ঘূর্ণিঝড় যশ: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আসন্ন বিপদ, কতটা শক্তিশালী হবে?
বন্ধুরা, বর্তমানের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের সামনে ধেয়ে আসছে আরও একটি নতুন বিপদ। আমফানের মতন বিধ্বংসী ঝড় হবার এক বছরের মধ্যে আবারও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ মুখোমুখি হতে চলেছে আরও একটি ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে এবং বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে আছড়ে পড়তে চলেছে। বলতে গেলে এটি আমফানের মতন আরও একটি দুশ্চিন্তামূলক ঝড়। ঝড়টির নাম হলো যশ। কিন্তু এই ঝড় কোথা থেকে তৈরি হলো? এর গতিবেগ কত হবে? কোথায় কোথায় আছড়ে পড়বে এই ঝড়? কতটা ক্ষতি হবে এই ঝড়ের কারণে? এই বিষয়ে কী বলছে আবহাওয়া দপ্তর?
এইসব বিষয়ে সম্পূর্ণ জানব আজকের এই ভিডিওটিতে। তো চলুন, দেরি না করে শুরু করা যাক!
১. যশের উৎপত্তি ও গতিপথের পূর্বাভাস
আমফানের পর আরও একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল, বৈজ্ঞানিক ভাষায় যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'তাওতে' (Tauktae)। আর এরপর যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, তার নাম হলো যশ, যেটি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তা বেড়েছে আবহাওয়া দপ্তরে। আবহাওয়া দপ্তরের অধিকারীরা মনে করছেন যে, ২৩শে মে নাগাদ পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে, যেটা কিছুদিনের মধ্যেই নিজের শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন হিসাবে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। এবং মনে করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী তিনটি জেলাতে এই ঝড়ের প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
প্রথমে আবহাওয়া দপ্তরের অধিকারীরা মনে করেছিল যে, মায়ানমার লাগোয়া পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে হয়তো এই নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সেটি তৈরি হয়ে যাবে এবং সেটা ধীরে ধীরে নিজের যথেষ্ট শক্তি বাড়িয়ে ফেলবে। আবহাওয়া দপ্তরের অধিকারীরা মনে করছেন, মোটামুটি এটা শক্তি বাড়িয়ে ওড়িশা থেকে মায়ানমার অর্থাৎ ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং মায়ানমার - এই স্থানগুলির মধ্যে যেকোনো একটা জায়গায় এগিয়ে যাবে এই ঝড়।
২. যশের শক্তি বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি
এবার প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে যশ নিজের শক্তি বাড়াচ্ছে? আবহাওয়া দপ্তরের অধিকারীরা বলেছেন যে, ঝড় সমুদ্রের মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি করে তার শক্তি বাড়িয়ে চলেছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প, যেটা তাকে আরও বিধ্বংসী করে তুলেছে। এই ঝড়ের কারণে যে সমস্ত জায়গাগুলোর সব থেকে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো হলো ঝড়খালি, কাকদ্বীপ, ক্যানিং, পাথরপ্রতিমা, সন্দেশখালি, বকখালি। এই সমস্ত জায়গাগুলোর মধ্যে এই ঝড় প্রপার ল্যান্ডিং করতে পারে এবং মোটামুটি যত ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই স্থানগুলোতে।
কিন্তু আবহাওয়াবিদেরা যেটা বারবার বলছেন যে, অনেক সুপার সাইক্লোন তার শক্তি এবং গতি সমুদ্র পৃষ্ঠেই হারিয়ে ফেলে। অতএব, যতক্ষণ না পর্যন্ত এর ফরমেশন কমপ্লিট হচ্ছে এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত এই ঝড় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ক্রমশ জমির দিকে মানে ল্যান্ডের দিকে বা স্থলভাগের দিকে এই যশ এগিয়ে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর গতি পর্যবেক্ষণ না করে এর প্রপার ল্যান্ডফল (Landfall) এবং এর গতি নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
৩. বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের প্রভাব: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ
