মহাবিশ্বের রহস্য: বিগ ব্যাং, ডার্ক এনার্জি ও আমাদের অসীম ব্রহ্মাণ্ড!
হেই বন্ধুরা! আজ থেকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাংয়ের কারণে তৈরি হয়েছিল এক মহাবিশ্ব, আর আজ আমরা এই মহাবিশ্বের একদম মাঝামাঝি আটকে রয়েছি। মানে অনেকটা মাঝ সমুদ্রে জাহাজ আটকে থাকার মতো। আমরা এখন ভিডিওতে মহাবিশ্বের যে প্রান্ত দেখতে পাচ্ছি, এটা কি সমুদ্রের মতো একদম দিগন্ত (Horizon), নাকি এটা মহাবিশ্বের সত্যিই প্রান্ত? মানে এরপরে মহাবিশ্ব শেষ? আর যদি এটা মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তই হয়, তাহলে এই প্রান্তে এমন কী রয়েছে? আজকের এই ভিডিওটিতে আমরা এই প্রশ্নেরই উত্তর জানব।
তো চলুন, শুরু করা যাক!
১. মহাবিশ্বের কি সত্যিই কোনো প্রান্ত আছে?
সবার প্রথমে আপনি বলুন যে, আপনার কী মনে হয়, আমাদের মহাবিশ্বের কি সত্যি সত্যি প্রান্ত রয়েছে? একটা পুরনো কথা আছে যে, সব জিনিসেরই শেষ আছে। কিন্তু টেকনিক্যালি হয়তো এই কথাটা মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে ঠিক মতন মেলে না। কারণ মহাবিশ্বের মানে যদি আমরা এটা ভেবে থাকি যে, যে সমস্ত জিনিস এক্সিস্ট করে, সেটাই আমাদের মহাবিশ্ব, তাহলে সেটার দ্বিতীয় মানে এটাও দাঁড়ায় যে, এর বাইরে কিছুই এক্সিস্ট করে না। অর্থাৎ যা রয়েছে, সবই আমাদের মহাবিশ্বের ভেতরেই রয়েছে। মানে আমি এটা বলতে চাইছি যে, একবার ভেবে দেখুন, আমাদের এই ধারণা তৈরি হল কিভাবে যে, মহাবিশ্বেরও একটা প্রান্ত থাকা উচিত?
এর উত্তর হলো আমাদের কমন সেন্স। যদি আমাদের মহাবিশ্ব ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি বিগ ব্যাংয়ের কারণে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে আজ ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পরে এই মহাবিশ্ব একটি নির্দিষ্ট ডিসটেন্স পর্যন্তই এক্সপ্যান্ড (Expand) হতে পেরেছে। কিন্তু আপনাদের এটা জানিয়ে রাখা ভালো, আমাদের এইরকম চিন্তাভাবনা করাটা একদমই ভুল।
২. আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা ও হাবলের পর্যবেক্ষণ
১৯১৫ সালে যখন বার্লিনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখন ওই সিচুয়েশনেও আলবার্ট আইনস্টাইন একটি যুগান্তকারী থিওরি বিশ্বের সামনে পেশ করেছিলেন, যেটার নাম ছিল তার জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি (General Theory of Relativity)। এই থিওরিটি পুরো মহাবিশ্বে অ্যাপ্লাই হয়। আর এখানে আইনস্টাইনের মতামত যথেষ্ট সহজ ছিল। যদি পৃথিবীর ভর (Mass) থেকে গ্রাভিটি (Gravity) তৈরি হয়, আর গ্রাভিটি মোশনকে জন্ম দেয়, তাহলে এতো কিছু ভারী অবজেক্ট দিয়ে পরিপূর্ণ মহাবিশ্বে কোথাও না কোথাও কিছু না কিছু ঘটেছে। আর এটাকেই বলে হয় এক্সপ্যানশন (Expansion) অথবা কন্ট্রাকশন (Contraction)। আর এখানে কেবলমাত্র একটাই প্রশ্ন ছিল - সেটা কী?