ইন্টারনেটের রহস্যময় জগৎ: ৫টি অবিশ্বাস্য ভিডিও যা আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে!
বন্ধুরা, আপনারা কি আমার মতো অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন? যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য! বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ৭৬৫ কোটি মানুষের মধ্যে ৪৭৫ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। প্রতিদিন প্রায় ৯ কোটি ছবি ইনস্টাগ্রামে আপলোড হয় এবং প্রায় ২৫ হাজার কোটি ইমেইল পাঠানো হয়, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটিই স্প্যাম! পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা হ্যাকাররা প্রতিদিন প্রায় ৮৫ হাজার ওয়েবসাইট হ্যাক করে। ইউটিউবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ ঘণ্টার ভিডিও আপলোড হয়। শুনতে অবাক লাগলেও, ইন্টারনেটের প্রায় ৫১ শতাংশ ট্রাফিকই ফেক হয়।
এগুলো ছাড়াও, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ফেক নিউজ ছড়িয়ে মানুষকে আন্দোলন করতে উস্কে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ধরনের দুষ্কৃতীমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য ইন্টারনেটকে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসব ছাড়াও ইন্টারনেটের একটা রহস্যময় দিক আছে, যে কারণে আজকের এই পোস্টে ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া কিছু রহস্যময় ভিডিও সম্পর্কে আলোচনা করব। তো চলুন, আজকের এই পোস্টটিকে শুরু করা যাক!
১. এলিশা ল্যাম রহস্য (Elisa Lam Mystery)
এই ঘটনাটি ঘটে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের সেসিল হোটেলে। একদিন হঠাৎ করে সেই হোটেলে যারা ছিল, তারা হোটেলের জল থেকে এক অদ্ভুত গন্ধ পায়। তার সঙ্গে সঙ্গে জলের রংটাও স্বচ্ছ মনে হচ্ছিল না। তাই তারা ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ করেন। ঘটনাটি ভালো করে দেখবার পর হোটেল ম্যানেজমেন্ট পুলিশকে ডাকা উচিত বলে মনে করে। কিন্তু তখনও পর্যন্ত কেউ ভাবেনি যে, পুলিশ জলের ট্যাংকের মধ্যে একটি মেয়ের মৃতদেহ পাবে। মেয়েটির নাম ছিল এলিশা ল্যাম।
সিসিটিভি ফুটেজটা দেখার পর এই রহস্যের সমাধান হয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ফুটেজ দেখবার পর রহস্যটা আরও গভীর হয়ে যায়। এই ভিডিওটা আপনি ইন্টারনেটে এর আগেও হয়তো দেখে থাকতে পারেন। এই ভিডিওটা দেখবার পর ইন্টারনেটে বিভিন্ন মানুষ এই মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ধারণা রেখেছেন। ভিডিওটা দেখে মনে হচ্ছে যেন মেয়েটি কারো কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করছে। মেয়েটিকে কি কেউ পিছন থেকে ফলো করছিল? এমন কেউ যে মেয়েটির ক্ষতি করতে চায়? এটা হতে পারে। কিন্তু ভিডিওটা আরও কিছুক্ষণ চলবার পর বোঝা যায় যে, এলিশা আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে মেয়েটি বারবার লিফট থেকে বাইরে-ভেতরে করছে। তারপর আশ্চর্যরকম ভাবে দেখা যায়, মেয়েটি নিজের হাত দিয়ে অদ্ভুত ধরনের একটি আচরণ করছে, যেন মনে হচ্ছে অদৃশ্য কারো সঙ্গে সে যেন কথা বলছে। তবে এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখবার পর কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না যে মেয়েটি কী করছিল। কিন্তু এই ভিডিওটা আর মেয়েটির মৃত্যু আমাদের সামনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন তুলে ধরে। আপনার কী মনে হয়, সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
২. সিসিটিভি ফুটেজ: অদ্ভুত প্রাণী (Strange Creature)