আবহাওয়াবিদেরা মনে করছেন যে, সোমবার কিংবা মঙ্গলবারের মধ্যে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত এবং কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টিপাত হবে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতাও, যেখানে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হবে। এবং ধীরে ধীরে এই শক্তি এবং গতি আরও বাড়তে শুরু করবে। আর সোমবার এবং মঙ্গলবার নাগাদ এর গতিবেগ বেড়ে গিয়ে ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার তৈরি হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অলরেডি অ্যালার্ট করে দেওয়া হয়েছে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে। আমফানের রেশ কাটতে না কাটতেই সরকার আবারও ঝড়ের সঙ্গে মোকাবিলা করবার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, রবিবার থেকে সমুদ্র উত্তাল হওয়া শুরু হয়ে যাবে। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সমুদ্র থেকে ফিরে আসে।
আপনারা এই ভিডিওটির মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ যেসব এলাকাগুলো রয়েছে, এই সকল জায়গাগুলোতে প্রবল বেগে ঝড় বৃষ্টি হওয়ার চিহ্ন:
ক্ষতি আর এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হবে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ অর্থাৎ যেরকমটা আমি আগেই বলেছি, সাগরদ্বীপ, নামখানা, গঙ্গাসাগর এবং হলদিয়াবাড়ির উপর দিয়েই আছড়ে পড়বে এই ঝড় এবং তারপর এই ঘূর্ণিঝড় প্রবল বেগে কলকাতার উপর আছড়ে পড়বে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহর, পার্শ্ববর্তী যতগুলো জেলা রয়েছে, যেমন উত্তর চব্বিশ পরগণা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, হুগলি - এই সমস্ত জেলাগুলোতে অতি প্রবল পরিমাণে ঝড়ো হাওয়া চলবে এবং প্রবল পরিমাণে বৃষ্টি হবে। ২৬ তারিখ মানে বুধবার যখন উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে ঝড় আছড়ে পড়বে, তখন বৃষ্টির পরিমাণ থাকবে ২২ মিলিমিটার এবং কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ থাকবে ২৩ থেকে ২৪ মিলিমিটার, মানে যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টিপাত এবং ঝড় হবে যখন ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে।
এবার দেখা যাক বাংলাদেশের কয়েকটি উপকূলবর্তী এলাকায় কী ঘটবে। ২৬ তারিখ মানে বুধবার যখন এই ঝড় উপকূলবর্তী এলাকাতে আছড়ে পড়বে, তখন বাংলাদেশের কক্সবাজার, বরিশাল, খুলনা, মহেশখালী - এই সমস্ত উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতেও প্রবল পরিমাণে বৃষ্টিপাত হবে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, কার্যত সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যাবে এবং মঙ্গলবার থেকে হালকা এবং মাঝারি পরিমাণে বৃষ্টি হবে এবং সেই দিন রাত থেকে প্রবল পরিমাণে ঝড় এবং বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে সেই সমস্ত উপকূলবর্তী এলাকাতে, যে সমস্ত এলাকার কথা আমি একটু আগেই বললাম। অন্যদিকে দেখতে পাচ্ছেন, ওড়িশার এই এলাকাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে চলেছে এবং এই অংশগুলো কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সুন্দরবন, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগণা - এই সমস্ত জেলাগুলোতে কিন্তু প্রবল পরিমাণে ঝড় বৃষ্টি হবে। আর যখন এই ঘূর্ণিঝড় হলদিয়াবাড়ি এলাকা থেকে কলকাতার দিকে আছড়ে পড়বে, তখন এর গতিবেগ হবে ১১০ থেকে ১১৪ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। উপকূলবর্তী যত এলাকা রয়েছে, সেই সমস্ত এলাকা থেকে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের উপর অর্থাৎ কলকাতা পার্শ্ববর্তী যে তিনটি জেলা রয়েছে, সেই সমস্ত এলাকাগুলোতে কিন্তু প্রবল পরিমাণে আছড়ে পড়বে। আর তখন এই ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ১০৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। অর্থাৎ আপনারা বুঝতেই পারছেন যে, প্রবল পরিমাণে এই ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে।
৪. যশের সম্ভাব্য শক্তি ও পূর্ব প্রস্তুতি