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় ১৩ বছর পর ১৯২৯ সালে, যখন আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমার এডুইন হাবল (Edwin Hubble) দেখেন, অনেকগুলো গ্যালাক্সি (Galaxy) একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে গভীর অন্ধকার সমুদ্রের মধ্যে। মানে একটা গ্যালাক্সির সঙ্গে আরেকটা গ্যালাক্সির ডিসটেন্স ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। আর যদি একটু ভালো করে দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, এখানেই আসল প্রবলেমটা রয়েছে। কারণ এই অবজারভেশন দেখে সাধারণ মানুষরা এটা মনে করেন যে, যদি দুটি গ্যালাক্সির টুকরো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তাহলে এর মানে অতীতে এমন কোনো না কোনো ঘটনা নিশ্চয়ই ঘটেছে, যেটার ফোর্সের কারণেই এই এক্সপ্যানশন ঘটছে। প্রথমত মনে করা হয়, ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে যে বিগ ব্যাং হয়েছিল, সেই কারণেই এই এক্সপ্যানশন ঘটে চলেছে।
৩. বিগ ব্যাং তত্ত্বের বিকল্প: ডার্ক এনার্জি ও কসমোলজিক্যাল প্রিন্সিপাল
কিন্তু আজকের সময়ে এমনও দুটো থিওরি আমাদের সামনে এসেছে, যেটা বিগ ব্যাংকে সম্পূর্ণরূপে নিগেট করে দেয়।
নাম্বার ওয়ান: মহাবিশ্বের এই এক্সপ্যান্ডের জন্য ডার্ক এনার্জি (Dark Energy) রিপালসিভ ফোর্স (Repulsive Force) দায়ী।
নাম্বার টু: কসমোলজিক্যাল প্রিন্সিপাল (Cosmological Principle), যেটা এটা বলে যে, মহাবিশ্ব প্রতি দিশায় সমান ভাগে ভাগ হয়ে রয়েছে।
এবার আপনি যদি বলেন যে, একটি ইনভিজিবল ডার্ক এনার্জি তারা এবং গ্যালাক্সিকে একে অপরের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তবে এই সিচুয়েশনে বিগ ব্যাংয়ের বিস্ফোরণ থিওরির কোনো দরকারই নেই। কিন্তু এরপরেও যদি আপনি বিশ্বাস করেন বিগ ব্যাং হয়েছিল, তাহলে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (Cosmic Microwave Background Radiation - CMB) ছবিতে মহাবিশ্বকে চারিদিক থেকে সমান ভাগে ভাগ করা অবস্থায় দেখতে কেন পাওয়া যায়?
জানি এটা বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। তাহলে আসুন এটাকে একটু সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যাক। ধরে নিন আপনার ঠিক পেছনে বিগ ব্যাংয়ের ব্লাস্ট হয়েছিল। আর এর কারণে আপনি সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে ব্লাস্টের তীব্র আলো আপনার পেছনের সাইট থেকে শুরু করে আপনার সামনের সাইটটিকেও কেন আলোকিত করছে? তাহলে কি পেছনে সামনের দিকে চোখ ঘোরানোর জন্য এই তীব্র আলোর একটা হালকা প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে? তার উপরে এই কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন যদি আমাদের মহাবিশ্বের শুরুর দিকের হিটকে রিপ্রেজেন্ট করে, তাহলে এতো দ্রুত গতিতে এক্সপ্যান্ড হওয়া আমাদের মহাবিশ্বে এই হিট এনার্জি এত দ্রুত গতিতে ডিস্ট্রিবিউট হলো কিভাবে? এতদিনে এই হিট শেষ হয়ে গেল না কেন? আসলে এই প্রশ্নের উত্তর হতে পারে যে, আমাদের অতীতকালে একটা নয়, বরং একাধিক বিগ ব্যাং হয়েছে এবং সেই কারণেই এই হিট এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি। এবার এটা কতটা সত্য, আবার কতটা মিথ্যে, এটা বোঝা আমাদের কাছে অনেকটা ব্ল্যাক হোলকে বোঝার মতন।