আমাদের হয়তো মনে হতে পারে যে, আমরা এই পৃথিবী সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি, কিন্তু যতটা আমরা জানি, পৃথিবী তার থেকেও বেশি রহস্যময়। এই পৃথিবীতে বা আমাদের আশেপাশে এমন কিছু প্রাণী থাকতে পারে, যাদের সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। ২০১৯ সালের ২রা জুন, ভিভিয়ান গোমেজ নামক একজন মহিলা যখন তার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেন, তখন ভিভিয়ান তার বাড়ির বাইরে এমন একটা প্রাণী দেখতে পায়, যেটা মোটেও সাধারণ ছিল না।
সিসিটিভি ফুটেজটা দেখে কোনোভাবেই মনে হচ্ছিল না যে, এটা একটা মানুষ। ভিডিওটিতে দেখানো প্রাণীটির হয়তো দুটি হাত এবং পা থাকতে পারে এবং দু'পায়ে মানুষের মতো হেঁটে যেতে পারে। তবে এই মিল ছাড়া মানুষের অন্য কোনো মিল ছিল না। দেখে অনেকটা হ্যারি পটারের 'ডবি'র মতো মনে হচ্ছিল। এই ভিডিও ফুটেজটিতে আপনি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন যে, রাত্রিবেলা একটা অদ্ভুত প্রাণী একটি 'ডিস্টার্বিং অ্যাক্টিভিটি' করতে করতে হেঁটে চলে যাচ্ছে। ভিভিয়ান গোমেজ প্রথমে মনে করেছিল যে, এটা হয়তো তার ৯ বছরের ছেলে ববি, যে নিজের মাথার উপরে হাফপ্যান্ট উল্টো করে পরে আছে। আর ভিডিও কিছুটা এইরকমই মনে হচ্ছিল। কিন্তু যখন ববিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, এটা কি তুমি ছিলে? তখন সে পরিষ্কারভাবে বলে দেয় যে, ওটা সে ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও মিস গোমেজ তার ৯ বছরের ছেলেকে একটা হাফপ্যান্ট উল্টো করে মাথার মধ্যে পরিয়ে রাতে ওই জায়গা থেকে হেঁটে যাওয়ার জন্য বলে। কিন্তু আশ্চর্যরকম ভাবে দেখা যায় যে, ছেলেটার সঙ্গে ওই প্রাণীটির হাঁটার কোনো মিল ছিল না। এটা দেখবার পর পরিষ্কার বোঝা যায় যে, এটা ববি ছিল না। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো যে, এটা আসলে কে ছিল? তবে এই ভিডিওটি অরিজিনাল কিনা, তা 'অদ্ভুত দশ' কোনোভাবেই পরীক্ষা করে দেখেনি।
৩. টিভি সিগন্যাল হাইজ্যাক (TV Signal Hijack)
আপনি কি জানেন যে, একটা টিভি সিগন্যালকে হাইজ্যাক করা কতটা কঠিন কাজ? যদিও আমার এই সম্পর্কে কোনো আইডিয়া নেই, কিন্তু এইটুকু তো সবাই জানে যে, এই কাজটা করবার জন্য অনেক ধরনের ইকুয়িপমেন্ট, প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ এবং একটা ইন্টেলিজেন্ট ব্রেনের দরকার।
১৯৮৭ সালের নভেম্বর মাসে, শিকাগোর WGN-TV-কে হ্যাকাররা হাইজ্যাক করে নিয়েছিল। ৯টা ১৫ মিনিটে WGN-TV-কে হ্যাকাররা প্রথমে হ্যাক করে। তারপর লাইভ প্রোগ্রাম চলতে চলতেই সেটাকে বন্ধ করে হ্যাকাররা নিজেদের একটি ভিডিও চালানো শুরু করে দেয়। এই ভিডিওটিতে আপনি যাকে দেখছেন, সে 'ম্যাক্স হেডরুম' নামের একজন কাল্পনিক ক্যারেক্টারের মাস্ক পরেছিল। তবে ইঞ্জিনিয়াররা মাত্র ২৮ সেকেন্ডের মধ্যেই তাদের সিগন্যালকে রিস্ট্যাবলিশ করে দেয়। এই কারণে হ্যাকাররা আরও একটা চ্যানেলকে হ্যাক করে, যেটা ছিল WTTW চ্যানেল।
WTTW চ্যানেল হ্যাক করার পর হ্যাকাররা প্রায় দেড় মিনিট পর্যন্ত তাদের ভিডিও চালিয়েছিল। এই ভিডিওটিতে এই হ্যাকারকে খুবই ভয়ঙ্কর টাইপের মনে হচ্ছিল। তবে আজ প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ বছর পরেও কেউ জানে না যে, এই হ্যাকার কে ছিল? কিন্তু যদি কেউ ধরা পড়ে যেত, তবে তাকে এক বছরের জেল এবং এক লাখ ডলারের ফাইন দিতে হতো।
৪. সিস্টারস (Sisters)
২০১১ সালের একটি গেমিং চ্যানেলে এক অদ্ভুত ধরনের ভিডিও আপলোড হয়। তবে কে এই ভিডিওটিকে আপলোড করেছিল? কেন এবং কিসের জন্য? সেটা আজও একটা রহস্যই হয়ে রয়েছে। ভিডিওটা শুরু হতেই কেমন যেন গা ছমছম করার মতো ভাইব আসতে থাকে, যেখানে একটা মেয়ে খুব অদ্ভুতভাবে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মুখে গা হিম করে দেওয়ার মতো একটা হাসি এবং তার চোখের পলক কোনোভাবেই পড়ছিল না। এসব দেখে সত্যিই একটা অদ্ভুত অনুভূতি হতে শুরু করে। তারপর ক্যামেরার কাছে আসার সাথে সাথেই সে নিজের মুখ থেকে তার মাস্কটা সরিয়ে দেয়। আর তখনই বুঝতে পারা যায় যে, এটা তার আসল মুখ ছিল না। এরপর ভিডিওটা কাট করার পর অন্য একটা সিনে মেয়েটি বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে থাকে।