আবহাওয়াবিদদের সূত্র অনুযায়ী, যশের শক্তি হবে আমফানের মতনই। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ, আর সেটাই খুবই তীব্র গতিতে ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে। আবহাওয়া দপ্তর অধিকারীরা মনে করছিল যে, হয়তো এই ঘূর্ণিঝড় ওড়িশাকে বেশি আঘাত করতে পারে। কিন্তু পরে এই ঝড়ের গতির মুখ পরিবর্তন হয়ে হলদিয়াবাড়ির উপর থেকে না গিয়ে এটা দীঘা উপকূলের উপর থেকে এসে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়বে। অর্থাৎ যশের ল্যান্ডফল হতে চলেছে দীঘা এবং তারপরেই এটা ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গে যত এলাকা রয়েছে, সেখানে এটি আছড়ে পড়বে। দীঘা থেকে এই ঝড়ের দূরত্ব, আমি যখন ভিডিওটি বানাচ্ছি, তখন ৭০০ কিলোমিটার। আর এই ৭০০ কিলোমিটার এগোনোর সময় কিন্তু এই ঝড় দফায় দফায় নিজের গতিবেগ বাড়িয়ে চলবে।
এবার প্রশ্ন হলো, এই ঝড় কিভাবে নিজের শক্তি বাড়াবে? যেটা আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছে যে, রবিবারের মধ্যে এই নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে যাবে অর্থাৎ ডিপ্রেশনে পরিণত হয়ে যাবে। সোমবারের মধ্যে যেটা দু দফায় শক্তি বাড়িয়ে ফেলবে অর্থাৎ ডিপ ডিপ্রেশন মানে অতি গভীর নিম্নচাপ এবং তারপর ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু এর মধ্যে সবথেকে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার এটাই যে, এরপরের ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ মঙ্গলবারের ঘূর্ণিঝড় কিন্তু আরও দু দফায় শক্তি বাড়াবে, মানে খুবই কম সময়ের মধ্যে 'র্যাপিড ইন্টেনসিফিকেশন'-এর (Rapid Intensification) একটি ইঙ্গিত দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদেরা। অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যেই যশ তৈরি হবে অতি গভীর নিম্নচাপে এবং এরপরেও একটা সম্ভাবনা থাকবে যে, যশ আরও একদফা শক্তি বাড়াতে পারে নিজের এবং তারপরেই ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগিয়ে আসবে।
গত বছর আম্ফান যখন সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছিল, এই ঝড় সমুদ্রতে দুই দফা শক্তি কমিয়ে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের উপর আছড়ে পড়েছিল। কিন্তু তাতেই যে ধ্বংস হয়েছিল, সেটা আমরা প্রায় সবাই জানি। প্রায় ১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই ঝড়ের কারণে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল এই ঝড়ের কারণে। কিন্তু এইবার যশের কারণে কী হবে, সেটা তখনই জানা যাবে যখন এই নিম্নচাপ ডিপ্রেশনে পরিণত হবে। তারপরে ধীরে ধীরে সবকিছু ক্লিয়ার হবে। তার সঙ্গে এটাও জানা যাবে যে, যে শক্তির কথা আমি বারবার বলছি, সেই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নিয়েই কি যশ আছড়ে পড়বে নাকি আমফানের মতন ল্যান্ডফলের আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে? তার উপর কিন্তু ধ্বংসলীলা এবং আগামী দিনের দুর্যোগ নির্ভর করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের মার্চ, এপ্রিল, মে - এই তিনটি মাসকে বলা হয় 'প্রি-মনসুন মাস' (Pre-Monsoon Months)। এই সময়ে সাইক্লোন হওয়াটা নতুন কিছু বিষয় না, এটা বহু বছর ধরে চলে এসেছে। প্রতিবছর এই মে এবং জুন মাসের দিকে এই রকম একটা ঘূর্ণিঝড় হয়। আবার অক্টোবর-নভেম্বর মাসেও এরকম সাইক্লোন হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং টেম্পারেচার ওয়ার্মিংয়ের কারণে এই ঝড়ের গতিবেগ ও শক্তির ওপর অনেক প্রভাব পড়েছে। অর্থাৎ ঝড় হওয়াটা অতি স্বাভাবিক এবং যদি ঝড় হয়, সেটা আটকানোর মতো এখনো পর্যন্ত কোনো প্রযুক্তি বের হয়নি। যে কারণে আমাদের সবাইকে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। তাই সতর্ক থাকুন, ভালো থাকুন।
কীওয়ার্ডস: ঘূর্ণিঝড় যশ, সাইক্লোন যশ, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, আবহাওয়া দপ্তর, নিম্নচাপ, বঙ্গোপসাগর, আমফান, সুপার সাইক্লোন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়, বৃষ্টিপাত, উপকূলবর্তী এলাকা, পূর্বাভাস, প্রস্তুতি, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, দীঘা, সাগরদ্বীপ, হলদিয়াবাড়ি, কলকাতা, মৎস্যজীবী সতর্কতা।