৪. ব্ল্যাক হোল ও বিগ ব্যাং: স্টিফেন হকিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি
স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) বলেছিলেন যে, ব্ল্যাক হোল এক্সিস্ট করে, আর এটা তিনি মহাকাশ থেকে আসা রেডিও ওয়েভকে দেখে প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু সেটার ভেতরে কী আছে, কতটা পরিমাণে ভর আছে এবং এর অরজিনাল নেচার কী, এই সবকিছুই কেবলমাত্র থিওরিটিক্যাল ভাবে প্রুফ রয়েছে। থিওরিটিক্যাল প্রুফ অনুযায়ী সেটা প্র্যাক্টিক্যালি একই নেচারের, এটা কিন্তু আমরা জানি না।
অন্যদিকে বিগ ব্যাংয়ের কথা যদি বলি, তাহলে স্টিফেন হকিং কেবলমাত্র এর থিওরিটিক্যাল তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এই থিওরি কী বেসিসে দিয়েছেন? এবং ওনার এটা কেন মনে হয়েছে যে, মহাবিশ্বের শুরু বিগ ব্যাংয়ের কারণেই হয়েছে? এ ব্যাপারে আলাদা একটি ভিডিও হতে পারে। আর আপনারা যদি সত্যি সত্যি এই বিষয়ে জানতে চান, তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত একটা আলাদা ভিডিও নিয়ে আসব।
৫. মহাবিশ্বের অসীমতা ও ফ্ল্যাট আকৃতি
যাই হোক, আমার মতে এই সমস্ত প্রশ্ন একটি দিকে ইশারা করছে। আর সেটা হলো, আমাদের মহাবিশ্ব একটি নয়, বরং একাধিক বিগ ব্যাংয়ের কারণে হয়েছে। নয়তো আমাদের মহাবিশ্ব কোনো বিগ ব্যাংয়ের কারণে হয়নি। আর এর অর্থ এটাই দাঁড়ায়, আমাদের মহাবিশ্বের কোনো প্রান্ত নেই। কারণ সিএমবির ছবি মানে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবির মতে, এটা তো প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে, আমাদের মহাবিশ্বের আকৃতি ফ্ল্যাট (Flat)। আর আপনারা কিছুক্ষণ আগেই জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্ব খুবই দ্রুত গতিতে, মানে আলোর গতির থেকেও বেশি গতিতে এক্সপ্যান্ড হচ্ছে। তাও আবার নিজের ডেনসিটি (Density) এবং ডিস্ট্রিবিউশনকে (Distribution) কোনো রকম কম্প্রোমাইজ না করেই।
এর মানে খুব সহজ। মানে আপনি ধরে নিন আপনার হাতে এক হাজার টাকার একটি নোটের বান্ডিল রয়েছে। এবার যখন আপনি ওই নোটগুলোকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছেন, তখন কোনো না কোনো ভাবে ওই নোটের মাঝখানের গ্যাপে আরও কয়েকটি এক হাজার টাকার নোট প্রকট হয়ে যাচ্ছে। মানে এর ডেনসিটি কনস্ট্যান্ট পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সহজ ভাষায়, আমাদের মহাবিশ্বের কোনো শেষ নেই। আপনি এই মহাবিশ্বের যতটা দূরে ইচ্ছা চলে যান, তবুও আপনি এই মহাবিশ্বের একদম প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না।
৬. মহাবিশ্বের আকৃতি: ডিম্বাকৃতি নাকি ফ্ল্যাট?