খাবার পর মেয়েটি নিজের মুখ থেকে আরও একটা মাস্ক সরিয়ে দেয় এবং আমরা বুঝতে পারি যে, ওটাও মেয়েটির আসল মুখ ছিল না। আর ভিডিওটা এখানেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই ভিডিওটা বানানোর পেছনে কী কারণ ছিল? সেটা কেউ জানে না। শুধুমাত্র কি একটু অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য এরকম ধরনের ভিডিও বানিয়ে সেটাকে ইউটিউবে ছাড়া হয়েছিল? নাকি গভীর কোনো কারণ আছে এর পেছনে? আপনার কী মনে হয়? অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।
৫. টিভি ম্যান (TV Man)
আমাদের প্রত্যেকেরই সারপ্রাইজ খুব পছন্দ হয়। তার থেকে অনেক বেশি ভালো লাগে যখন আপনাকে কেউ খুশি করবার জন্য কোনো গিফট দেয়, আর তাও যদি সেটা সারপ্রাইজ হয়। তবে এরকম মানুষও এই পৃথিবীতে আছে, যারা অন্যকে সারপ্রাইজ দিতে অনেক বেশি পছন্দ করে। হয়তো এরকম ধরনের একটা মানুষ ছিল এই 'টিভি ম্যান'।
২০১৮ সালে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে যখন একটা লোক সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের দরজা খোলে, তখন সে দেখে তার দরজার বাইরে একটা টিভি রাখা আছে। পুরনো দিনের যে সিআরটি টিভিগুলো ছিল, সেরকমই ধরনের একটি টিভি। কেউ একজন রাত্রে বেলায় লুকিয়ে লুকিয়ে তার বাড়ির সামনে ওই টিভিটি রেখে গিয়েছিল। কিন্তু কেন? সেটার উত্তর কেউ জানে না। এই ব্যক্তি এই ঘটনার পরে অনেক খোঁজ খবর নেয় এবং জানবার চেষ্টা করে যে, তার প্রতিবেশীদের বাড়িতেও এরকম টিভি পাওয়া গেছে কিনা। অদ্ভুতভাবে তার একাধিক প্রতিবেশীর বাড়িতে এরকম ধরনের টিভি পাওয়া যায়। এই রহস্যময় ঘটনা দেখে তারা পুলিশকে এর ব্যাপারে কমপ্লেন করে এবং পুলিশ ইনভেস্টিগেশন করে।
পুলিশ তাদের সবার বাড়িতে বাইরে একটা করে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে চলে যায়। তারা আশা করেছিল যে, তারা এই মানুষটাকে ধরতে পারবে। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার পর পুলিশ সেই ব্যক্তির সম্পর্কে কিছুই জানতে পারে না। কারণ ওই ব্যক্তি নিজের মাথার মধ্যে একটা টিভি লাগিয়ে আসত এবং অন্য একটা টিভি বাড়ির বাইরে রেখে চলে যেত। এমনকি চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি সিসিটিভি ক্যামেরাকে হাত নেড়ে বলেও যেত! এটা দেখে মনে হয় যে, ব্যক্তিটি জানত যে বাড়ির বাইরে সিসিটিভি লাগানো আছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ জানে না যে, ওই ব্যক্তি ভালো ছিল না খারাপ। আর কেনই বা ওই ব্যক্তি সবাইকে টিভি গিফট করত? সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তি এতগুলো টিভি কোথা থেকে আনত? এসব প্রশ্নের উত্তর আজও কেউ জানে না।
উপসংহার
তো বন্ধুরা, আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। যদি ভালো লেগে থাকে, তবে লাইক করবেন, সাথে শেয়ার করবেন। আর যদি 'অদ্ভুত দশ' চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে প্রেস করে নেবেন, এরকমই ইন্টারেস্টিং ভিডিও সবার আগে দেখতে।
কীওয়ার্ডস: ইন্টারনেটের রহস্য, রহস্যময় ভিডিও, এলিশা ল্যাম, সেসিল হোটেল, অদ্ভুত প্রাণী, সিসিটিভি ফুটেজ, ম্যাক্স হেডরুম, টিভি সিগন্যাল হাইজ্যাক, সিস্টারস ভিডিও, টিভি ম্যান, ইন্টারনেট রহস্য, অদ্ভুত ঘটনা, অজানা ভিডিও, রহস্য সমাধান, সাইবার ক্রাইম, ইন্টারনেট ডেটা, ফেক নিউজ।
