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ভারতে চলা স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য মহাত্মা গান্ধীকে সাপোর্ট করেন। এমন একজন অভিনেতা ছিলেন, যিনি সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে খুব ভালো বুঝতে পারতেন এবং সেটার সাহায্যে তিনি মানুষকে এন্টারটেইন করতেন। আজও ইয়ং জেনারেশনের কাছে চার্লি চ্যাপলিন একজন ইন্সপিরেশন হয়ে রয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ফেমাস পপস্টার মাইকেল জ্যাকসনও (Michael Jackson) চার্লি চ্যাপলিনের মতো তৈরি হতে চেয়েছিলেন।
৫. শেষ জীবন ও বিতর্কিত মৃত্যু
এরপর আসে ১৯৭৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর, যে দিনটি ওনার জীবনের শেষ দিন ছিল। তার অন্তিম কাজের সময় তার স্ত্রী এবং তার সাত বাচ্চা মজুত ছিলেন। কিন্তু এতজন থাকার পরেও চার্লি চ্যাপলিনের হেড এবং বডি চুরি হয়ে যায়। দুইজন ব্যক্তি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার (Geneva) কাছে চার্লি চ্যাপলিনকে কবর দিয়ে দেন। আর ওনার দেহকে ফেরত দেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিরা পরিবারের কাছ থেকে ৪ লক্ষ ডলারের চাহিদা করেন। পরবর্তী সময়ে যদিও তাদের গ্রেফতার করে নেওয়া হয় এবং চার্লি চ্যাপলিনের পরিবারকে তার ডেড বডি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু বন্ধুরা, অন্যকে হাসানো আর অন্যদের হাসি কেড়ে নেওয়ার মধ্যে অনেক তফাৎ থাকে। আর এই তফাৎকে চার্লি চ্যাপলিন অনেক ভালোভাবে বুঝতেন। আর তিনি এই জিনিসটা জীবনভর পালন করেছেন। কিন্তু এটা ঠিক যে, বর্তমান সময়ের কিছু কমেডিয়ান অন্যকে হাসানোর জন্য উল্টোপাল্টা কমেডি করে, যেখানে তারা অন্য কোনো ধর্মকে নিয়ে মজা করে, আবার কখনো অন্যের ভাবনাকে নিয়ে মজা করে। আর এই সব কিছু করে তাদের কোনো রকম লজ্জাও হয় না। চার্লি চ্যাপলিন মনে করতেন যে, হাসি ছাড়া একটা দিন সম্পূর্ণরূপে বরবাদ হয়ে যায়। আপনি যদি জীবনে একটু হাসতে পারেন, তাহলে জীবনটা অনেক মজাদার হয়ে যাবে। এর ফলে যদি আপনার জীবন থেকে কেউ চলেও যায়, তাহলে আপনি আপনার জীবনকে খুবই সহজ ভাবে হাসিখুশিতে কাটাতে পারবেন। উনি এটাও বলতেন যে, হাসি দুঃখের একটি ঔষধ। আর আপনাকে বাস্তবে হাসার জন্য দুঃখের সঙ্গে খেলতে জানতে হবে। কাউকে হাসানো কোনো সহজ কথা নয়। জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যদি মুখে সামান্য একটু হাসি থাকে, তাহলেও জীবনে অনেক শান্তি পাওয়া যায়। আর এই করোনা মহামারীর পরে আমরা প্রায় সকলেই হাসতে ভুলে গেছি। তাই দয়া করে একটু হাসবেন।
উপসংহার
আর যদি আপনিও চার্লি চ্যাপলিনের ফ্যান হয়ে থাকেন, তাহলে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। আর বাঙ্গালা কথা চ্যানেলে নতুন হলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন। এরকম ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে।
সর্বশেষে থ্যাঙ্কস ফর ওয়াচিং, স্টে হ্যাপি, স্টে কুল।
কীওয়ার্ডস: চার্লি চ্যাপলিন, চার্লি চ্যাপলিনের জীবন, কমেডিয়ান, দ্য গ্রেট ডিক্টেটর, নীরব চলচ্চিত্র, হলিউড কিংবদন্তী, চার্লি চ্যাপলিনের বায়োগ্রাফি, ব্রিটিশ অভিনেতা, কমেডির রাজা, চার্লি চ্যাপলিনের পরিবার, অস্কার বিজয়ী, মহাত্মা গান্ধী, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, মাইকেল জ্যাকসন, অনুপ্রেরণামূলক জীবন, দুঃখ ও সংগ্রাম, হাসির গুরুত্ব, শিল্প ও রাজনীতি, চার্লি চ্যাপলিনের শেষ জীবন।