কিন্তু এখানেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা যখন ইন্ডিয়া থেকে আমেরিকাতে ট্র্যাভেল করি, তখন আমরা টেকনিক্যালি পৃথিবীর দ্বিতীয় দিকে পৌঁছাই, তাও আবার পৃথিবীর কার্ভকে (Curve) অনুভব না করেই। তাহলে কি আমাদের মহাবিশ্বও পৃথিবীর মতো ডিম্বাকৃতি (Spherical) হতে পারে? আর আমরা কি মহাবিশ্বকে খুব তাড়াতাড়ি ফ্ল্যাট বলে মনে করছি? আসলে একবার ভেবে দেখুন, ৬ মিলিয়ন বছর পৃথিবীতে থাকার পরেও আমরা পৃথিবীকে অনেকটা সময় ধরেই ফ্ল্যাট বলে মনে করেছি। কারণ পৃথিবীর সাইজ মানুষের তুলনায় এতটাই বিশাল যে, আমরা বিভীষিকার মধ্যে পড়ে যাই। তাহলে আমাদের পৃথিবীর থেকেও কয়েকগুণ বেশি বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের ক্ষেত্রে এটা কেন পসিবল হতে পারে না? আসলে এটা যথেষ্ট ভাববার বিষয়।
কিন্তু এরপরেও যদি আপনারা এটা ভেবে থাকেন, আমাদের মহাবিশ্ব ফ্ল্যাট নয়, বরং ডিম্বাকৃতি, তাহলে এর মধ্যে প্রান্ত (Edge) এক্সপ্যান্ড করার বোকামি হবে। কারণ যদি একটি ডিম্বাকৃতি সারফেসের মহাবিশ্ব এক্সপ্যান্ড হতে থাকে, তাহলে কিছু সময় পরেই সেই মহাবিশ্বের সব প্রান্ত পুরো ৩৬০ ডিগ্রি বিবর্তন হয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাবে। এর ফলে আপনারা সমস্ত কিছুই একটা কসমিক হরাইজানের মতো দেখতে পাবেন, যেমনটা আপনারা সমুদ্রে দেখতে পান। কিন্তু এই হরাইজন কি ওই সমুদ্রের প্রান্ত হয়? আপনি যদি ওই হরাইজনের সামনে দিয়ে এগিয়ে যান, তাহলে ওই হরাইজনও আরও সামনের দিকে এগিয়ে যায়, যতক্ষণ না আপনি সেই জায়গায় পৌঁছে যান যেই জায়গা দিয়ে আপনি শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই শুরু কোথা থেকে হয়েছিল, এটা যথেষ্ট একটা কমপ্লিকেটেড প্রশ্ন। স্পেশালি যখন এই 'শুরু' শব্দটা আমাদের মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে আসে।
৭. আইনস্টাইনের কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট ও ডার্ক এনার্জি
মানুষ এই সম্বন্ধে জানবার জন্য এই রিলেটেড যেকোনো কিছু চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে রাজি হয়ে যায়। আর আমি বিজ্ঞানীদের কথা কেন বলছি? কারণ বিজ্ঞানীরা বাধ্যতামূলকভাবে এগুলো মানে। কারণ বিজ্ঞানীরা যদি এটা না মানে, তাহলে তাদের মহাবিশ্ব সম্বন্ধিত নতুন থিওরিকে সবার সামনে পেশ করতে হবে অথবা এই সম্বন্ধিত কোনো জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তাদেরকে। আর এই জটিল প্রশ্নগুলোর সামনে বড় বড় সব বিজ্ঞানীরাও হার মেনে যায়। আর এরকম জটিল প্রশ্নের মধ্যে একটি হলো বিগ ব্যাংয়ের আগে আসলে কী ছিল?
১৯১৭ সালে আইনস্টাইন নিজের জেনারেল রিলেটিভিটির ফিল্ড ইকুয়েশনকে ফর্মুলেট করবার সময় সেটার গ্র্যাভিটিকে কাউন্টার ব্যালেন্স করবার জন্য একটি ফিজিক্যাল কনস্ট্যান্ট তৈরি করেছিল, যেটার নাম তিনি দিয়েছিলেন কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট (Cosmological Constant)। এটা তিনি এই কারণেই যুক্ত করেছিলেন, কারণ সেই সময় পর্যন্ত সবাই এটাই মানত যে, মহাবিশ্ব মুভ করে না। আর এই স্ট্যাটিক মহাবিশ্বকে জাস্টিফাই করবার জন্য গ্র্যাভিটিকেও কাউন্টার করবার জন্য কাউকে চাই।
কিন্তু এরপরে বিজ্ঞানী হাবলের এক্সপেন্ডিং মহাবিশ্বের ডিসকভারি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯৩১ সালে আইনস্টাইন নিজের এই কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টকে নিজেই বাদ দিয়ে দেন, যাতে এই মহাবিশ্বের নিউলি ডিসকভার্ড মোশনের উপর ওনার কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট ব্রেক না দেয়। এরপরে কয়েক দশক ধরে সবকিছু একদম সঠিকই ছিল। কারোরই ব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে রিসার্চ করবার জন্য কোনো রকম প্রবলেম হচ্ছিল না। কিন্তু তখনই হঠাৎ করে ১৯৯৮ সালে একটা নতুন খোঁজ সবার সামনে আসে, আর সেটা হলো যে, মহাবিশ্ব কেবলমাত্র এক্সপ্যান্ডই হচ্ছে না, বরং তার সঙ্গে সঙ্গে এক্সপ্যান্ড হবার গতি দ্রুত হয়ে যাচ্ছে, মানে অ্যাকসেলারেটিং (Accelerating)। তবে এর মানে ব্রহ্মাণ্ডে কিছু তো আছে, যেটা গ্র্যাভিটির বিপক্ষে কাজ করে। আর সেটা বিপুল পরিমাণে রয়েছে। আর আপনারা কি জানেন সেটা কী? আর সেটা হলো ডার্ক এনার্জি (Dark Energy)। যেটাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ভ্যাকুয়াম এনার্জিও (Vacuum Energy) বলা হয়ে থাকে। মানে শুরু থেকেই অ্যালবার্ট আইনস্টাইন সঠিক ছিলেন। ব্রহ্মাণ্ডে কিছু তো এমন রয়েছে, যেটা গ্র্যাভিটির বিপক্ষে কাজ করছে। কিন্তু আইনস্টাইনের ধারণার বিপরীত, ওটার ভ্যালু জিরো অথবা গ্র্যাভিটির ভ্যালুর থেকে বেশি।
কিন্তু আইনস্টাইনের এই থিওরি কি আপনাদের অর্ধেক মনে হচ্ছে না? মানে এই ভ্যাকুয়াম এনার্জি কেবলমাত্র কি এই থিওরিকে প্রুফ করবার জন্য? এর কোনো রকম সিগনিফিকেন্স তো থাকা উচিত, তাই না? আসলে এই ধরনের বিভিন্ন প্রশ্ন বহু অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্টরা করতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট প্রফেসর ইব্রাহিম লোক এই প্রশ্ন করেছিল যে, মহাবিশ্বের শুরু বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে কেন হওয়া উচিত, বিগ বাউন্সের (Big Bounce) মাধ্যমে নয় কেন? যদিও ওনার এই প্রশ্নতে যথেষ্ট যুক্তি ছিল। মানে আপনারা নিজেরাই একটু ভেবে দেখুন, প্রথমত আমরা সবাই মহাবিশ্বের সিলিন্ডার ছবি দেখি, কিন্তু সেটা প্রবাবলি সঠিক নয়। কিন্তু এই ছবির আধারে ১৩.৭৭ বিলিয়ন বছরের আপনি এক্সপ্যান্ডকে রিজাইন করে সিঙ্গুলারিটি (Singularity) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না। আপনার অনেক বেশি সময় লাগবে সিঙ্গুলারিটি পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য।
আর দ্বিতীয়ত, যেমনটা আমরা এতক্ষণ দেখলাম, মহাবিশ্বের সিএমবি ইমেজ প্রতিটা দিশায় সমান ভাগে ভাগ অবস্থায় দেখা যায়, কিন্তু এর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি কোথা থেকে চলে আসলো? এর কোনো রকম আইডিয়াই নেই। মানে বিগ ব্যাং থিওরিতে এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যেগুলো ইগনোর করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই আমাদেরকে অন্যান্য অল্টারনেটিভ থিওরিকেও দেখতে হবে, যেমন বিগ বাউন্স (Big Bounce)। এই থিওরি অনুসারে হয়তো আমাদের মহাবিশ্ব একটা বিশাল বড় ভ্যাকুয়াম এনার্জি দ্বারা ভর্তি স্ফেরিক্যাল সোর্স বা হাইপার স্পেসের (Hyperspace) অংশ, যেখানে বাইরের দিকে পুল করা ভ্যাকুয়াম এনার্জি সারফেসে অগুনতি বাবেলস বানিয়ে দিয়েছে। মহাবিশ্বের এই মহাবিশ্বের কিছু ভ্যাকুয়াম এনার্জি পুশ করতে করতে ঠাণ্ডা হয়ে যায়, আর অন্যান্য বাকি ভ্যাকুয়াম এনার্জি ওই বাবেলসগুলোকে বাইরের দিকে এক্সপ্যান্ড করে যেতে থাকে। আর ফাইনালি যখন কোনো মহাবিশ্ব অত্যাধিক বেশি ফুলে যায়, তখন অবশেষে সেটার দুটো অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। তারপর সেটি পুনরায় কুঁচকে গিয়ে নিজের মধ্যেই বাউন্স হয়ে যায় ফ্রান্সের মতো। নয়তো সেটি সম্পূর্ণরূপে ফেটে যায় বিগ রিপের (Big Rip) মতো।
কিন্তু এই ভ্যাকুয়াম এনার্জির একটি প্রবলেম রয়েছে। এটি যেকোনো রকম মহাবিশ্বে কনস্ট্যান্ট থাকে, যেমনটা আমরা আগেই দেখেছি। তবে এক্সপ্যান্ড হতে থাকা মহাবিশ্বে লিমিটেড অনুযায়ী ভ্যাকুয়াম এনার্জি বা ডার্ক এনার্জি সব সময়ের জন্য কেমন ভাবে পুশ করে যেতে পারে? মানে কখনো না কখনো তো এনার্জি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, তাই না? যেমন নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট গ্যাস কোনো ছোট কন্টেনারে প্রেসার ক্রিয়েট করতে পারলেও, সেই সমপরিমাণ গ্যাস কিন্তু বড় কন্টেনারে প্রেসার ক্রিয়েট করতে পারবে না। আর ঠিক এমন ভাবেই মহাবিশ্বের এক্সপ্যান্ড হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মহাবিশ্ব থেকে ডার্ক এনার্জি পুশিং ফোর্সও কমজোরি হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এরপরেও কেন ডার্ক এনার্জি সময়ের সাথে সাথে আরও দ্রুত গতিতে এক্সপ্যান্ড হয়ে যাচ্ছে? আসলে এর কারণ কী? এর উত্তর যদি আপনারা জেনে থাকেন, তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে আমাকে জানাবেন।
উপসংহার
সর্বশেষে, থ্যাঙ্কস ফর রিডিং, স্টে হ্যাপি, স্টে কুল।
কীওয়ার্ডস: মহাবিশ্ব, বিগ ব্যাং, ডার্ক এনার্জি, কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট, এডুইন হাবল, আলবার্ট আইনস্টাইন, জেনারেল রিলেটিভিটি, কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন, ব্ল্যাক হোল, বিগ বাউন্স, ভ্যাকুয়াম এনার্জি, মহাবিশ্বের প্রান্ত, মহাবিশ্বের আকৃতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য, সম্প্রসারণ, সংকোচন।
